হাজীগঞ্জ পশ্চিমবাজারে অবস্থিত ১৩৯ বছরের হিন্দু সম্প্রদায়ের শীর্ষ ধর্মী প্রতিষ্ঠান শ্রী শ্রী রাজা লী নারায়ণ জিউর আখড়া। এতো বছর শান্তিপূর্ণ ভাবে এ প্রতিতিষ্ঠা চললেও ২০০০ সালের পর থেকে এ প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি একটি চক্র অবৈধ ভাবে দখল করতে শুরু করে। তখন এ প্রতিষ্ঠানের সামনে ছিল একটি খাল। এ খালের জায়গায় হলো আখড়ার মালিকানা। ২০০৬-২০০৭ সালে তত্বাবাধায়ক সরকার মতায় আসার পর অবৈধ ভাবে দখলে থাকার আখড়ার সম্পত্তি উদ্ধাররের জন্য কমিটির সভাপতি গৌরপদ সাহা ও প্রবীর কুমারসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন প্রশাসনের হস্তকে হলে প্রশাসন (সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আনিছুর রহমান)সহ প্রশানের কর্মকর্তারা দীর্ঘ সময় যুদ্ধ করে আখড়ার এ সম্পত্তি উদ্ধার করে আদালতের মাধ্যমে। পরে প্রতিষ্ঠানের আয়ের জন্য এবং নিরাপত্তার জন্য এখানের বালু ভরাট করে বিশাল মার্কেট তৈরি করে। যা হাজীগঞ্জের ইতিহাসে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য মাইলফলক। কিন্তু একটি গুষ্টি নানা প্রবাকান্ড শুরু করলে কমিটির সভাপতি গৌরাপদ ও প্রবীর কুমার সাহা মতা ছেড়ে দিয়ে নতুন করে কমিটি গঠন করে ২০০৯ সালে। সভাপতি নারায়ন মন্ডল ও দিলিপ কুমার সাহাসহ তিন বছরের জন্য কমিটি গঠন করা হয় এ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য। তারা তিন বছরের মধ্যে এ প্রতিষ্ঠানের কোন উন্নয়ন না করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভক্ত সৃষ্টি করে উত্তেজনা ও সহিংসতার মতো ঘটনার রুপ নেয়। হিসাব অনুযায়ী ২০১২ সালে তাদের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এ কমিটি নতুন করে কমিটি গঠন না করে তারা জোর করে আকড়ে ধরে রাখে এবং প্রতিষ্ঠানের অর্থ নয় ছয় করার মতো ঘটনায় জড়ি পড়ে। এনিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও রানৈতিক কর্মাদের সাথে বহুবার বৈঠক হলেও কোন সুরা হয়নি। তবে নতুন কমিটি গঠনের জন্য হালনাগাদ ভোটার তালিকা তৈরি করে নতুন কমিটি গঠনের জন্য পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু এ কমিটি তাদের ইচ্ছে মতো কিছু লোককে একত্রে করে ভোটার বানায়। আর যারা এ প্রতিষ্ঠানের জন্য এবং প্রতিষ্ঠানের স¤পত্তি উদ্ধার করেছেন তাদেরকে ভোটা বানায়নি। তারা আবার মতায় আসার জন্য নতুন করে নির্বাচন দিলে আবারো হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরে যুগল সরকার নামে একজন হিন্দু আখড়ার সম্পত্তি রা ও অর্থ হরিলুট এবং বর্তমান অবৈধ কমিটির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে। আদালত র্দী শুনে এ কমিটির সকল কর্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য নিদের্শ দেন এবং রিসিভার হিসাবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন মনি সুত্রধরকে দায়িত্ব দেন এবং রনা বেন করার জন্য মতা দেন। তবে হিন্দুদের সেবার সকল কার্যক্রম চলবে। সে মোতাবেক ১৬ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আদালতের মতা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ওসি আখড়ায় গিয়ে বর্তমান কমিটিকে বিষয়টি অবহিত করতে চাইলে উপস্থিত আখড়া কমিটির লোকজন প্রশাসনের উপর প্তি হয়ে অশালীল ভাষায় কথা বলে। যা প্রশাসনের জন্য অপমানজনক। এ নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আবারোা উত্তেজনা হয়ে উঠে এবং একে অপর কে ধাক্কা পর্যন্ত দেয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ দুপকে সরিয়ে দেয়। বিকালে আবারো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষি অফিসার নয়ন মনি সুত্রধর বর্তমান কমিটিকে আসতে বললে তারা আর আসেনি। