সম্পাদকীয়-
বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ৪২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে প্রথমে উপজেলা আওয়ামী যুবলীগ তারপর গত ২৯ নভেম্বর, শনিবার পৌর যুবলীগ বর্ণাঢ্য র্যালি ও জনসভা করেছে। আমাদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, ইচ্ছে করলে উপজেলা যুবলীগ ও শহর যুবলীগ যৌথ ভাবে একটা জমকালো অনুষ্ঠান করতে পারতো। তা কেনো করা হলো না? যৌথ ভাবে অনুষ্ঠানটি করলে তাতে কি আওয়ামী রাজনীতির সংহত শক্তির প্রকাশ ঘটতো না? একই প্রধান অতিথির সতন্ত্র ভাবে পর পর দু’বার আসার প্রয়োজন হতো না। এও লক্ষ্য করেছি যে, শহর যুবলীগের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক অনুপস্থিত। এ ব্যাপারটা রাজনীতির ডেকোরামের দৃষ্টিতে অনিয়ম বলেই মনে হয়। শহর যুবলীগের অনুষ্ঠানে কেনো উপজেলা যুবলীগের নেতৃবৃন্দ থাকবেন না? এতে কি প্রমাণিত হয় না যুবলীগের অন্দর মহলে কোন্দল বিরাজ করছে? শহর যুবলীগের আহবায়কের স্বাগত বক্তব্যের মধ্যেও বিভাজনের সুর ছিলো, তা লক্ষ্য না করে পারিনি।
যুবলীগ আয়োজিত জনসভায় বিশেষ অতিথির ভাষণে উপজেলা চেয়ারম্যান, অধ্যাপক আবদুর রশীদ মজুমদার চমৎকার গোছানো একটি বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু তিনি উপজেলা যুবলীগের অনুষ্ঠানে ছিলেন না কেন? আমরা জানি অতি সম্প্রতি তার প্রিয়তমা পতœীর বিয়োগ ঘটেছে। তিনি হয়তো স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে উদ্বিগ্ন ও ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু তার সঙ্গে উপজেলা যুবলীগের নেতৃবৃন্দ কোনো যোগাযোগ করেছে কিনা তা আমরা জানিনা। তার একটি বিবৃতিও অনুষ্ঠানে প্রচার করা যেতো। একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অভিভাবককে এভাবে সম্মান দিলে অনুষ্ঠানের মর্যাদা বৃদ্ধি পেতো। অধ্যাপক আবদুর রশীদ মজুমদারকে পাশ কাটিয়ে হাজীগঞ্জের আওয়ামী রাজনীতি লাভবান হবে না, আমাদের অভিজ্ঞতা এ কথাই বলে।
যাহাকে, আওয়ামী যুবলীগের অভ্যন্তর মহলে কোনো বিভাজন না থাকুক আমরা তা চাই। আমাদের চারপাশে স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি ভয়ংকর রূপ নিয়ে খাড়া হয়ে আছে। তারা বিভাজনই কামনা করে। অনৈক্য ছাড়া বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকদের পরাজিত করা সম্ভব নয়, এ কথা শত্র“রা জানে।
যুবলীগের পর পর দুটো অনুষ্ঠানেই প্রধান অতিথির ভাষণে মেজর রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন। উপজেলা যুবলীগের অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘মৌলবাদীরা মানুষকে ধর্মান্ধতার পথে নিয়ে যায়, ধর্মের পথে নেয় না।’ এটা যুক্তি সঙ্গত কথা। শুধুমাত্র জামায়াত- শিবিরের কারণে দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ ধর্মান্ধ-বর্বরতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি শহর যুবলীগের অনুষ্ঠানে বলেছেন, হাজীগঞ্জ-শহরাস্তির গরিব-দুঃখী মানুষের ঘরে ঘরে সোলার বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবেন। মহৎ অভিপ্রায়। একাজে তিনি সফল হউন আমরা তা চাই। তার প্রচেষ্টায় গরিব-দুঃখী মেহনতী মানুষের ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলে উঠুক, এটা সকলের প্রত্যাশা।
মেজর সাহেব তার মূল্যবান ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন মূলক কর্মপরিধির একটা রূপরেখা তুলে ধরলেন। পর পর দুটো সমুদ্র বিজয়ের কথা বললেন। বললেন শেখ হাসিনার উদ্যোগ এবং তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে আজ পাঁড়াগাঁয়ও তথ্য প্রযুক্তি পৌঁছে গেছে। এরপর তিনি বললেন গত একহাজার বছরে হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তিতে যে উন্নয়ন হয়নি, তিনি সে উন্নয়ন করেছেন। ২০০ শত ব্রিজ কালভার্ট করেছেন, প্রায় ৩০০ কিলো মিটার রাস্তা পাকা করেছেন। হাজীগঞ্জ থেকে ঢাকা-কুমিল্লা যাওয়ার পথে টোরাগড়ের মাথায় সাংঘাতিক প্রয়োজনীয় ব্রিজটি করে দিয়েছেন। অবশ্যই তার কর্মতৎপরতা প্রশংসনীয়।
মেজর সাহেবের প্রতি অনুরোধ, তিনি যেন হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক-সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির চর্চাটা আরো একটু মনোযোগ দিয়ে করেন। তাকে অভিন্দন। জয় বাংলা।
