জিসান আহমেদ নান্নু, কচুয়া ॥
কচুয়া উপজেলার ১নং সাচার ইউনিয়নের সাচার বাজার সংলগ্ন সাচার-বায়েক খাল ঘেসা পূর্ব পাশে রাজারামপুর গ্রাম। এ গ্রামের অধিকাংশ মানুষ তাদের পূর্ব পুরুষদের দেখানো পথ অনুসারে শুটকি ব্যবসা করছেন। ফলে যুগে যুগে রাজারামপুর গ্রামটি শুটকি পাড়া হিসেবে এলাকাবাসীর কাছে পরিচিত। মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, পিতা আব্দুস সাত্তার, বয়স ৪৫ ছুই ছুই। বাপ-দাদার বংশগত পেশা হিসেবে তিনি ছোট বেলা থেকেই শুটকির ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছেন। জাহাঙ্গীর আলম ছাড়াও রাজারামপুর গ্রামে পেশাধারী হিসেবে ৭/৮টি পরিবার বংশগত ভাবেই শুটকি ব্যবসা করে আসছেন।
সরে জমিনে জানা গেছে, এ গ্রামের শুটকি ব্যবসায়ীরা অক্টোবরের শুরু থেকে বর্ষার শেষ সময়ে স্থানীয় খড়ো জাল, বেল জাল ও হেলনি জালসহ বিভিন্নভাবে মাছ ক্রয় ও সংগ্রহ করে। মাছ গুলো প্রথমে দুয়ে পরিস্কার করে লবন জাত করে মাছা তৈরি করে টানা ৭/৮দিন রেখে ভালোভাবে শুকিয়ে শুটকি তৈরি করে। পরে শুটকি গুলো বেছে ছোট ও বড় আকারের দুভাগে বিভক্ত করে বাজার জাত করে। সাচারের রাজারামপুর গ্রামের শুটকি ব্যবসায়ীরা দিনরাত হাড়ভাঙ্গা পরিশ্র্রম করে উৎপাদিত শুটকি বি-বাড়িয়ার রামচন্দ্রপুর, কুমিল্লা, ঢাকা ও ভারতে পাইকারদের কাছে বিক্রি করে থাকেন। শুটকি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী তাসলিমা বেগম জানান, চলতি বছরের শুরুতেই তিনি বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে ঋণ গ্রহণ করে প্রায় ৩লক্ষ টাকার মাছ ক্রয় করে শুটকি তৈরি করে। কিন্তু বর্তমানে ভারতের সাথে বাংলাদেশের শুটকি ব্যবসায় রপ্তানি না থাকায় তাদের লোকসান গুনতে হবে। আর ভারতের মৌদী সরকার বাংলাদেশ থেকে শুটকি ব্যবসায় আমদানি বন্ধ করায় স্থানীয় পাইকাররা শুটকি আমদানি না করায় রাজারামপুর, বায়েক, সাচার দাসপাড়া, নয়াকান্দি গ্রামের শতাধিক শুটকি ব্যবসায়ী পূজি হারিয়ে নিস্বঃ হওয়ার পথে রয়েছে। তিনি আরো জানান, এক মন কাঁচা মাছ ক্রয় করে শুকানোর পর প্রতি মনে (৪০ কেজিতে) ১০ থেকে ১২কেজি শুটকি হয়। একদিকে পাইকার ও শুটকি বাজার জাত করতে না পারায় নতুন করে মাছ ক্রয় করে শুটকি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে তার মতো অনেক পরিবার বিপাকে রয়েছেন বলেও তিনি জানান। পেশা বদল কিংবা তার ছেলে সন্তানদের এ পেশায় আনবেন কিনা এ বিষয়ে তিনি বলেন, বাপ-দাদার প্রতি সম্মান জানিয়ে ঐতিহ্যবাহী এ পেশা ধরে রেখেছি। ভবিষ্যতে ছেলে সন্তানদের এ পেশায় জড়াবেন না বলে তিনি জানান।
এ দিকে রাজারামপুর, সাচার, নয়াকান্দি, বায়েকের একাধিক শুটকি ব্যাবসায়ী জানিয়েছেন, উপজেলা মৎস্য বিভাগ কিংবা সরকারের কোন মহল থেকে পরামর্শ, প্রশিক্ষন ও সার্বিক সহযোগীতা দেয়া হয়নি। সরকারের সার্বিক সহযোগীতা ও প্রশিক্ষন পেলে গরীব ও অসহায় শুটকি ব্যবসায়ীরা উপকৃত হতো।
এ ব্যাপারে কচুয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিপ্লব দাস জানান, রাজারামপুর গ্রামে শুটকি ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম বাস্তবে পরিদর্শন করেছি। যতদূর শুনেছি শুটকি ব্যবসায়ীদের অনেকেই স্থানীয় বাসিন্দা নয়। এ মুহূর্তে মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে এদের প্রশিক্ষন সহায়তা করার কোন সুযোগ নেই। তবে স্থানীয় বার্ডের মাধ্যমে তাদের প্রশিক্ষন কিংবা সহায়তা করা যায় কিনা তা আলাপ করে দেখবো।
