
হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২টি ওয়ার্ড রাজনৈতিক ভাবে এবং ভোটের অংকতে ৯০ ভাগ বিএনপির এলাকা হিসেবে পরিচিত। আওয়ামীলীগ বিরোধী যে কোন আন্দোলন সংগ্রামসহ কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য এ দুটি ওয়ার্ডেই যথেষ্ট। আবার যে কোন নির্বাচনে ভোটের অংক মিলাতে হলে এ দু ওয়ার্ডকে গুরুত্ব দিয়েই হিসাব করতে হবে। যার কারণে সকল প্রার্থীর দৃষ্টি এ দুটি ওয়ার্ডের দিকে।
এ এলাকায় এতো বিএনপির হওয়ার পেছনে রয়েছে টোরাগড় মুন্সী বাড়ীর ও হাজীগঞ্জের গর্ব খান সাহেব জুনাব আলী মুন্সীর ছোট ছেলে এম এ মতিন। যিনি একজন শিক্ষক থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য পর্যন্ত হয়েছেন। তাও একবার না বহুবার। হয়েছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও। শুরু থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিজের বাবার সম্পদ বিক্রি করে রাজনীতি করে গেছেন। কখনো দুর্নীতি সর্ম্প করতে পারেনি এম এ মতিনকে। হাজীগঞ্জ পৌর ভবন যে জায়গায় দাড়িয়ে আছে সে জায়গাও তার বাবার নামে ছিল( জুনাব আলী মাঠ)। তা পৌর ভবনের জন্য দান করে গেছেন এম এ মতিন। যার জনপ্রিয়তা জেলার এখননো এমন কোন ব্যক্তি জন্ম হয়নি। সবার প্রিয় এম এ মতিনের কারণেই এই এলাকার মানুষ বিএনপির রাজনীতি করেন। তাদের নেতার বাহিরে তাদের কারো কোন কথা থাকে না। নেতা যে সিদ্ধান্ত নিতেন সবাই মেনে নিতেন। তার মৃত্যুর পর ঐ দুটি গ্রামে নেতা শূণ্যতা সৃষ্টি হয়েছে। তার এ সূণ্যতা পুরুন হবার নয় । হাজীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন নিয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনায় গ্রামবাসী উপরোক্ত কথা গুলো বলেন। তারা আরো বলেন আমাদের গ্রাম কে বাদ দিয়ে কেউ রাজনীতি করতে চাইলে রাজনীতি শুদ্ধ হবে না। আবার ভোটের রাজনীতিতে আমাদেরকে বাদ দেওয়া হলে তাও ঠিক হবে না। উভয় ক্ষেত্রে আমরা এগিয়ে।
কাউন্সিলর প্রার্থী ও সাবেক মোঃ নজরুল ইসলাম অভি
হাজীগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর প্রার্থী এবং সাবেক কাউন্সিলর ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ি মোঃ নজরুল ইসলাম অভি বলেন আমি যখন কাউন্সলর হয়েছি তখন আমার ওয়ার্ডের মধ্যে তেমন কোন রাস্তা ঘাটসহ কোন উন্নয়ন হয়নি। আমি এ ওয়ার্ডের সকল কিছু উন্নয়নের জন্য একটি মাষ্টার ম্যাপ তৈরি করি। ঐ ম্যাপ অনুযায়ী বিচ্ছিন্ন এলাকাকে যাতায়াতের জন্য রাস্তা তৈরি, জলাবদ্ধতা দুর করার জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি, গ্রামের মুল সড়কের রাস্তা গুলোতে প্রসস্থ করে নতুন করে তৈরি করা, প্রতিটি বাড়ির পাকা রাস্তা তৈরি করা, প্রতিটি বাড়ীর সকল শ্রেনীর মানুষের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করা, স্কুল-কলেজে পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রীদের সহযোগিতা করা ও খোজ-খবর রাখা,বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, স্বামী