
প্রধানমন্ত্রী গ্রাম অঞ্চলের মা ও শিশু কল্যানে হাসপাতাল নির্মাণ করেছেন
——————-মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম এমপি
এলাকার মা ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই হসপিটাল প্রতিষ্ঠা-ডা.কাজী মোস্তফা সারোয়ার
আমার কণ্ঠ রিপোর্ট
চাঁদপুর-৫ হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি নির্বাচনী এলাকার জাতীয় সংসদ সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব:)রফিকুল ইসলাম,বীর উত্তম হাটিলা পুর্ব ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং ১১ টায় তফুরুন্নেছা ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র টেলিকনফারেন্সে শুভ উদ্বোধন করেন। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সকল সহকর্মীগন উদ্বেলিত,উচ্ছ্বসিত,আনন্দিত ও অনুপ্রাণিত। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর হলে ও উপজেলার ১১নং হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি উদ্বোধন হল এবং আরেকটির নির্মাণ কাজ বর্তমানে চলমান। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সেটিও চালু করা সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী প্রান্তিক জনগোষ্টির সু চিকিৎসার কথা চিন্তা করে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র হাসপাতাল চাকুল করেছেন। এ কেন্দ্র দু’টির মাধ্যমে উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা,মা ও শিশু স্বাস্থ্য কার্যক্রম অগ্রগতি আশানুরূপ ভাবে বাড়ানো যাবে বলে মনে করছি। বিশেষ করে ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মাধ্যমে সপ্তাহের ৭ দিনই ২৪ ঘন্টা নরমাল ডেলিভারি সেবা কার্যক্রম বাড়ানো যাবে। মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের দ্বারা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ, হাজীগঞ্জ এর নিজস্ব উদ্যোগে চলমান ইনোভেশন কার্যক্রম “নিরাপদ মাতৃত্ব আমরা সবাই” কার্যক্রমে আরো গতিশীলতা আসবে বলে মনে করছি। এ কার্যক্রমের আওতায় কেন্দ্রের ৫ বর্গকিলোমিটার এলাকার অন্তত ২০ টি গ্রামের সকল গর্ভবতী মায়েদের প্রত্যেক মাসে সঠিক ও র্নিভুল তালিকা প্রণয়ন পূর্বক গর্ভকালীন সেবা নিশ্চিত করা। যে সকল গর্ভবতী মায়েদের ডেলিভারি পরবর্তী মাসে তাদের তালিকা পূর্ববর্তী মাসে প্রণয়ন করে তাদের সাথে নিবিড় যোগাযোগের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে নরমাল ডেলিভারি নিশ্চিত করার মাধ্যমে এলাকায় অপ্রয়োজনীয় সিজারের হার কমিয়ে সুবিধাভোগীদের একদিকে যেমন শারীরিক ক্ষতি কমানো যাবে অন্য দিকে আর্থিক ক্ষতি ও কমিয়ে আনা যাবে। মেজর অব রফিকুল ইসলাম বলেন যারা জায়গা দান করে যে উদারতা দেখিয়েছে তা সত্যি বিরল। বর্তমান সময়ে এধরণের মানুষ পাওয়া কঠিন। তাই ভূমিদাতাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বৈশাখী বড়–য়ার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন মেজর রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম বলেন,১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগোষ্ঠির স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে কমিউনিটি ক্লিনিক এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রশসংনীয় কার্যক্রম গ্রহন করে সরকার। কিন্তু বিগত সরকার ক্ষমতায় এসে তা বন্ধ করে দেয়। এতে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয় তারা।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আবারো ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারো কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র চালু করেন। সেই সাথে নতুন নতুন ভবন নির্মাণ, প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রদান, জনবল নিয়োগ ও পর্যাপ্ত ঔষুধ সরবরাহের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেন। এতে করে মানুষ ঘরের কাছে চিকিৎসা সেবা নিতে পারছে। অপর দিকে চিকিৎসার অভাবে মানুষের প্রাণহানী ও অর্থের অপচয় কম হচ্ছে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফার পরিচালনায় সিমিত পরিসরে ও সামাজিক দুরত্ম বজায় রেখে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মেলেটারী ও হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জলিলুর রহমান মির্জা দুলালসহ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং স্ব-স্ব এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নে পালিশারায় ৫০ শতাংশ জমির উপর ৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে চার তলা ভিত বিশিষ্ট ৩ তলা ‘তফরুন্নেছা ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র (ক্লিনিক ও ডরমেটরী) নির্মাণ করা হয়। এই মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ২০টি গ্রামের ৫০-৬০ হাজার গ্রামাঞ্চলের জনগণ স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারবে।
