আমার কণ্ঠ রিপোর্ট ॥
হাজীগঞ্জে বাড়ীর মালিকদের ভাড়াটিয়ার অভাব দেখা দিয়েছে। ভাড়াটিয়ার অভাবে অনেক বাড়ির মালিকারা দিশেহারা হয়ে পড়ছে। এভাবে কয়েক মাস চলার পর অনেক বাড়ীর মালিক বাড়ী বিক্রি করে দেয়ার জন্য মানুষ খোঁজছেন। বাড়ির মালিকরা নিজের জমানো টাকা এবং ব্যাংক থেকে ঋন নিয়ে বাড়ি বানিয়েছেন। এখন বাড়াটিয়ার অভাবের কারণে ব্যাংকের টাকা দিতে না পারায় এবং প্রতি মাসের বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল দেয়ার কারণে অসহায় হয়ে পড়েছেন।
অনুসন্ধান করে এবং গত এক সপ্তাহ গুরে বিভিন্ন মালিকের সাথে কথা বলেন জানাযায়, ২০০০ সালের আগে মানুষ নিজ গ্রামে বসবাস করার মনমানসিকতা ছিল। সে মোতাবেক তারা অর্থ জোগার করে নিজ গ্রামে চোকাট করে করে থাকতে এবং অবশিষ্ট টাকা দিয়ে গ্রামের কৃষি জমি কিনতেন বা কন্ডিশন নিতেন। পাশাপাশি ছেলে মেয়েদেরকে লেখা পড়া অথবা ছেলেদেরকে বিদেশ পাঠিয়ে দিতেন। এটাই ছিল তাদের তখনকার নিয়ম। এ নিয়মের মধ্যেই তারা বসবাস করে আসছেন। এর মধ্যে গ্রামের প্রতিটি ঘরে কেউ না কেউ বিদেশ বা উচ্চ শিতি হয়ে যাওয়ার কারণে দিন দিন গ্রামের মানুষের মধ্যে একটি বিলাসিতার মনোভাব সৃষ্টি হয়। ধীরে ধীরে কৃষি জমি ক্রয় থেকে বিরত এবং ছেলে মেয়ে দেরেকে উচ্চ শিতি বা বিদেশ পাঠানোই তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়। এভাবে কয়েক দশকের মধ্যে পাল্টে যায় জীবন মান এবং ভবিষৎ পরিকল্পনা ও চলে আশে অধনিকতার ছোঁয়া। এ আধুনিকতা এবং ভবিষৎ প্রজন্মকে আরো উচ্চ শিতি এবং শহর মুখখী করার জন্য আরো একধাপ এগিয়ে যায়। এরই মধ্যে গ্রামের মানুষের অর্থনৈতিক ভাবে প্রায় অনেকে সাবলম্বি হয়ে যায়।
২০০০ সালের পর হঠাৎ করে গ্রামের মানুষ শহর মুখি হওয়ার জন্য হিড়িক জমে উঠে। যার যার অবস্থান থেকে প্রায় ৯০ ভাগ অর্থশালীরা শহর মুখি হওয়ার জন্য হাজীগঞ্জ বাজারে জায়গা কেনার জন্য জায়গা খোঁজতে থাকে। ২০০৫ সালের পর গ্রামের মানুষ কখন হাজীগঞ্জ পৌর এলাকায় এক খন্ড জমি কিনবে তার জন্য ছুটাছুটি শুরু করে। কে কার আগে কিনবে। এভাবে পৌর এলাকাার মুলজায়গা বিক্রি শেষ এবং অনেকে খাল এবং করস্থানও বিক্রি করে দিয়েছে। মাত্র ১০ বছরের ব্যবধানে হাজীগঞ্জ বাজার একটি পরিপূর্ণ শহর হিসেবে রুপ নিয়েছে। পাশপা পাশি ব্যবসা বানিজ্য এবং জায়গার বিক্রিকারিরা ও দালালরা রাতারাতি ধনি হয়ে যায়। এখন হাজীগঞ্জ বাজারে বা পৌর এলাকায় ঘুরলে কেউ বুঝবে না এটা একটা উপজেলা। মনে করবে এ জেলা শহর। কানায় কানায় ১ থেকে ১২ তলা পর্যন্ত বাসা বাড়ী, বানিজ্যিক ভবন, মার্কেট আরো কত কি। পাশাপাশি স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও অনেক বেশি।
যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার কারণে ভাড়াটিয়ারা নিজ গ্রামেঃ