পরিত্যাক্ত ভাতাসহ সকল সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অল্প সময়ে মধ্যে সকল কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। তার পরেও প্রায় ৭০ ভাগ কাজ শেষ করেছি। কিন্তু আমার পরে যারা কাউন্সিল হয়েছেন তারা এলাকার মানুষের কল্যানে কোন কাজ করেন নি। শুধু মাত্র পৌরসভার মেয়র মাহবুব উল আলম লিপনের আন্তরিকতার কারণে ৭ নং ওয়ার্ডে উন্নয়ন মুলক কাজ হয়েছে। তাই এলাকার মানুষ বর্তমান কাউন্সিলরের পরিবর্তে আবারও আমাকে কাউন্সিলর বা তাদের প্রতিনিধি হওয়ার জন্য প্রস্তাব দেওয়াা হয়েছে। এলাকার মানুষ আসহায় হয়ে পড়েছে। তাই তাদের অনুরোধে আমি আবারো এ ৭ নংওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী ঘোষনা করেছি। ইতিমধ্যে আমি প্রতিটি বাড়ীর মানুষের সাথে দেখা করেছি এবং তাদের মনের ভাষা বুঝেছি। তারা আবারো আমাকে কাউন্সিলর হিসেবে পেতে চায়। আগামী নির্বাচনে আমাকে ওয়ার্ডবাসী ভোট দিয়ে কাউন্সিলর বানাবে। এটা আমি শতভাগ বিশ্বাস করি। কারণ এলাকার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত করতে হলে আমাকে এলাকাবাসী চায়।
কাউন্সিলর প্রার্থী কাজী মনির
হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের কৃতি সন্তান,বিশিষ্ট ব্যবসায়ি ও সমাজ সেবক কাউন্সিলর প্রার্থী কাজী মনির বলেন আমি বহু বছর যাবত সামাজিক ভাবে মানুষের সাথে জড়িত রয়েছি। এলাকার মানুষের সেবার জন্য ২৪ ঘন্টা কাজ করে যাচ্ছি। এলাকার মানুষ আমার দ্বারা আরো সেবা পেতে আমাকে কাউন্সিলর হওয়ার জন্য প্রস্তাব করে আসছেন এবং উৎসহ দিয়ে আসছেন। তাদের উৎসাহে আমি উৎসাহিত হয়ে ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী ঘোষনা করি। তিনি বলেন এলাকার মানুষ পুরোপরি ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত। এ ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আমার কাজ করাই আমার লক্ষ আর জনপ্রতিনিধি না হলে এলাকর মানুষকে শতভাগ সেবা দেওয়া বা ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। আশা করি এলাকার মানুষের ভোটে কাউন্সিল নির্বাচিত হলে সকল অন্যায় দুর করে এলাকায় ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠাসহ সকল অন্যায় দুর করা হবে। মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা হবে প্রসংশনীয়। পৌরসভার মেয়র আসম মাহবুব উল আলমের আন্তরিকতায় ৭নং ওয়ার্ডে অসম্ভবকে সম্ভব করে কয়েকটি বাড়ীর রাস্তা করেছেন। এ ওয়ার্ডে যে পরিমান উন্নয়ন হয়েছে তা মেয়র মাহবুব উল আলমের কারণে হয়েছে। কিন্তু কাউন্সিলর এ একার মানুষের মনজয় করতে পারেনি। দিতে পারেন নি নিরাপত্তাসহ কোন কিছু। সরকারের সুবিধা বিতরণ করেছেন নিজের মানুষের মধ্যে। প্রতিটি বাড়ীর মানুষের মধ্যে কষ্ট আছে।