অপর দিকে হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নে ৩৩ শতাংশ জমির উপর ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩ তলা ভিত বিশিষ্ট ২ তলা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। এতে করে এই ইউনিয়নের মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যাবে।
নব-নির্মিত দুইটি ভবনেই অপারেশন থিয়েটার, চিকিৎসক, ওয়ার্ড, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ও পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকের কক্ষ, ফার্মেসী, ব্রেষ্টফিডিং রুম, কিচেন, ষ্টোর, ওয়েটি রুম, মাল্টিপারপাস, সীমানা প্রাচীর, বাগানসহ সব ধরনের সুযোগ সুবিধা রয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উইস্থত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রে কর্মরত সহকর্মী গন।
এ ব্যাপারে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব এবং হাজীগঞ্জের কৃতি সন্তান ডা.কাজী মোস্তফা সারোয়ার এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন,আমাদের চার ভাই-বোনের নামে থাকা ৫০ শতাংশ জায়গা আমরা ২০১৮ সালে সরকারের নামে রেজিস্ট্রি করে দেই। এর পরই এ জায়গার ওপর আমার মায়ের নামে হাসপাতাল তৈরির জন্য কাজ শুরু হয় জানুয়ারী ২০১৯ সালে। এলাকার মানুষের বিশেষ করে মা এবং শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই হসপিটাল প্রতিষ্ঠা । এই হসপিটাল এর সেবার মাধ্যমে গর্ভবতী মা দের স্বাভাবিক প্রসব সেবা নিশ্চিত করে মাতৃমৃত্য কমবে । জটিল প্রসব এর জন্য প্রয়োজন এ সিজারিয়ান অপারেশন এর ব্যবস্থা থাকবে। শিশুদের সাধারন রোগ এর চিকিত্সা থাকবে। কিশোরীদের বয়ো সন্ধি কালীন রোগ বালাই র চিকিত্সা থাকবে। এই এলাকায় কোন আধুনিক চিকিত্সা দেয়া কোন হাসপাতাল নাই বিধায়,আমি এলাকার সন্তান হিসাবে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রযোজনীতা বোধ করেছি।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর এর মহাপরিচালক হিসাবে আমার কর্মকালীন সময়ে,আমার সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে এলাকার মানুষের স্বার্থে আমাদের দান করা জমিতে এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করতে পেরে আমি মহান আল্লাহ রাববুল আলামীনের কাছে কৃতজ্জতা প্রকাশ করছি ।
আমরা ভাই বোন মিলে সরকার কে জমি দান করায় সদাশয় সরকার আমাদের মায়ের নামে হসপিটাল নামকরণ করা হয়েছে । তফুরুনেছা মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র ” নাম এ হসপিটাল টি দশ শয্যা বিশিষ্ট । এজন্য সরকারের আমরা কৃতজ্ঞ । এই হসপিটাল এর সেবার মাধ্যমে এলাকার মানুষের উপকার হলে,আমাদের মায়ের আত্মা শন্তি পাবে । এই হসপিটালে এর সেবার মান বৃদ্ধি তথা মান উন্নয়ন এর জন্য আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। অচিরেই এখানে ডাক্তার পদায়ন হবে। ভবিষ্যতে ইন্শাল্লাহ একটি অসনঁষধহপব এর ব্যবস্থা হবে। পর্যয়ে ক্রমে সকল ধরনের আধুনিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত হবে এখানে। একাকার আপামর জনসাধারণ,বিশেষ করে মা ও শিশু রা বিনামূল্যে তাঁদের চাহিদামাফিক সেবা পাবেন,তারা উপকৃত হবেন,খুশি হবেন, এই আমাদের পাওনা ।
উল্লেখ্য দেশের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক ও হাজীগঞ্জ পাইলট হাইস্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক কাজী বজলুল হকের স্ত্রী নামে এ হাসপাতাল করা হয়েছে। কাজী বজলুল হকের অন্যান্য সন্তানরার বিশিষ্ট ঠিকাদার ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি কাজী আনোয়ারুল হক হেলাল,হলেন ঢাকা তেজগাঁও সরকারি বিজ্ঞান কলেজ ভাইস প্রিন্সিপাল তানজিনা ফেরদৌস ও (জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির কার্যালয়ে কর্মরত) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ উপসচিব কাজী মাহবুবুল আলম।
আজ,
শুক্রবার , ২৭ মার্চ, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১৩ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দদুপুর ১:১৪
নোটিশ বোর্ড
সর্বশেষ
প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
