চাঁদপুর মেরিন নৌ-পুলিশের ইনচার্জ মনির আহম্মদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে চাঁদা আদায়, বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ
ষ্টাফ রিপোর্টার ॥ চাঁদপুর শহরের বড় ষ্টেশন মাদ্রাসা রোড লঞ্চঘাট এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশের নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি। রাতের আধারে চোরাকারবারীরা নদীতে বিভিন্ন ধরনের চোরাই মালামাল আনা-নেয়া করে থাকে প্রতিনিয়ত। মেরিন নৌ-পুলিশ ফাঁড়িটি এখানে থাকায় এলাকার জনমনে ব্যাপক স্বস্তি এলেও অসাধু কর্মকর্তাদের কারণে এই ফাঁড়িটি তার ঐতিহ্য ও সুনাম ধরে রাখতে পারছে না। তাই প্রায় দিনই এখানে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির কথা শোনা যায়। সম্প্রতি নৌ-পুলিশকে আধুনিকায়ন করার জন্য নৌ-পুলিশ ফাঁড়িটিকে পরিণত করা হয় মেরিন নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি হিসেবে। যদিও তাদের কাজ নদীতে নৌযান সুষ্ঠুভাবে চলাচলের সার্বিক ব্যবস্থা করা। কিন্তু আদৌ নদীতে সুষ্ঠুভাবে কোন নৌযান চলতে পারছে না কারণ একটাই অসাধু নৌ-পুলিশ অফিসার মনির আহম্মেদ ও তার সহযোগি ওই এলাকার বিতর্কিত ব্যক্তি পুলিশের দালাল জহিরের মাধ্যমে এসব বে-আইনি কর্মকান্ড অব্যাহত রয়েছে। জানা যায়, নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মনির আহম্মেদ’র গ্রামের বাড়ি টাংগাইল জেলায়। পূর্বে সে ঢাকা মেট্টোপলিটনের অধিনে কেরানীগঞ্জ থানায় পুলিশের এএসআই পদে কর্মরত ছিল। সেখানেও সে নানা দূর্নীতি ও অনিয়মের সাথে জড়িত ছিল। এছাড়া সেখানে থাকাবস্থায় বিভিন্ন অপরাধীদের সাথে গোপনে গভীর সখ্যতা গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সেখান থেকে পদোন্নতি পেয়ে চাঁদপুর জেলা শহরের বড় ষ্টেশন মাদ্রাসা রোডের লঞ্চঘাট এলাকায় মেরিন নৌ-পুলিশের এসআই পদে (৯ সেপ্টেম্বর/১৪ইং) যোগদান করেন। এ ফাঁড়িতে যোগদানের পর পরই তিনি তাঁর দূর্নীতির নতুন একটি হালখাতা খোলেন। আর সেই খাতা দিয়েই শুরু তাঁর দূর্নীতির লিখন। যেমন, কানদী মিয়ার বাজারে চোরাকারবারীদের কাছ থেকে প্রতি মাসের ৫ তারিখে বিষ্ণপুর ইউনিয়নের বর্তমান মেম্বার আলমগীরের মাধ্যমে মাসোহারা হিসেবে ৬০ হাজার টাকা, মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন কারেন্ট জালের ফ্যাক্টরী থেকে প্রতি মাসে দালাল জহিরের মাধ্যমে ২ থেকে ৩ তারিখের মধ্যে ৭০ হাজার টাকা; কানদী, আমিরাবাদ, লালপুর, আনন্দবাজার, রাজরাজেশ্বর, টিলাবাড়ি ঠোডার মাথা, বাংলা বাজার, হরিণাসহ এসব এলাকার প্রায় আড়াই হাজার নৌকার মালিক ও জেলেদের কাছ থেকে নৌকা প্রতি ৩ হাজার টাকা করে জহিরের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়। চোরাকারবারী সেলিম গ্র“পের কাছ থেকে প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা করে জহিরের মাধ্যমে, আইনল গ্র“পের কাছ থেকে ২৫-৩০ হাজার টাকা, শাহআলম গ্র“পের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ও নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সামনে মিনি ব্লেকার খেয়া পারাপারের নাম দিয়ে প্রতি দিন ৫শ’ টাকা উত্তোলন করে প্রকাশ্যে জহিরের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতি মাসে। তাঁর সহযোগি জহির ছোট থেকেই ফাঁড়িটিতে কিভাবে একজন পাবলিক হিসেবে পুলিশের সাথে কাজ করে যাচ্ছে তা সচেতন মহলের প্রশ্ন?। প্রতিনিয়ত চেকিংয়ের মাধ্যমে লঞ্চঘাটে যাত্রীদের কাছ থেকে যেসকল মাদক উদ্ধার হয় তা আবার গোপনে বিক্রি করে দেয় জহিরের মাধ্যমে ক্লাব রোডে। আরো জানা যায়, গত ২৯ ডিসেম্বর/১৪ইং তারিখে রাতের বেলা লঞ্চের ভিতরে অভিযান চালিয়ে কয়েক মণ জাটকা মাছ আটক করে বিক্রি করে দেয় ৩ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকায়। এছাড়া গত ৪ জানুয়ারি ২০১৫ইং একই ঘটনা ঘটে রাতের আধাঁরে। ঘটনার সময় কয়েক মণ জাটকা মাছ আটক করে তা বিক্রি করে জহিরের মাধ্যমে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এভাবে প্রতিনিয়ত ঘটনা ঘটতে থাকলে পুলিশ প্রশাসনের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস দিন দিনই লোপ পেতে থাকবে।