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আখড়ার সমনে আদালতে নির্দেশ সম্বলিত একটি সাইবোর্ড লাগিয়ে দেয় এবং আখড়া অফিসে দুটি তালা লাগিয়ে দেয়। আর মন্দিরের পুজা অর্চ্ছনা ও নিত্যনৈতক কাজের জন্য পুজারিকে দায়িত্ব কাজ সম্পন্ন করার জন্য পুজারিকে দায়িত্ব দেয়া হয় এবং তাকে সহযোগিতা করার জন্য প্যানাল মেয়র ও কাউন্সিলরসহ তিনজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। পরে দায়িত্ব প্রাপ্তকর্মকর্তা থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নয়ন মনি সূত্র ধর বলেন, আদালতের নির্দেশ পালনের জন্য আমি এবং উপজেলা প্রশাসনের সর্বচ্চো কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুবুর রহামান মজুমদার, এ্যাসিল্যান্ড ও সাবেক ওসি শাহ আলমসহ আমরা আখড়ায় গিয়ে বর্তমান কিমিটিকে অবগত করা অবস্থায় বর্তমান কমিটির আমাদের উপর আক্রমাত্বক হয়ে উঠে এবং অশালীল ভাষায় কথা বলে এবং এক পর্যায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজিত হয়ে উঠে। পরে পুলিশ প্রশাসন দু পকে সরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি শান্ত হয়ে বর্তমান কমিটির লোকজন অফিসে তাল্ ামেরে চলে যায়। বিকালে আবারো আমি আখড়ায় গিয়ে বর্তমান কমিটিকে ডাকলে তারা না এসে একজনকে দিয়ে নোটিস নিয়ে যায়। পরে আমরা অফিস কে তারা মেরে দেই এবং আদালতের নির্দেশ মোতাবেক একটি ব্যনার টাঙ্গিয়ে দেই। আর মন্দির তত্বাবাধায়ন করার জন্য স্তানীয় কাউন্সিলরসহ তিনকে দায়িত্ব দিয়ে আসি।
কয়েকদিন পরে বর্তমান কমিটি রিসিভারের স্থগিত করার জন্য আদলতে আবেদন করলে আদালত রিসিভার স্থগিত করে এবং
এদিকে মন্দিরের দু’টি কমিটির দ্বন্দ্বের জের হিসেবে শেষ পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন ওই মন্দির ও এর আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করতে বাধ্য হয়েছে। বুধবার দুপুর থেকে টানা ৫ দিন হাজীগঞ্জ লক্ষ্মী নারায়ণ জিউড় আখড়ার ২শ’ গজের মধ্যে এই আদেশ বলবৎ থাকবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম মজুমদার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারে অবস্থিত শ্রী শ্রী রাজা লক্ষ্মী নারায়ণ জিউড় আখড়া কমিটি নিয়ে ক’ বছর ধরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দু’টি পরে মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। দুই প পৃথক দু’টি কমিটি করে আখড়ার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করে। এ নিয়ে একাধিকবার দু’ পরে মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। উভয় পরে কমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।এক পরে নেতৃত্বে রয়েছেন দিলীপ কুমার সাহা আর অপর পরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন গৌরপদ সাহা। বুধবার বিকেলে আখড়া প্রাঙ্গণে ৫ দিনব্যাপী বাৎসরিক হরিনাম কীর্তন করার জন্য দুই প সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। এতে করে দু’ পরে মধ্যেই সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দেয়। ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসন জানার পর আখড়ার আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করে।
আখড়া পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি গৌরপদ সাহা বলেন, আদালতের নির্দেশ রয়েছে ভক্তবৃন্দ ছাড়া কোনো প মন্দির প্রাঙ্গণে কোনো অনুষ্ঠান করতে পারবে না। দিলীপ কুমার গং অবৈধ কমিটি নিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। অপরদিকে সাধারণ ভক্তবৃন্দ একইস্থানে কীর্তনের প্রস্তুতি নিলে প্রশাসন এই ১৪৪ ধারা জারি করে ।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাবেদুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙ্খলা রার্থে আখড়া প্রাঙ্গণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত দু’ পকে সব ধরনের অনুষ্ঠান পালন থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম মজুমদার জানান, তাদের নিজেদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা দেখা দিলে আমরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে সাথে যোগাযোগ করে ১৪৪ ধারা জারি করেছি। এর মধ্যে কেউ কোন রকমের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ নিয়ে হাজীগঞ্জের সুশিল সমাজের কয়েকজনের সাথে এ প্রতিনিধির সাথে কথা হলে তারা বলেন আখড়া নিয়ে যে খেলা চলছে তা বন্ধ করতে হবে। আমরা চাইনা প্রায় দেড়শত বছরের পুরোনো এ হিন্দু ধর্মী প্রতিষ্ঠান নিয়ে কোন অপশক্তি রাজনীতি বা কোন অর্থ লোভীদের দ্বারা ধবংস হয়ে যাক। তাই যত দ্রুত সম্ভব এ খেলা বন্ধ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরে আসুক। তবে প্রশাসনের প থেকে একটি উদ্যোগ নিয়ে ্এ সমস্যা সমাধান করতে হবে। তা না হয় এ সম্প্রদায়ের মধ্যে যে কোন সময় দাঙ্গা হতে পারে।
