আমার কণ্ঠ ডেস্ক॥
হাতে লাল গোলাপ। চোখে আনন্দময় আগামীর স্বপ্ন। ভালোবাসায় আভায় রাঙানো মুখ। মনে আনন্দ-উত্তেজনা। হাতে হাত রেখে বাকিটা জীবন কাটানোর প্রত্যয়। ভালোবাসা আর প্রেমের চাদরে ঢেকে থাকবে বলে কত শত পরিকল্পনা। সুন্দর জীবনের জন্য ভালোবাসা। সুখী জীবনের জন্যও ভালোবাসা। এই তো পৃথিবীর প্রতিটা মানুষের চাওয়া।
শুরুটা দেখে মনে হচ্ছে, কোন যুগলের জন্য এ শব্দমালা? না, এ শুধু যুগলদের জন্য নয়, এ শব্দমালার তরঙ্গে ভাসতে পারে বন্ধু, পরিবার, প্রেমের, আত্মার প্রতিটি সর্ম্পক।
ভালোবাসা বহুমাত্রিক, ভালোবাসা শ্বাশত। তাইতো ভালোবাসার এ রহস্যময় রূপের সন্ধানে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘সখী ভালোবাসা কারে কয়…’
বসন্তের প্রথম প্রহর পেরিয়ে যেতে না যেতেই পঞ্জিকার পাতায় এসেছে বিশ্বব্যাপী চিরন্তন ভালোবাসা প্রকাশের দিন ১৪ ফেব্র“য়ারি ভ্যালেন্টাইন ডে। তরুণ প্রজন্মের কাছে এ দিনটি খুব কাঙ্ক্ষিত। অনেকে বছরের শুরুতেই ডায়েরির পাতায় বিশেষভাবে চিহ্নিত করে রাখে এ দিনটি। প্রেমিক প্রেমিকাকে, প্রেমিকা প্রেমিককে বিশেষ কোনো উপহার দিতে ভুলে না।
শুধু প্রেমিক-প্রেমিকা নয়, মা-বাবা, ভাই-বোন, বন্ধুবান্ধব প্রতিটি সম্পর্কই গতানুগতিকতা ঝেড়ে আরও একটু রঙিন, আরও একটু মধুর হয়ে ওঠে এ দিনে ফুল, কার্ড, চকলেটের মতো বিভিন্ন উপহার দেয়া-নেয়ার মাধ্যমে। উপহার ছাড়াও অনেকে পরিবার, বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘুরতে যান বিভিন্ন মনোমুগ্ধকর স্থানে। উদ্দেশ্য ভালোবাসার এ ক্ষণটিকে স্মৃতিময় করে রাখা।
বরাবরের মতো বছর ঘুরে এ দিনটি আসে পৃথিবীর সকল মানুষকে মনে করিয়ে দিতে যে, কতটা ভালোবাসি আমরা পরস্পরকে। আড্ডা, গান, কথার ফুলঝুড়ি, ফুচকার প্লেটে কাড়াকাড়ি, অমলিন হাসি, আনন্দময় কিছুক্ষণের সঙ্গে ভালোবাসা দিবস আমাদের মধ্যে জন্ম দেয় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়।
জীবনের এতো আয়োজন যে দিনটিকে ঘিরে সেই ভালেবাসার দিবসের পটভূমি নিয়ে প্রচলিত রয়েছে নানা ধরনের কাহিনী। মূলত: যে কাহিনী প্রচলিত আছে তা এক রোমান ক্যাথলিক পাদ্রির কাহিনী। তাঁর নাম ছিল সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। তিনি ছিলেন একজন চিকিৎসক ও পাদ্রি। তখন রোমানদের দেবদেবীর পূজোর বিষয়টি ছিল মূখ্য। তাঁরা বিশ্বাসী ছিলেন না খৃস্টান ধর্মে। কিন্তু খৃস্টান ধর্ম প্রচারের অপরাধে ২০৭ খ্রিষ্টাব্দে সাধু ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় রোমের সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াসের আদেশে।
তবে তিনি যখন জেলে বন্দী, তখন ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা ভালবাসার কথা জানিয়ে জেলের জানালা দিয়ে তাঁকে ছুড়ে দিত চিরকুট। বন্দী অবস্থাতেই তিনি চিকিৎসার মাধ্যমে জেলারের অন্ধ মেয়েকে ফিরিয়ে দেন দৃষ্টিশক্তি। অনুমান করা হয় মেয়েটির সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। মৃত্যুর আগে মেয়েকে একটি চিঠি লেখেন, সেখানে তিনি উল্লেখ করেন ফ্রম ইউর ভ্যালেন্টাইন বলে।
অনেকের মতে এই সাধু ভ্যলেন্টাইনের নামানুসারে পোপ প্রথম জুলিয়াস ৪৯৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ ফ্রেব্র“য়ারিকে ভ্যালেন্টাইন ডে হিসাবে ঘোষণা করেন।
তবে ভালাবাসার প্রকাশের ক্ষণ শুধু ভালাবাসা দিবস নয়, জীবনের প্রতিটা মূহুর্তই ভালোবাসার। তাহলে আলাদাভাবে ভালোবাসা দিবস কেন? মা-বাবা-ভাই-বোন-বন্ধু সকলের পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের দিন বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। দলে দলে বিরোধ, গোষ্ঠীতে গোষ্ঠীতে দাঙ্গা আর নাশকতা-সহিংসতা-মানুষ হত্যার মতো ঘৃণ্য অপরাধকে দূরে ঠেলে একাত্মতা প্রকাশের দিন এটি। মূলত বিশ্বজুড়ে হৃদ্যতা সৃষ্টির দিন এই ভালোবাসা দিবস।
