চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারী জেনারেল হাসপাতালের গাইনী বিভাগ থেকে নবজাতক শিশু বিক্রির ঘটনা অহরহ ঘটছে। হাসপাতালের দ্বায়িত্বে থাকা সেবিকা ও আয়াদের সহযোগিতায় দালাল চক্ররা এবং শিশু পাচারকারীরা প্রতিনিয়ত গাইনী বিভাগ থেকে শিশু নিয়ে উধাও হয়ে যাচ্ছে। দি ইউনাইটেড হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ রবিন দালাল চক্রের মাধ্যমে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ফুসলিয়ে তার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনা অনুসন্ধানে জানা যায়, চাঁদপুর সদর হাসপাতালে গাইনী বিভাগ থেকে নবজাতক শিশু বিক্রি ও হাসপাতাল থেকে রিলিজ না নিয়ে রোগীদের দালাল চক্ররা বে-সরকারি হাসপাতাল কুমিল্লা রোডের দি ইউনাইটেড হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নিয়ে ভর্তি করায়। দি ইউনাইটেড হাসপাতালের চেয়ারম্যান রবিন তার মহিলা দালাল চক্রদের সদর হাসপাতা প্রাঙ্গনে র্সাবক্ষনিক রেখে গ্রাম থেকে আসা অসহায় রোগীদের ধোকা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার নাম করে তার ওই হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। এছাড়া সদর হাসপাতালের গাইনী বিভাগ থেকে বেশ কিছু নবজাতক শিশু বিক্রি ঘটনার সাথে ইউনাইটেড হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ রবিন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে। তেমনি গত রোববার হাজীগঞ্জ ডাইটকারা কাশেমাবাদ গ্রামের সুকুমার চন্দ্র দাসের মেয়ে ইন্স্যুরেন্স কর্মী বিনা রাণী দাস পেটের ব্যাথাজনিত কারনে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দেখে প্রশব হবে বলে চিহ্নিত করে নিচতলার গাইনী বিভাগে রেফার করে। ওই সময় ইউনাইটেড হাসপতালের রবিনের মহিলা দালাল চক্র জানতে পেরে অসুস্থ বিনার পিছু নেয়। ঘটনার দিন ৬টা ৪০ মিনিটে তার একটি মেয়ে কন্যা সন্তান জন্ম দেয়। রাত ৯টায় ইউনাইটেড হাসপাতালের রবিন ও সদর হাসপাতালের দুই মহিলা আয়াকে সাথে নিয়ে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে জনৈক এক ব্যক্তির কাছে শিশু কন্যাটি বিক্রি করে। ওই রাত সাড়ে ১১টায় রবিন কৌশল খাটিয়ে হাসপাতালের আয়াকে ম্যানেজ করে অসুস্থ বিনা রাণী দাসকে অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে উঠিয়ে তার দি ইউনাইটেড হাসপাতাল এন্ড ডায়গনষ্টিক সেন্টারে নিয়ে আসে। ওই সময় ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন টের পেয়ে হাসপাতালের জনবলের দু’ জন আয়া ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ১ মহিলা দালালের সাথে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হয়। পরে এই ঘটনা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার সিরাজুল ইসলামকে (১)অবহিত করে। ঘটনা জানাজানি হলে কয়েকজন সাংবাদিক চাঁদপুর সদর হাসপাতালে আসেন। চিকিৎসা নেয়া বিনা রানী দাসের ফাইল দেখে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে সে বিছানা থেকে উধাও হয়ে যায়। তাই তার ভর্তির ফর্মে কর্তব্যরত ডাক্তার রাত ৯টায় বিছানায় রোগী পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেন। এর ১দিন পর দি ইউনাইটেড হাসপাতালের ৩য় তলায় ৩০৭ নাম্বার কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতাল থেকে উধাও হওয়া বিনা রাণী দাস চিকিৎসারত অবস্থায় বিছানায় শুয়ে আছে। রোগীর স্বজনদের জিজ্ঞাসা করলে তারা জানায়, ইউনাইটেড হাসপাতালের চেয়ারম্যান রবিন ও এক মহিলা দালাল তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার নাম করে এ হাসপাতালে নিয়ে এসেছে। এ ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রবিনকে না পেয়ে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সে প্রথমে পুরো ঘটনাটি অস্বীকার করে। পরে ঘটনার ব্যাখা দিলে সে বলেন সদর হাসপাতালে যাওয়ার পর মহিলা আয়া দু’জন অসুস্থ রোগীকে ভাল চিকিৎসা দেয়ার জন্য প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যেতে অনুরোধ করে। তাই তাদের কথামতো রাতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু শিশু বিক্রির ঘটনা অবগত নেই। একটি সূত্র জানায়, চাঁদপুর সদর হাসপাতাল থেকে এভাবেই বহিরাগত দালাল চক্ররা প্রতিনিয়ত গাইনী বিভাগ থেকে শিশু নিয়ে উধাও হয়ে যাচ্ছে। এদের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে প্রাইভেট হাসপাতালের কর্মকর্তারা জড়িত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করলে মূল রহস্য ও ঘটনা উঠে আসবে।
