বিশেষ প্রতিনিধি-
শাহারাস্তিতে ২য় শ্রেণীর এক স্কুল পড়ুয়া ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনায় মোঃ আক্তার হোসেন প্রকাশ খোকন মিয়া (৫৭) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, এলাকাবাসী ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সকালে উপজেলার সূচীপাড়া উত্তর ইউনিয়নের পশ্চিম সূচীপাড়া গ্রামের এক স্কুল পড়ুয়া শিশু ছাত্রীকে একই গ্রামের নোয়া বাড়ির ভাই ভাই ব্রিকস’র স্বত্বাধিকারী মোঃ মিজানুর রহমানের বড় ভাই ক্ষুদে ব্যবসায়ী মোঃ আক্তার হোসেন প্রকাশ খোকন মিয়া শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। ওই সময় খোকন মিয়া শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড় দিলে শিশুটির ডাক চিৎকারে খোকন তাকে ছেড়ে দেয়। পরে ওই শিশু কন্যা বাড়িতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার পরিবারের লোকজনকে বিষয়টি অবহিত করে। পরিবারের লোকজন বিষয়টির সত্যতা জানতে আশপাশের লোকদের কাছ থেকে জানতে পেরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের শরণাপন্ন হয়। চেয়ারম্যান বিষয়টি গুরুত্ব না দেয়ায় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার থানা পুলিশে সংবাদ দেয়। সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোঃ বেলায়েত হোসেন ও আনিছুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মেয়ে ও অভিযুক্ত খোকন মিয়াকে থানায় নিয়ে আসেন।
এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল ছাত্রী জানান, আমি সকালে ইট ভাটায় ভাইয়ের জন্য ভাত নিয়ে যাই। ভাত দিয়ে আসার পথে খোকন মিয়া জোর করে আমার শ্লীলতাহানি করে। ওই সময় সে আমার গালে কামড়ে দেয়। আমি ডাক চিৎকার দিলে সে আমাকে ছেড়ে দেয়। আমি পরিবারের লোকদের জানালে পরবর্তীতে এলাকার লোকদের সহযোগিতায় থানা পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
স্কুল ছাত্রীর চাচা ও বাড়ির অন্যরা জানান, ঘটনার পর আমরা মেয়েটির কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হই। পরবর্তীতে স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে পুলিশ ওই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে যায়। অভিযুক্ত খোকন মিয়ার পরিবারের লোকজন সমাজে অর্থশালী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি। আমরা গরিব, অসহায় ও যে মেয়েটির শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটিয়েছে সে এতিম। মেয়েটির বাবার মৃত্যুর পর আমরা অনেক কষ্টে তাদের চালিয়ে যাচ্ছি। এতিম একটি মেয়ের জীবনে এতো বড় দুর্ঘটনা কারোই কাম্য নয়। আমরা বিষয়টির আইনগত সহায়তা ও দোষী ব্যক্তির শাস্তির দাবি জানাই।
অভিযুক্ত আক্তার হোসেন প্রকাশ খোকন মিয়া জানান, আমি অন্যায় করেছি, ভবিষ্যতে সংশোধনের জন্য আমি সকলের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, থানায় নেয়ার পর অভিযুক্ত খোকন মিয়াকে ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তোড়জোড় শুরু করে। বিষয়টি নিতান্তই দুঃখজনক। যেখানে একজন এতিমের শ্লীলতাহানির ঘটনায় সকলে সহযোগিতা করবে দোষী ব্যক্তির শাস্তির জন্য উল্টো দোষী ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় ভিড় জমে গেছে। বিষয়টি আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে।
এ ব্যাপারে থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ আনিছুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। তাই গত বুধবার আটককৃত ব্যক্তিকে ৫৪ ধারায় কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
জানা যায়, অভিযুক্ত আক্তার হোসেন প্রকাশ খোকন মিয়া ওই গ্রামের মৃত আবদুল হাকিমের পুত্র।