এর মধ্যে এ সরকারে আমলে হাজীগঞ্জের প্রত্যেকটি ইউনিয়নের প্রতিটি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় আনুধিকতায় নতুন ভবন, গুনগত শিক, শিার মান উন্নত, প্রতিটি ওয়ার্ডে রাস্তাঘাট পাকা বড়-ছোট ব্রীজ কালভাটসহ পুরো উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত সারাদেশের সাথে হাজীগঞ্জের যোগাযোগসহ নানা কারণে গ্রাম হয়ে যায় শহর। আবার ফিরতে শুরু করে নিজ গ্রামে। নিজ গ্রাম থেকে শহরে আসতে সময় লাগে অনেক কম। প্রতি মাসে প্রতিটি পরিবারের জন্য কম পে ৩০ হাজার টাকা খরচ কম। পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যবস্থাও উন্নত। ঘরে বসে দেশ বিদেশ কথাবলতে পারে নিরিবিলি। সব মিলিয়ে শহর থেকে গ্রামে বসবাস এখন শান্তি।
প্রবাসীদের বউ-সন্তানের উপর আস্তা ও বিশ্বাস নেই।
অনেক বিদেশির স্ত্রীরা ছেলে মেয়েকে ভালো স্কুল-কলেজে পড়ানোর জন্য চলে আসে শহরে। প্রথম কয়েক মাস ভালোভাবে চললেও তার পর থেকে জড়িয়ে পড়েন নান অপকর্মে। প্রেম-প্রীতি, পরকিয়া, উধাও হয়ে যাওয়াসহ নানা হিসাব নিকাশ পাল্টে যায়। যার করণে বিদেশিদের স্ত্রী-সন্তানদের বদনাম দেশবিশে ছড়িয়ে গেছে। নিরুপায় হয়ে এবং অনেকে সংসার টিকানোর জন্য বাধ্য হয়ে স্ত্রী-সন্তার উপর আস্তা হারিয়ে পেলে। যার কারণে বাধ্য হয়ে গ্রামে চলে যেতে হয় স্ত্রী-সন্তানকে।
বিভিন্ন ব্যক্তিদের টাকা নিয়ে কো-অপারেটিভ উধাও।
পৌর এলকায় নতুন নতুন ভবন তৈরি করার সাথে সাথে এক শ্রেনীর টাউট বাটপাররা সরকারের কিছু কাউয়ালীগের কর্মীদের সাথে যুক্ত হয়ে প্রভাব খাটিয়ে সরকার থেকে কো-অপারেটিভের অনুমোদন নিয়ে ভবন ভাড়া নেয় অধিক মুল্য। এ টাউটরা বিদেশি স্ত্রীদের কে বেশি টাকার লোভ দেখিয়ে জমানো টাকা নেয়। এ ভাবে আদায় করতে থাকে কয়েক কোটি টাকা। কয়েক মাস তাদেরকে জমা টাকার লাভ দিলেও পরে তান বাহানা করতে শুরু করে। যখন পুরো টাকা ফেরত চাওয়া হয় তখন টাউরা (১৪৪টি কো- অপারেটিভ) হাজীগঞ্জে থেকে ৩শত কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায়। যারা টাকা জামা দিয়েছে তারা এখন রাস্তায় রাস্তায়। এর মধ্যে ৩ভাগ মানুষ মামলা এবং সামাজিক ভাবে টাকা আদায় করা সম্ভব হয়েছে আর বাকীরা সবাই দিশেহারা। এ টাকাকে কেন্দ্র করে অনেকের সংসার বিছ্ন্নিসহ নানা ঘটনা ঘটে।
বহিরাগতরা হঠাৎ পালিয়ে যাওয়া।
দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক সহিসংতা এবং নানা সমস্যার কারণে শান্তির হাজীগঞ্জে বসবাস করার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসতে শুরু করে। আর জায়গার মালিকরা এ সুযোকে ব্যাংক থেকে টাকা ঋন নিয়ে রাতারাতি ভবন নির্মান করে ফেলে। যে বাসা ভাড়া ২/৩ হাজার টাকা সেটা ৮/১০ হাজার টাকা। এ ভাবে কয়েক মাস গেলে ভাড়াটিয়ারা বাসা ভাড়া দেয়া বন্ধ করে দেয়। বাড়ীর মালিক টাকা চাইলে দিতেছি বা দিচ্চি বলে আরো কয়েক মাস পর রাতে আধারে পালি য্য়া। বাড়ীর মালিকরা আর খুজে পায় না।
বাড়ীর মালিকরা ভাটিয়ার সাথে খারাপ আচরণ।
বাড়ীর মালিকদের ভাড়া টিয়ার চাপের কারণে বসবাসরত ভাড়াটিয়ার সাথে প্রতি নিয়ত খারাপ আচরণ করতে শুরু করে। এক বছর না যেতেই বাসা বাড়া বৃদ্ধি করে। প্রতিবাদ করলে বাড়ীর মালিকরা বলে থাকলে থাকেন না থাকলে বাসা ছেড়ে দেন। ভাড়া টিয়ার অভাব নেই। ঠিকমত ভাড়াটিয়ার সাথে ভালো ব্যবহার করে না। ভাড়াটিয়ার কোন সমস্যা সমাধান করেন না। ধমকা ধমকি করে বাড়াটিয়াকে বের করে দেয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে বাড়ীর মালিকে বিরুদ্ধে।
