হাইমচর প্রতিনিধি
রাতে বউ-শ্বাশুড়ির ঝগড়ার একপর্যায়ে হতভাগা পুত্র মাকে বলে ফেললেন ‘আপনি বিষ খেয়ে মরে গেলে ঝগড়া থামবে! নয়তোবা এ ঝগড়া আর থামবে না।’
সত্যি সত্যি পুত্র সকালে বাড়ি ফিরে এসে দেখেন লাশ হয়ে পড়ে আছেন মা।
মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) রাতে হাইমচর উপজেলার ৫নং হাইমচর ইউনিয়নের চরকোড়ালিয়ার কিতাব আলি সরকার কান্দিতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আমেনা বেগম উপজেলার হাইমচর ইউনিয়নের মৃত রেজ্জাক মোল্লার স্ত্রী ৬৫ বছরের বৃদ্ধা আমেনা বেগম। তাঁর এমন মৃত্যুর সংবাদে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১৯ এপ্রিল) সকালে মৃত্যুর সংবাদটি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে জানালে পরে হাইমচর থানায় সংবাদ দিলে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
এলাকা সূত্রে জানা যায় নিহত আমেনা বেগমের পুত্র মো. দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী শেফালি বেগমের সাথে দীর্ঘ দিন যাবত সাংসারিক কলহ বিরাজ করছিল।
সংসারের ঝগড়া ও কলহের তিক্ত হয়ে দেলোয়ার মা ও স্ত্রীর সাথে অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে চলে যান।
ঘটনার একদিন পূর্বে বাড়ি ফিরে এসে পুত্র দেলোয়ার রাতে ঝগড়ার একপর্যায়ে মাকে বলেন ‘আপনি বিষ খেয়ে মরে গেলে ঝগড়া থামবে নয়তোবা এ ঝগড়া আর থামবে না।’ ওই রাতেই দেলোয়ার পুণরায় বাড়ি ছেড়ে চলে যায়।
রাত পোহাতেই ভোর বেলা দেলোয়ার মায়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে বাড়ি ফিরে আসে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার ও তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় খবর দেয়।
এব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত সরকার জানান, ‘ভোর বেলা আমেনা বেগমের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে তাদের বাড়ি গিয়ে দেখি তাকে কম্বল গায়ে দিয়ে ডেকে রেখেছে। শেফালিকে জিজ্ঞাসা করলে সে বলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এমন সন্দেহে আমি শেফালিকে আটক করে রেখে থানায় খবর দেই।’
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন ‘তাকে শ্বাসরোধ রোধ করে হত্যা করা হয়েছে।’
পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে।
