
করোনাকালে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বিষয়টি নতুন করে সামনে আসায় রেস্তোরাঁর খাবারের মান যাচাই করার বিষয়ে এমন বিধান করার উদ্যোগ নেয় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। নিরাপদ খাদ্য আইনের বিধান অনুসারে এ জন্য নিরাপদ খাদ্য (রেস্তোরাঁ) প্রবিধানমালা ২০২০-এর খসড়া তৈরি করেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এতে সরকারি খাদ্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার কাছ থেকে নিবন্ধন সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক রাখা হচ্ছে। খসড়াটি ইতোমধ্যে সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে আগামী ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সবার মতামত চাওয়া হয়েছে।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য রেজাউল করিম বলেন, দেশের হোটেল ও রেস্টুরেন্ট আইন আছে। ৩০ জন একসঙ্গে বসে খেতে পারেন এমন স্থাপনাকে রেস্তোরাঁ ও কমপক্ষে ৭০ জন থাকার ব্যবস্থা আছে তা হোটেল হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা আছে। এ ক্ষেত্রে পর্যটন করপোরেশন শুধু অবকাঠামোর বিষয়ে নির্দেশনা দেয়। নতুন বিধান হলে ছোট চা দোকান থেকে বড় রেস্তোরাঁ সবাই আইনের আওতায় আসবে। তবে ক্ষুদ্র দোকানের ক্ষেত্রে একটি ক্যাটাগরি ও বড়গুলোর জন্য আলাদা ক্যাটাগরি করা হবে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
খসড়ায় বলা হয়েছে, খাদ্য পরিবেশনের প্রকাশ্য স্থানে এ লাইসেন্স এবং ক্যাটাগরি অনুযায়ী রেটিং প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া খাদ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশনের স্থান ও সরঞ্জাম সংরক্ষণ, পরিস্কার ও জীবাণুমুক্তকরণ, কীটপতঙ্গ প্রবেশ ও বংশবৃদ্ধি দমন, খাদ্যকর্মীদেরও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন করতে হবে। খাদ্য উপকরণ সংরক্ষণ, খাদ্য প্রস্তুত ও রান্নার স্থানের দূষণ নিয়ন্ত্রণ, প্রাক-প্রস্তুত ও অব্যবহূত খাদ্য সংরক্ষণ ও পুনর্পরিবেশন, পানি সরবরাহ ও ধোয়ার কার্যক্রম যথাযথভাবে হতে হবে। পাশাপাশি বর্জ্য ও পানি নিস্কাশন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে দেশের উপযুক্ত নীতিমালা বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সংস্থার নীতিমালা অনুসরণ করে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রস্তুত ও ব্যবহার করতে হবে বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যবিধির ক্ষেত্রে রেস্তোরাঁয় কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে খাদ্য প্রস্তুত ও বিক্রি পর্যন্ত সব পর্যায়ে ‘উত্তম স্বাস্থ্যবিধি’ অনুসরণ করতে হবে। তাজা ও শুকনো পণ্য, মাছ-মাংস, সামুদ্রিক পণ্য কেনার ক্ষেত্রে প্রাথমিক উৎপাদনকারী ও সরবরাহকারীর ক্ষেত্রেও নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী ‘উত্তম কৃষি চর্চা’ অনুসরণ করার বিষয়টি যাচাই করে নিতে হবে। এসব যাচাই-বাছাই করে কেনার প্রমাণ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বা তদন্তকারী সংস্থার পরিদর্শনকালে উপস্থাপন করতে হবে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খন্দকার রুহুল আমিন বলেন, এখন পর্যন্ত সিটি করপোরেশন বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে রেস্তোরাঁ ব্যবসা চলছে। অন্যদিকে পর্যটন করপোরেশন থেকে হোটেল-রেস্তোরাঁর কাঠামো বিষয়ে সনদ নিতে হয়। এছাড়া রেস্তোরাঁর খাদ্যের মান যাচাই বিষয়ক কোনো সনদ নিতে হয় না। রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা মানসম্মতভাবে ব্যবসা করার ব্যবস্থা করা। এ ক্ষেত্রে রেস্তোরাঁর জন্য নীতিমালা করে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা দরকার বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ প্রবিধানমালা তৈরি করছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন যে কেউ যেখানে সেখানে দোকান খুলে বসছে। যতযত্র খোলা এসব রেস্তোরাঁ স্বাস্থ্যসম্মতভাবে গড়ে ওঠেনি। এগুলোর বেশিরভাগ মানহীন হওয়ায় সামগ্রিকভাবে এ খাতের দুর্নাম ও ক্ষতি হচ্ছে। আইনের আওতায় এলে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পাবেন ভোক্তারা বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিএসটিআইর উপপরিচালক রিয়াজ উদ্দিন সমকালকে বলেন, এখন পর্যন্ত রেস্তোরাঁর ব্যবসা করতে মান সনদের প্রয়োজন হয় না। এগুলো শুধু সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স দিয়ে চলছে। তবে স্যানিটারি পরিদর্শক, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করছেন। আগে পিওর ফুড অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী, বিএসটিআই পরিদর্শন করেছে। নতুন নিরাপদ খাদ্য আইনে বিএসটিআইর এ সুযোগ নেই। নতুন এ বিধান হলে মানসম্মত খাদ্য পাবেন ক্রেতারা। মিরাজ শামস , সমকাল
আজ,
শুক্রবার , ২৭ মার্চ, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১৩ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দসকাল ৮:৩২
নোটিশ বোর্ড
সর্বশেষ
প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
