আমার কণ্ঠ রিপোর্ট ॥
হাজীগঞ্জে গর্ন্ধব্যপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলামের নির্দেশে অর্ধ-কোটি টাকার গাছ কর্তন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউনিয়নের সড়কগুলোর রাস্তা বৃদ্ধির অযুহাতে চেয়ারম্যান মাইকিং করার মাধ্যমে রাস্তার প¦ার্শবর্তী সকল গাছ কর্তন ও স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় জনগন যার যার গাছ স্ব-উদ্যোগে কেটে নিচ্ছেন। ফলে কয়েক ল টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধাপাচাপা দেয়ার চেষ্ঠা করছেন চেয়ারম্যান।
এ দিকে গাছ কাটার ব্যাপারে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে উপজেলা বন ও উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগ। এ পর্যন্ত তাদের দৃশ্যমান কোন পদপে গ্রহন করতে দেখা যায়নি বলে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ। একটি বা দুইটি নয়, পুরো ইউনিয়ন জুড়ে ইউনিয়ন পরিষদ, এলজিইডি’র সকল রাস্তায় কয়েক সহ¯্রাধীক গাছ রয়েছে। যা গত দুই সপ্তাহ ধরে নিয়মিত কাটা হচ্ছে। স্থানীয়দের ধারনা এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধ কোটি টাকার গাছ কাটা হয়েছে বলে তাদের ধারণা।
গাছ কাটার এমন নির্দেশনা দেয়ার এখতিয়ার নেই চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের। সরকারি বিধান অনুযায়ী, সড়ক ও মহাসড়কের পাশের গাছ কাটা যাবে না। এই সড়ক সরকারি কিংবা বেসরকারি যাই হোক না কেন। রাস্তার পাশের গাছ কাটতে হলে সরকারের অনুমতি লাগবে। এর পাশাপাশি পাবলিক প্লেসের গাছও কাটা নিষিদ্ধ করেছে সরকার।
সরকারি বনজ সম্পদ পরিবহন নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১১ বিধিমতে, গাছ কাটার আগে বনবিভাগ জরিপ করে প্রাথমিক একটা মূল্য নিরূপণের পর সংশ্লিষ্ট দপ্তর দরপত্র আহ্বান করে। এর বাইরে অন্যকোনো পথ নেই সরকারি বা পাবলিক প্লেসের গাছ কাটার। গাছ কর্তনের পূর্বে গাছের মূল্য নির্ধারন করতে হবে। এই মূল্যের শতকরা ৭৫ ভাগ গাছের মালিক, ১৫ ভাগ ইউনিয়ন পরিষদ ও ১০ ভাগ বন বিভাগ পাবে।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় বৃ সংরণ খসড়া আইন- ২০১১ বিধিমতে, অনুমতি ছাড়া সরকারি গাছ কাটলে ৩ মাসের জেল ও জরিমানা শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। সুতরাং গাছ কাটতে হলে সরকারি ভাবে যথাযথ কর্তৃপরে অনুমোদন নিয়ে গাছ কাটতে হবে। কেউ এর ব্যত্যয় ঘটালে তাকে জেল-জরিমানা গুনতে হবে।
অথচ কোন বিধি-বিধানের তোয়াক্কা না করে এবং সরকারি আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম গাছ কাটার নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের সকল রাস্তার দুই পাশে তিন ফুট করে মোট ছয় ফুটের মধ্যে সকল গাছ কর্তন ও স্থাপনা সরানোর নির্দেশ প্রদান করেন। তার নির্দেশে কয়েক সহ¯্রাধীক গাছ কাটার ধুম পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যান স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা নিয়ে গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছেন। তার এমন নির্দেশের সমালোচনা করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জনসাধারণ। তাদের প্রশ্ন চেয়ারম্যান গাছ কাটার নির্দেশ দেয়ার মতা রাখেন কিনা ? উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম বলেন, আমি চেয়ারম্যানকে ফোন দিয়েছি, তিনি রিসিভ করেন নি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যারকে অবহিত করেছি। স্যার আমাকে কি সিদ্বান্ত দেয়, সিদ্বান্ত অনুযায়ী আমি পদপে গ্রহণ করবো।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফুয়াদ আহসানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। খোঁজ-খবর নিয়ে গাছ কাটার সত্যতা পেয়েছি। ইউপি চেয়ারম্যান কার নির্দেশে বা অনুমতি নিয়ে গাছ কেটেছেন। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম মজুমদার বলেন, বন কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আমাকে রির্পোট দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। তার রির্পোট অনুযায়ী পরবর্তী পদপে গ্রহণ করা হবে। সত্যতা প্রমান পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
