মোঃ কামাল হোসেন
হাজীগঞ্জের পশ্চিম, দক্ষিণ বলাখাল ও নদীর দক্ষিণের একটি অঞ্চল। এ অঞ্চল তিনটি উপজেলার মধ্যস্থল। যারা এ এলাকায় বসবাস করে তারা না যেতে পারে হাজীগঞ্জ, না পারে চাঁদপুর না পারে রামগঞ্জ যেতে। তার পরেও যার যেখানে সুবিধা বা কাজ কর্ম তারা সেখাই যেতে হয়। কিন্তু এ এলাকাগুলো থেকে বের হতে হলে নানান সমস্যা। তার মধ্যে বড় সমস্য যোগাযোগ ব্যবস্থা। তার পরেও করার কিছু নেই। যেতেই হবে বাঁচতে হলে। যোগযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের দাবী আদায়ের জন্য তারা সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছিলেন দীর্ঘ ৪০ বছর। এ ৪০ বছরে অনেক এমপি বা মন্ত্রী কথা দিয়েছে এ এলাকার যোগযোগ ব্যবস্থা উন্নত করবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় কেউ কথা রাখেনি। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণসংযোগের সময় হাজীগঞ্জ উপজেলার ৭নং বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম এলাকায় গণসংযোগে গেলে সাধারণ মানুষ ও আশপাশের এলাকার মানুষ তাঁর কাছে শুধুমাত্র বলাখাল-রামচন্দ্রপুর সেতু নির্মান করার জন্য দাবী ও অনুরোধ জানায়। তারা আরো বলেন, আমাদেরকে এ দীপ থেকে বাঁচানোর জন্য একটাই পথ তা হলো রামচন্দ্রপুর-বলাখাল নদীর উপর সেতু করে দিতে হবে। মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম ঐ সময় সাধারণ মানুষের উদ্যেশ্য বলেছিলেন, আমি নির্বাচিত হলে আপনাদের এ দাবী পুরণ করতে চেষ্ঠা করবো। ঐ নির্বাচনে মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হন। এমপি হওয়ার পর এ সেতুটি নির্মান করার জন্য শুরু করেন নানা পরিকল্পা। এর মধ্যে কেটে গেলো দুই বছর। এলাকার মানুষ আশা নিয়ে নিশ্চুপ। কবে হবে তাদের আশার এবং স্বপ্নের সেতুর সুখবর। এর মধ্যেই টেন্ডার হয়ে গেলে। রাজনৈতিক কয়েকজন ছাড়া কেউ তেমন একটা জানে না। স্বপ্নের সেতু নির্মাণ কাজ শরুর জন্য সকল কিছুর প্রস্তুতি শেষে গত ১৩ ডিসেম্বর ২০১০ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে জনগুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করেন এবং ঐদিন নদীর দক্ষিণ পাড়ে অর্থাৎ রামচন্দ্রপুর সিমানায় এক জনসভার আয়োজন করার হয়। ঐ জনসভায় মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম প্রধান অতিথির বক্তব্য বলেন, আমি নির্বাচনী গণসংযোগের সময় আপনারা আমার কাছে এ সেতুটি করার জন্য দাবি জানিয়ে ছিলেন। আমি আপনাদের দাবীরসাথে এক হয়ে চেষ্ঠা করে (আজ ১৩ ডিসেম্বর) আপনাদের বহু প্রত্যাশিত ও জনগুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটির আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলাম এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসেতুর নির্মান কাজ শেষ হলে আপনারা এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের আর কোন দুর্ভোগ হবে না।
বলাখাল-রামচন্দ্রপুর সেতুটির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এম ইউ (বাশি)-এম এ এইচ(জেভি)র সেতুটির নির্মাণ কাজ না করে সরে যায়। পরে সেতুটির কাজ শেষ করার জন্য আবারো নতুন করে টেন্ডার দেয়া হয় ২০১৩ সালের এপ্রিলে। ঐ টেন্ডারে মেসার্স প্রগতি কনসুডিয়াম ফার্ম সেতুটির নির্মাণ কাজ পায়। এর পর থেকে তারা সেতুটি নির্মাণের জন্য দ্রুত কাজ শুরু করে। বর্তমানে সেতুটির নির্মাণ কাজ প্রায় ৯৮ ভাগ শেষ হয়েছে। বাকী কাজ আর মাত্র ১০/১৫ দিন করলেই শেষ হবে।
এ ব্যাপারে হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আশরাফ জামিলের সাথে কথা হলে তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, আমাদের এমপি সাহেব এ সেতুটি দ্রুতি নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য সার্বক্ষনিক মনিটরিং করছেন। শুধুমাত্র তাঁর সহযোগিতায়ই সম্ভব হয়েছে এ সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করতে। এ বছরের মধ্যেই আমরা এ সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে পারবো। তিনি বলেন এ সেতু নির্মাণ হওয়াতে দক্ষিণ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবী পুরুণ করলেন মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম। এ ভাবে আমাদের স্যার সকল উন্নয়নে তদারিক করে থাকেন। যার কারণে আমাদের যে কোন উন্নয়ন কাজ আমরা দ্রুত শেষ করা সম্ভব হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮০.৩২ মিটার। সেতুটি বাস্তবায়ন করছেন এলজিইডি ও হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগ।
এ দিকে বলাখাল- রামচন্দ্রপুর সেতুর আশপাশ অত্যান্ত সুন্দর এলাকা। এ এলাকার মধ্যে বিনোদনের জন্য পর্যটন কেন্দ্র করা হলে রাজস্ব আয় হবে বলে অনেকে মনে করেন।
এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে কথা হলে তারা বলেন আমরা মেজর অব রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম এর কাছে কৃতজ্ঞ। যার কারণে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ এবং আগামী প্রজন্ম সহজে দেশের যে কোন জায়গায় যেতে আর কোন সমস্য হবে না। তারা বলেন এই ঋন সুযোগ পেলে শোধ করা চেষ্ঠা করবো।