আমার কণ্ঠ রিপোর্ট
চাঁদপুর জেলার সবকটি উপজেলার মধ্যে হাজীগঞ্জ উপজেলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ উপজেলার সাথে সংযুক্ত রয়েছে,চাঁদপুরের পূর্ব অংশ, কচুয়া,শাহরাস্তির একটি অংশ। মোট প্রায় জনসংখা হবে ১২ লাখের বেশি। কিন্তু সরকারি হাসপাতাল মাত্র একটি। উল্লেখিত এলাকাগুলো থেকে প্রতি দিনেই রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসে এ হাসপাতালে। হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সটি প্রায় ৫০ বছর আগে ৩০ শয্যাদিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও দীর্ঘ ৪৭ বছর পযর্ন্ত চলছে নাম মাত্র চিকিৎসা দিয়ে। রোগীদেরকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য হাসপাতালের মধ্যে তেমন কোন যন্ত্রপাতি নেই।
গত বিএনপির সরকারের আমলে এ হাসপাতালটিকে ৩০ শয্যা থেকে ৫০ শয্যা করা হয়। এ জন্য ২তলা একটি ভবন করা হয়। কিন্তু ৫০ শয্যা হাসপাতাল পরিচালনার জন্য যে পরিমান লোকবল দরকার তা তো নেই বরং ৩০ শয্যা হাসপাতাল পরিচালনার লোকবলই নেই। তালিতোলা দিয়ে যে ক’জন ডাক্তার রয়েছে তারা কোন ভাবে তা পরিচালনা করছেন। নাম মাত্র ৫০ শয্যা হাসপাতাল হলেও এ হাসপাতালে এক্সরে মেশিন, অপারেশন থিয়েটার, বা গুরুত্বপূর্ণ কোন যন্ত্রপাতি নেই। বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগিরা হাসপাতালের বেডে অন্ধকারে বসে থাকতে হয়। গুরুত্ব পূর্ন রোগিরা থাকেন আতংকের মধ্যে। প্রতিদিন শত শত রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য আসেন। ডাক্তাররা গুরুত্বপুর্ণ রোগীদেরকে রোগের বিভিন্ন টেস্ট করতে দিলে হাসপাতালের সামনে গড়ে উঠা কিনিক ব্যবসায়িদের দালালরা রোগীদের কাছ থেকে জোর করে বা কমিশন খাওয়া ডাক্তাররা বলে দেন কোন কিনিকে যাইতে হবে তখন তারা ঐভাবে যায়। টেস্ট করে আবার ডাক্তারের কাছ আসলে ডাক্তার বলে টেস্ট সুন্দর হয়েছে । কিন্তু যখন এ রোগী ভালো হয় না। তখন ঢাকা বা অন্য কোন বড় ডাক্তারে কাছে গেল ঐ ডাক্তাররা বলেন যে টেস্ট নিয়ে আসছেন তা সঠিক না। তখন রোগীদের অভিভাবকরা পড়েন র্দূভোগে।
হাসপাতালের ডাক্তাররা সরকারি হাসপাতালে বসে টাকা ছাড়া কোন রোগীকে ভালো ভাবে চিকিৎসা করান না বলে রোগীরা এ প্রতিনিধির কাছে অভিযোগ করেন। রোগিরা বলেন সরকারি হাসপাতালে আসি ভালো চিকিৎসার জন্য কিন্তু টাকা ছাড়া ডাক্তাররা কোন রোগী দেখেন না। এর অন্যতম হলেন ডাক্তার জাকিয়া সুলতানা ও সুলতানা রাজিয়া সুমি এবং হাসপাতালের ওষুধ আমাদেরকে দেয় না ঠিকমত। মনে হয় যেন কে কত রোগি দেখবেন এবং কে কত টাকা আয় করবেন তা নিয়ে তারা ব্যস্ত।
এছাড়াও অনেক ডাক্তার রয়েছে তারা হাসপাতালে নাম মাত্র হাজিরা দিয়ে প্রাইভেট কিনিকে চিকিৎসা দিতে দেখা গেছে। সব মিলেয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সেবা ভেঙ্গে পড়েছে।
হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যা উন্নীত হওয়া পর ১৬৪ পদ সৃষ্টি হয়। এতো অল্প সংখ্যক লোকবল দিয়ে কিভাবে ১২ লাখ জনসংখ্যা চিকিৎসা চলে তা বুঝা কঠিন। তার পরেও তালি তোলা দিয়ে চললেও দিন দিন রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া কর্মরত ডাক্তাররা হিমশিম খাচ্ছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর এ হাসপাতালে নতুন করে ২০ জন ডাক্তার যোগদান করেন । তার পরেও ৫১ টি পদ শূণ্য রয়েছে।
হাসপাতালের ভিতরে নেংরা পরিবেশ ও গরুছাগলের মাঠ
হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতরের ময়লা আবজর্না স্তুপ। দীর্ঘ দিন এসব ময়লা পরিস্কার না করার কারণে রোগীরা মুখের মধ্যে কাপড় দিয়ে ডাক্তারদের কাছে চিকিৎসার জন্য যেতে হয় এবং হাসপালের রোগী আগের তুলনায় অনেক কমে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও হাসপাতালের মাঠে প্রতিদিন ৫/১০ টি গরু ছাগল দেখা যায়। অনেক মহিলা রোগীরা গরু-ছাগল দেখলে ভয় পায়। রোগীরা বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাঠে গরু-ছাগলের বাজার বসানো হয়েছে।
নিন্মমানের খাবারের অভিযোগ
হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তিকৃত রোগীদের খাবার নিয়ে কয়েক বছর যাবত নানা অনিয়ম ও র্দূনীতির অভিযোগ রয়েছে। যারা খাবার টেন্ডারের মাধ্যমে নিয়েছেন তারা হাসপাতালের জনৈক এক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়ে নিজেদের লাভ নিজেরা বুঝে নিয়ে গেছেন। আর যার দায়িত্বে রোগীদের খাবার পরিবেশন করা হয় তিনি নাম মাত্র খাবার দিয়ে থাকেন। রোগীরা বলেন, আমাদেরকে প্রতিদিন যে খাবার দেওয়া হয় তা পর্যাপ্ত ক্যালোরি সম্পূর্ণ নয়। তাই আমাদেরকে হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে হয়।
ডাক্তারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
ডাক্তাররা রোগীদেরকে ভালো ভাবে না দেখে ভিজিটিং কার্ড ্ও ঠিকানা দিয়ে তাকে তার প্রাইভেট চেম্বারে যোগাযোগ করতে বলেন। যে রোগের প্রেসক্রিপসান এখানেই সম্ভব তার সমাধান এখানে না দিয়ে বিভিন্ন টেস্ট করতে দিয়ে গরিব রোগীদের অর্থনেতিক সমস্যার মধ্যে ফেলেন। এ ব্যাপারে ডাক্তারদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন পূর্ণভাবে পর্যবেন না করে কোন রোগের প্রেসক্রিপসান লেখা আমাদের পে সম্ভব নয়। তাই আমরা রোগীদেরকে সংশ্লিষ্ট টেস্ট করার নির্দেশনা দিয়ে থাকি। এর মধ্যে ডাক্তার জাকিয়া সুলতানা নিয়মিত অফিস না করে হাজীগঞ্জে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে বসে রোগী দেখেন এবং এই ডাক্তার রোগীদের সাথে সব সময় খারাপ ব্যবহার করে থাকেন বলেনও রোগীরা বলেন।
অব্যবস্থাপনা
হাসপাতালে বিভিন্ন ধরণের অব্যবস্থাপনা যেমন রোগীর বিছানা ময়লা ্ও নোংরা,পর্যাপ্ত ফ্যানের অভাব, বিভিন্ন টেস্ট করার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব এবং ভিতরের পরিবেশ স্যঁতস্যঁতে। সঠিক সময়ে নাসর্কে সঠিক কাজে না প্ওায়াসহ আরো বহুধরনের অব্যবস্থাপনা পরিলতি হয় বলে রোগীরা অভিযোগ করেন।
রোগীদের দুর্ভোগ
রোগীরা জরুরী বিভাগসহ বিভিন্ন েেত্র পর্যাপ্ত চিকিৎসা না প্ওায়া অনেক সময় হাজীগঞ্জের প্রাইভেট কিনিকসহ কুমিল্লা,ঢাকা চলে যেতে হয়। এতে একদিকে যেমন অর্থের অপচয় হয় তেমনি অপরদিকে তাৎনিক চিকিৎসার অভাবে রোগীকে বাচাঁনো সম্ভব হয় না। অনেক সময় ডাক্তারদের অবহেলায় হাসপাতালের জরুরী বিভাগের রোগীদেরকে জীবন দিতে হয়।
হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্নয়ন সমন্বয় সভায় সার্বিক দিক নিয়ে হাসপাতাল হল রুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঐ সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টর কমান্ডার ্ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম। সভায় হাসপাতালের কর্তৃপ বিভিন্ন সমস্য তুলে ধরেন। মেজর অব রফিকুল ইসলাম তাদের বক্তব্য শুনে সকল সমস্যা ধাপে ধাপে সমাধানের আশ্বাস দেন। তিনি আরো বলেন সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য ডাক্তারকে দায়িত্ববান হতে হবে। ডাক্তাররা হাসপাতালে এসে হাজিরা দিয়ে প্রাইভেট কোন হাসপাতালে যেতে পারবে না। ডিউটির পূর্ণ সময় হাসপাতালে বসে রোগীদেরকে চিকিৎসা দিতে হবে। বিশেষ করে জরুরী বিভাগের ডাক্তাদের রোগীদের তাৎণিক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে স্বাভাবিক সুস্থ করে তুলতে হবে। তিনি আরো বলেন পর্যাক্রমে এ হাসপাতালকে আধুনিক হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আনোয়রুল আজিম এর সাথে কথা বলার জন্য হাসপাতালে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার অফিস সহকারি বলে স্যার চাঁদপুর মিটিং এ গেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, জনৈক এক ডাক্তার বলেন বিশাল এরিয়ার মধ্যে একটি মাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এ হাসপাতাল ৫০ শয্যায় পর থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদ সৃষ্টি হয়েছে। এ পদ গুলি সরকার পূরুণ করে দিলে এ বৃহত্তর এলাকার মানুষের অনেক উপকার হতো। তারা যে কোন জটিল রোগের জন্য এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারতো। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ ডাক্তার না থাকায় এ অঞ্চলের মানুষগুলির চিকিৎসা নিয়ে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাদের মূমূর্ষু রোগী নিয়ে চলে যেতে হয় ঢাকা বা কুমিল্লায়। যাওয়ার পথে অনেক রোগী মৃত্যু বরণ করে থাকে। এ হাসপাতালটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো অতিদ্রুত পূরুণ করা হলে এ এলাকার মানুষের উপকার হবে। তাই বর্তমান সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ করেন।
