শাহরাস্তি উপজেলার রাজনীতির মাঠ করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ২০ দলীয় জোটের ডাকা অনির্দিষ্ট কালের অবরোধে নেতাকর্মীদের মাঠে দেখা না গেলেও পৃথক ২টি ঘটনায় দু’মামলায় ২ শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এতে ৩ জনকে আটক করেছে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ। গত ১৫ দিন যাবৎ সারা দেশে অবরোধ করে আসছে ২০ দলীয় জোট। অবরোধের পক্ষে শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপি-জামায়াত কর্তৃক কোন পিকেটিং, মিছিল, মিটিং করতে দেখা যায়নি। অবরোধের পক্ষে কোন নেতাকে সোচ্ছার হতেও দেখা যায়নি। এরই মাঝে গত ১২ জানুয়ারী উপজেলার শোরসাক এলাকায় রাস্তা কেটে ফেলে অবরোধকারীরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে বিএনপি-জামায়াতের প্রায় অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়। গত ১৩ জানুয়ারী উপজেলা বানিয়াচোঁ এলাকায় ট্রাকে অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েক লক্ষ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এরপর গত ১৩ জানুয়ারী শাহরাস্তি মডেল থানায় বিএনপি-জামায়াতের ৪৯ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় আরও অজ্ঞাতনামা ৫০/৬০ জনকে আসামী করা হয়।
উক্ত মামলায় গত ১৩ জানুয়ারী রাতে মেহের দক্ষিণ ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মাওলানা আব্দুল কুদ্দুছ ও শিবির কর্মী ইব্রাহীম খলিলকে আটক করে পুলিশ। গত ১৪ জানুয়ারী আটককৃতদের জন্য সকালের নাস্তা নিয়ে থানায় আসেন শাহরাস্তি মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা জামায়াতের অফিস সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম। এ সময় তাকে আটক করে শাহরাস্তি থানা পুলিশ। আটককৃতদের চাঁদপুর জেল কোর্টে প্রেরণ করা হয়।
শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, অবরোধে উপজেলা বিএনপির কোন কর্মসূচী পালন করা হয়নি। কে বা কাহারা নাশকতা সৃষ্টি করেছে, তাও তাদের জানা নেই। কোন নেতাকর্মীকে অবরোধের ব্যাপারে কোন কর্মসূচীর দায়িত্বও দেওয়া হয়নি। তারা আরও জানান, শাহরাস্তির শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করতে কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবে নাশকতা করছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার।
