শাহরাস্তিতে সম্পত্তিগত বিরোধের জের ধরে দু’পক্ষের সংঘর্ষের ৪দিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কাতার প্রবাসী মোঃ হানিফের (৫৫) মৃত্যু হয়েছে। থানায় অভিযোগ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নের মুড়াগাঁও গ্রামের হাজী বাড়ীতে গত ৮ জানুয়ারী বিকাল ৪ টায় কাতার প্রবাসী মোঃ হানিফ ও প্রতিপক্ষ জামাল হোসেন গংদের সহিত সম্পত্তিগত বিরোধ নিয়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। ওই দিন প্রতিপক্ষ জামাল হোসেন গংরা প্রবাসী হানিফের ভোগদখলীয় সম্পত্তির উপর ২টি খড়ের গাদা তৈরী করে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালায়। হানিফ তার সম্পতির উপর খড়ের গাদা স্থাপন বিষয়ে প্রতিপক্ষ জামাল হোসেন গংদের জিজ্ঞাসা করতে গেলে প্রতিপক্ষ মৃত সেকান্দর আলীর পুত্র জামাল হোসেন (৪৫) তার হাতে থাকা দা দিয়ে হানিফের শরীরে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এ সময় আলী আজমের পুত্র (৩৫) জামাল হোসেনের পুত্র (১৮) সহ দুষ্কৃতকারীরা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হানিফকে মেরে ফেলার হুক্কার দেয়। এ সময় হানিফের ডাক-চিৎকারে তার পুত্র বোরহান উদ্দিন (২২) উদ্ধার করতে আসলে দুষ্কৃতকারীরা তাকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এসময় হানিফের আত্মীয় স্বজনরা হানিফ ও তার পুত্রকে তাদের কবল থেকে উদ্ধার করে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। হানিফের অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরে ঢাকা লাল মাটিয়া এশিয়ান হসপিটাল, লালমাটিয়া আল-মিলিনিয়াম হসপিটালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১১ জানুয়ারী তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার রাত সোয়া ১২ টায় তার মৃত্যু হয়। ময়না তদন্ত শেষে সন্ধ্যা ৬ টায় তার মরদেহ নিজ বাড়ীতে আনা হয়। রাত ৮ টায় জানাজা শেষে তার লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এ বিষয়ে নিহত হানিফের পুত্র বোরহান উদ্দিন বাদী হয়ে ৫ জনকে বিবাদী করে গত ১১ জানুয়ারী শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে। পুলিশ জানায় মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করা হবে।
এ ঘটনার পর থেকেই দুষ্কৃতকারীরা পলাতক রয়েছে। প্রবাসী হানিফের মৃত্যুতে এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।