সম্পাদক-
শুরু হয়েছে আমাদের বিজয়ের মাস। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমরা অনেকেই ছিলাম কৈশোরোত্তীর্ণ, যৌবনের ফাগুনে পা দেয়া বয়সী। আমরা সচেতনভাবে দেখেছি বাঙালি জাতি কতটা ত্যাগ স্বীকার করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলো। আমরা হয়তো অনেকে অস্ত্র হাতে নিতে পারিনি কিন্তু বাঙালির মুক্তি সংগ্রামে অংশ নিয়েছি। দীর্ঘ নয়মাস আমরা পাক হানাদারদের বাংকারের মধ্যে বসবাস করেছি। সচক্ষে দেখেছি পাক পশুদের নির্যাতন, নারী ধর্ষণ, মা- বোনের ক্রন্দন, কন্যা জায়া-জননীর আর্তনাদ।
আজ মনে প্রশ্ন জাগে, এত বড় বিজয় আমরা অর্জন করার পরও স্বাধীনতার পরাজিত শত্র“, পাকপশুদের দোসররা এত শক্তি অর্জন করলো কী ভাবে? তারা এত সংহত হলো কী ভাবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে নিজেদের কৃতকর্মের ভেতর তারপর অন্যদের দোষারোপ করার প্রশ্ন আসবে। সুযোগ পেলে শত্র“ মাথা খাড়া করবে, এটাতো জানা কথা। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর শেখ ফজুলল হক মনি সাবধান করেছিলেন, ‘বিপ্লবের পরে প্রতিবিপ্লব আসবে।’ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলেন প্রতিবিপ্লবী শক্তি ওৎপেতে আছে। আমরা কর্ণপাত করিনি। ভেবেছিলাম দিন একভাবেই যাবে। হালুয়া রুটি নিয়ে তখন দুই কুকুরের মত লড়াই শুরু হয়েছিলো। এই স্বার্থপরতার পংকিল স্রোত দিয়ে এলো ১৫ আগস্টের কালো রাত। জাতির সর্বনাশ হলো।
শুরু হয়েছে আবারো রাজনীতিতে হালুয়া রুটির ভাগাভাগি আর কামড়া কামড়ি। দৈনিক জনকন্ঠের খবরের শিরোনাম ‘গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে কোন্দল ছাত্রলীগে।’ (২২/১১/১৪)। আরো বলেছে, ‘তৃণমূল নেতা কর্মীরা স্থান পাচ্ছে না কমিটিতে, অর্থ ও অস্ত্রের দাপট। আওয়ামীলীগের মাঠ রাজনীতি।’ (ঐ)। বলছে জনকন্ঠ, ‘তিতাসে আ’লীগ-যুবলীগ সংঘর্ষ।। টেটাবিদ্ব হয়ে নিহত ১।’ (ঐ)। বলা হচ্ছে, ‘ঘরের আগুনে পুড়ছে শাসকদল আওয়ামীলীগ। পদ আর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে সৃষ্ট দলীয় অন্তর্কোন্দলে রক্তপাত যেন থামছেই না।’ (জনকন্ঠ-২৩/১১/১৪)।
এসব কি ত্যাগ ও আদর্শের রাজনীতি? ৩০ লক্ষ মানুষ বঙ্গবন্ধুর কথায় এ জন্য জীবন দিয়েছিলো? তিন লক্ষ মা- বোন এজন্য ইজ্জ্বত দিয়েছিলো? আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা যদি অতীতের বিপর্যয়ের কথা বিস্মৃত হয়ে এভাবে হালুয়া রুটির ভাগাভাগি নিয়ে মত্ত থাকে, অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকে, দুর্নীতিতে, স্বর্ণের চোরাচালান ব্যবসায় নাক ডুবিয়ে বেহুস হয়ে পড়ে থাকে, তাহলে যে কোন সময়, যেকোন দিক থেকে বিপদ আসবে। শত্র“ পক্ষ শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ পাবে। অতএব সাধু সাবধান।
