সম্পাদকীয়
সমাজের বিভিন্ন সেক্টরে গুরুত্বপূর্ন অবদান রেখে যারা দেশ ও জাতিকে সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন রাজনীতির সাথে সংযুক্ত না হয়েও সমাজ, জাতি ও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এ গোষ্টিকে বলা হয় সুশীল সমাজ।
এই গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত জীবনে সফল হলেও রাজনৈতিক সংলাপের উর্ধ্বে কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাতে সংশয় থাকলেও তারা সফল হউক আমরা সকলেই তা প্রত্যাশা করি। জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব তারানকো হতে শুরু করে কুটনৈতিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, আইনজীবি ও বিভিন্ন পেশাজীবি গোষ্ঠী সহ বহু গোষ্ঠী শত চেষ্টা করেও সরকার এবং বিরোধী দলের মধ্যে সংলাপ কিংবা ঐক্যমতে পৌছাতে ব্যর্থ হয়। তাই এই সুশীল সমাজের লোকজন সরকার এবং বিরোধী দলের রাজনীতিবিদদের মধ্যে মতৈক্য পৌছিয়ে দেশের স্থিতিশীলতা আনায়ন করতে পারবেন তাতে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। তারপরও আমরা আশার আলো দেখি। তাই এই উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই।
যে যে ইস্যুতে সুশীল সমাজ সংলাপের ব্যবস্থা করবেন তা কি দু’দল মেনে নিবে? নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে মধ্যবর্তী নির্বাচন বিরোধীদের রাজনীতিকদের এই শর্ত মেনে কোনো অবস্থাতেই সরকার সংলাপে বসবে না। আবার যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াত ছেড়ে সংহিসতা বন্ধ করে, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই নির্বাচন এই শর্ত মেনে বিরোধীরা সরকারের সাথে সংলাপের সাথে বসতে রাজি হবে না।
আইনগত দৃষ্টিকোন থেকে বিবেচনা করলে দুই দিকেরই যুক্তিরই তাৎপর্য্য রয়েছে। কিন্তু সুশীল সমাজের এই উদ্যোগে দলীয় ২০ দলীয় জোট আন্দোলন বন্ধ করে সংলাপের প্রস্তুতি নেয় অন্য দিকে সরকারও সম্মতি দেয় তাহলে হয়তো সংলাপ সংগঠিত হবে। কিন্তু কোন দলই তাদের নিজস্ব অবস্থান থেকে সরে আসবে না এবং কোন সমাধানেও পৌছানো যাবে না। বরঞ্চ মাঝখান থেকে ২০ দলীয় জোটের আন্দোলনের গতি স্থিমিত হয়ে যাবে এবং তারা রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই এই সংলাপে সবচেয়ে বেশী কৌশলী হতে হবে বিরোধী জোটের। তবে এটাও ঠিক যে, গাড়ীতে পেট্টোল বোমা দিয়ে মানুষ মারার মাধ্যমে সরকারকে নির্বাচন দিতে বাধ্য করার যে কৌশল তারা নিয়েছেন তাও বোধ করি সফল হবে না। বরঞ্চ এতে তাদের দলের গ্রহণযোগ্য কমে। তাই তাদেরকে অবশ্যই নতুন কৌশল অবলম্বন করে দেশের অর্থনৈতিস্ত ব্যবস্থা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে দিকে লক্ষ্য রেখে নতুন কৌশলে আন্দোলনের গতি ঠিক করতে হবে।