কাজী মনির বলেন উন্নয়ন, শান্তি ও সকল সুবিধা সমবন্টনের জন্য এলাকার মানুষ পরিবর্তণ চায়। সে পরিবর্তনের অংশ হিসেব ৭নং ওয়ার্ডবাসী আমাকে বেচে নিয়েছে। আমি কাউন্সিলর হলে এ ওয়ার্ডকে আধুনিকায়ন হিসেবে প্রথমে পুরো ওয়ার্ডকে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হবে। যেনো ওয়ার্ডের মধ্যে পানি আটকে না থাকে। প্রতিটি বাড়ীর রাস্তা থেকে শুরু করে সকল কাজ করা হবে। থাকবে না কোন ধরণের অসুবিধা। সকলকে নিয়েই এলাকার কাজ করা হবে। আমি করোনাকালিন সময় ৭নং ওয়ার্ডের প্রতিটি বাড়ীর মানুষের খোজখবর রাখছি। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। সকল গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়েছি। এখনো প্রতিদিন বহ মানুষ আমার কাছে সহযোগিতার জন্য আসে, আমি চেষ্ঠা করি সহযোগিতার করার জন্য। আমার ওয়ার্ডের সকল দলের মানুষ আমার পক্ষে কাজ করবে। তারা দলের উর্ধে থেকেই আমাকে কাউন্সিলর বানাবে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ।
কাউন্সিলর প্রার্থী শাহ জাহান তালুকদার (শাহা)
হাজীগঞ্জ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার দীর্ঘ বছরের সাধারণ সম্পাদক,হাজীগঞ্জ পাইলট হাইস্কুল এন্ড কলেজের অভিভাবক প্রতিনিধি, বিশিষ্ট খেলোয়া ও সমাজ সেবক শাহ জাহান তালুকদার শাহা বলেন আমার পারিবারিক ভাবে মানুষের কল্যানে কাজ করে আসছি। আমার বাবার একটা ঐতিহ্য রয়েছে। আমাদের পারিবারি ভাবে একটি ঐতিহ্য রয়েছে। আমাদের ব্যক্তিগত ভাবে ঐতিহ্য রয়েছে। সব মিলিয়ে এলকার মানুষ আমাদের মতো বড় মনের মানুষদেরকে চায় চেয়ারে বসাতে। আমি একজন খেলোয়াড় হিসেবে এলাকার মানুষের উপকার বা পাশে ছিলাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব থাকা অবস্থায় এ ওয়ার্ডের মানুষের কল্যানে কাজ করেছি। আমি প্রতিটি বাড়ীর মানুষের সাথে কথা বলেছি। মানুষের মনে ভাষা বুঝেছি। মানুষের আশা আমি যেনো কাউন্সিলর প্রার্থী হই। তাদের প্রেরণায় আমাকে উৎসাহিত করেছে। আর এ উৎসাহের কারণেই আমি কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার ঘোষনা দিয়েছি। এলাকার মানুষের মধ্যে যথেষ্ট সাড়া পড়েছে।
পৌর সভার ভৌগলিক ওয়ার্ড হিসেবে উন্নয়ন ও দৃষ্টি নন্দন হিসেবে এ এলাকা থাকার কথা মডেল। কিন্তু মেয়র মাহবুব উল আলম লিপন আন্তরিক ভাবে যে পরিমান উন্নয়ন করেছে তা অত্যান্ত সন্তোষজনক। কিন্তু কাউন্সিলর হিসেবে এলাকার মানুষের কোন ধরণের উন্নয়ন করতে পারেন নি। এখনো জলাবদ্ধতায় ডুবে রয়েছে পুরো এলাকা। এলাকার মানুষ কাউন্সিলর পরিবর্তন চায় সে হিসেবে আমাকে তারা বেচে নিয়েছে। আমি তাদের মন জয় করতে পারবোবিধায় তারা আমার পক্ষে রয়েছে। কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে এ এলাকাকে সকল ক্ষেত্রে মডেল করা হবে। থাকবে না কোন সমস্যা। প্রতিটি বাড়ীর মানুষকে নিয়ে করা হবে উন্নয়ন। দেওয়া হবে সরকারের সকল সুবিধা।
আজ,
সোমবার , ১৬ মার্চ, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ২ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দভোর ৫:৩৯
নোটিশ বোর্ড
সর্বশেষ
প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
