জিসান আহমেদ নান্নু-
সম্পূর্ণ সরকারি খরচে নির্মাণ করা একটি ভবনে বেশ কয়েক মাস ধুমধাম আয়োজনে ক্লাশ চলছিলো। ৪জন শিক্ষক এলাকার প্রায় ২শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অতি যত্ম সহকারে শিক্ষার আলো দিচ্ছিলেন। সরকারি ও বেসরকারি ভাবে জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় বন্ধ হয়ে গেলো কচুয়া উপজেলার ১নং সাচার ইউনিয়নের জয়নগরে নির্মাধীন তানজিদা নাহার হক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি।
সরে জমিনে স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে আলাপকালে জানা যায়, ২০০৪ সালের ১১জুন চাঁদপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৎকালীন শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী আ.ন.ম এহসানুল হক মিলন বিদ্যালয়টির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপনের পর বেশ ক’বছর শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্লাশ কার্যক্রম শুরু হয়। বিদ্যালয়টি স্থাপনের জন্য জয়নগর গ্রামের অধিবাসী বিশিষ্ট সমাজ সেবক আব্দুর রহিম পাটওয়ারী দাতা সদস্য হিসেবে ৫শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের নামে দান করেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য জমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও অন্যান্য সমস্যার ফলে বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যায় । নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করতে ৩০ শতাংশ জমি দেয়ার বিধান থাকলেও এতে মাত্র ৫ শতাংশ জমি রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, তৎকালীন ৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ.ন.ম এহসানুল হক মিলন’র মেয়ে তানজিদা নাহার হকের নামে বিদ্যালয়টি স্থাপনের করা হয়। কিন্তু ক’বছর যেতে না যেতেই তার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ওই স্থানে বিদ্যালয়টি এতিমের মতো একা পরিত্যাক্ত রয়েছে এবং বিদ্যালয়টির দরজা জানালা ভেঙ্গে যাওয়ায় উঠতি বয়সের যুবক ও মাদকসেবীদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার আরো বেশকিছু লোকজন জানান, বায়েক, জয়নগর, জুয়ারীখোলা, রাগদৈল পশ্চিমাংশের কোমলমতী শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় আলোয় আলোকিত করতে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় ও সরকারের সৎ ইচ্ছা না থাকার কারণে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে জমি অধিগ্রহণসহ সার্বিক জটিলতা নিরোসন করে বিদ্যালয়টি পুনরায় চালু করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবী জানিয়েছে সচেতন এলাকাবাসী।
কচুয়া ঃ জয়নগর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম চালু না হওয়ায় এভাবেই পরিত্যাক্ত অবস্থায় রয়েছে। পাশে তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের উদ্বোধনকৃত ভিত্তি প্রস্তর।