ভবনের আয়ের চেয়ে টেক্স বেশি।
ভবন মালিকরা অভিযোগ করে বলেন কোটি কোটি টাকা দিয়ে ভবন তৈরি করেছি আয় করা জন্য। কিন্তু যে পরিমান টাকা দিয়ে ভবন তৈরি করেছি সে পরিমান কোন ভাড়া আসে না। ব্যাংক ঋনের টাকা দেয়া আমাদের জন্য কষ্টকর। তার পরে আবার পৌর টেক্স এবং আয়কর দিতে হয়। সব মিলিয়ে ভবনের আয়ের চেয়ে টেক্স বেশি দিতে হয়। আর এখন আগের মতো ভাড়াটিয়ারা গায়ে পড়ে না। বাড়াটিয়া খুজে পাওয়া এখন অনেক কঠিন। শত শত ভবন হয়েছে। গ্রাম এখন অনেক উন্নত হয়েছে। মানুষ গ্রামে চলে যাচ্ছে।
প্রশাসন কর্তৃক ভাড়াটিয়ার তথ্য সংগ্রহ
সরাদেশে বাসাবাড়ীতে বাসা ভাড়া নিয়ে জঙ্গী, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়ে যায় ভাড়াটিয়ারা তখন প্রশাসন কর্তৃক ভাড়াটিয়ার তথ্য সংগ্রহ শুরু করে চাঁদপুরসহ হাজীগঞ্জেও। যখনই প্রশান কর্তৃক ভাড়াটিয়ার তথ্যর জন্য ফরম পুরুনের জন্য ফরম দেয়া হয় তখনই ভাড়াটিয়ারা রাতা রাতি বাসা ভাড়া ছেড়ে চলে যায়। এ ভাবে ৬ মাসে মাথায় হাজীগঞ্জের প্রায় ৬০ ভাগ বাসা খালি হয়ে গেরে বাড়ীর মালিকদের মাথায় হাত পড়ে যায়। খোজ নিয়ে যানাযায় অধিকাংশ ভাড়াটিয়া একে অপরের স্ত্রীর সাথে বসবাস করতো স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে। প্রতিবাদ করার মতো লোক ছিল না। যখনই প্রশাসন থেকে তথ্য চাওয়া হয় তখনই বের হয়ে আসে ভাড়াটিয়ার আসল খবর। তাই তথ্য না দিয়ে পালি যায় ভাড়াটিয়ারা।
ভাড়াটিয়ার অভাবে ব্যাংক ঋন পরিশোধ করা কঠিন।
সব মিলিয়ে বাড়ীর মালিকদের করুন অবস্থা। আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাড়ীর মালিকরা বাসা ভাড়া দেয়ার জন্য ভাড়াটিয়া খুজে পাওয়া কঠিন হবে। আর তাই যদি হয় তাহলে বাড়ী মালিক ছাড়া বাসায় বাড়া দেয়ার মতো লোক পাওয়া যাবে না।
এ ব্যপারে নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক কয়েকজন বাড়ীর মালিকের সাথে আমার কণ্ঠের প থেকে কথা হলে তারা বলেন কোন পাপ করছি কোটি কোটি টাকা দিয়ে বাড়ী বানিয়ে। যখন বাড়ী তৈরি করছি তখন দেখি ভাড়াটিয়ার অভাব নেই। এখন দেখি ভাড়া টিয়ার অভাব। ব্যাংক থেকে ঋন নিয়ে বাড়ী বানিয়েছি এখন ব্যাংক ঋন পরিশোধ করতে পারিনা। যে পরিমান ভাড়া আসে তা দিয়ে ব্য্ংাক ঋন এবং আয় কর ও টেক্স দেয়া কঠিন। আগামী ক বছরের মধ্যে ভাড়াটিয়া পাওয়া যাবে না। কি কারণে পাওয়ার যাবেনা জানতে চাইলে তারা বলেন গ্রাম এখন উন্নত এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হয়ে গেছে। বিদেশেী বউ-সন্তানের বদনাম বেশি হয়েছে। গ্রামের স্কুল কলেজ মাদ্রাসার শিা ব্যবস্থা উন্নত এবং হাজীগঞ্জে চাহিদার চেয়ে বেশি বাড়ী বা ভবন হয়েছে। যার কারণে আমাদের অভিষৎ খারাপ। আমরা এখন বাড়ী বিক্রি ছাড়া কোন উপায় নেই। বাড়ী বিক্রি করে ব্যাংক ঋন পরিশোধ করতে পারলেই বাচিঁ।
