আমার কণ্ঠ রিপোর্ট
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ একটি নত্র রাজনৈতিক দল। এ দল বাংলাশে নামক রাষ্ট্রের জন্য এক ইতিহাস। বাংলাদেশর স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পাকিস্তান বিরোধী যুদ্ধ করে এদেশের মানুষ স্বাধীনতা এনেছিল। কিন্তু বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ যতবারই দুঃসময় ছিল ততবারই সুবিধাভোগীরা দুরে সরে গেছে। আবার যখন আওয়ামীলীগের সুসময় আসে তখন আবারো একটি সুবিধাবাদী গ্র“প মাথা নাড়া দিয়ে উঠে সুবিধা নিয়ে ডুব দেয়। ১৯৯৬ সালের আগে আওয়ামীলীগের জন্য বহুবার দুঃসময় ছিল। কিন্তু হাতে গনা কিছু নেতাকর্মী ছাড়া কাউকে পাওয়া যায়নি। সুবিধাবাদীরা তৎকালিন সরকারের সাথে হাত হাত মিলিছে চলছে এবং নিজের সুবিধাটাকে বেশি দেখেছে। আর যারা তৎকালিন সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম করেছে এবং বিনিময় জেল ঝুলুমসহ অসংখ্য নেতাক খুন হয়েছে তখল অনেককে পাওয়া যায়নি। একমাত্র যারা দলেন এবং বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসেন তারাই ছিলেন রাজপথে। এ রক্তের বিনিমিয় ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ মতায় আসার পর হাজীগঞ্জের মধ্যেও একটি গ্র“প সুবিধা নেয়ার জন্য মিশে যায় সরকারের সাথে। সুবিধা নিতে শুরু করে সুবিধাবাধিরা। তখনও ত্যাগী নেতাকর্মীরা সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তার পরেও ত্যাগী নেতাকর্মীরা দল ত্যাগ করেননি। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত মতায় আসলে আবারো শুরু হয় আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদের উপর অত্যাচার, মামলা-হামলাসহ নানা অত্যাচার। অশংখ্য নেতাকর্মী বাড়ী ছাড়া হয়ে পড়ে। জ্বালিয়ে দেয়া হয় দলীয় কার্যলয়সহ বাড়ী-ঘর। তখন পাওয়া যায়নি সুবিধাবাদীরা। ঐ সময় সুবিধাবাধিরা নিজের রার জন্য পালিয়ে যায় এবং সরকারের নেতাকর্মীদের সাথে মিশে যায়। ২০০৬ সালের পর তত্বাবাধায়ক সরকার মতায় আসলে দলের জন্য কঠিন সময় হলে এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়। তখন শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনের জন্য হাজীগঞ্জে ২০/৪০জন কর্মী আন্দোলন করলেও আনেক বড় বড় নেতাকে মাঠে দেখা যায়নি। বরং তাদের আতœরার জন্য আতœগোপনে চলে য্য়া এবং তাদের অর্থ রার জন্য কেটে পড়েন।
১/১১ সরকার বিরোধী আন্দোলনে আওয়ামীলীগের বহু কর্মী তবিত হলেও রাজপথ ছেড়ে য্য়া নি। তারা তাদের নেত্রীর জন্য এবং আওয়ামীলীগকে মতায় আনার জন্য আন্দোলন চালিয়ে গেছে। তারই ফসল হিসেবে ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ মতায় আসে। আওয়ামীলীগ মতায় আসার পর আবারো সুবিধাবাদী চক্র গজে উঠে। ওয়ার্ড থেকে ইউনিয়ন এবং ইউনিয়ন থেকে হাজীগঞ্জ উপজেলা পর্যন্ত। একটি পরিপূর্ণ নেটওয়ার্ক। শুরু হয় তাদের আধিপাত্ত। এমন কোন জায়গা নেই যেখানে সুবিধাবাদিরা সুযোগ না নিচ্ছে। আর তবিত নেতাকর্মীরা অসহায় হয়ে পড়েন। আর এ সুবিধাবাদি নেতাদের কারণে আওয়ামীলীগের শত শত কোটি টাকা উন্নয়ন নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। তার পরেও ত্যাগী নেতারা দলের হাল ছাড়েননি। দলের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মতায় আসে। কিন্তু সুবিধাবাদিরা বহাল তবিয়তে রয়েয়ে যায়।
গত ৮ বছরে হাজীগঞ্জ উপজেলা মেজর অব রফিকুল ইসলাম বীরউত্তমের এমপি নেতৃত্বে যে পরিমান উন্নয়ন হয়েছে তা ইতিহাস হয়ে থাকবে। এমন কোন জায়গা নেই যেখানে মেজর অব, রফিকুল ইসলামের উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। এতো উন্নয়ন করা হলেও সাধারণ মানুষের দৃষ্টির জন্য কোন প্রকার প্রচার প্রচারানা নেই এবং প্রচার প্রচারনা করার জন্য কোন উদ্যোগও নেই। তারপও থেমে নেই উন্নয়ন। আগামী দু বছরের মধ্যে হাজীগঞ্জে সকল সেক্টরের উন্নয়ন প্রায় ৮০ভাগ শেষ হয়ে যাবে। যা হাজীগঞ্জের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। আইনশৃঙ্খলার েেত্রও দেশের মডেল উপজেলা হিসেবে এক ইতিহাসিক।
হাজীগঞ্জ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে অনুসন্ধান করে এবং দলের ত্যাগী নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে গত ৮ বছরে আওয়ামীলীগ মতায় অবস্থায় হাজীগঞ্জের অথাৎ ওয়ার্ড থেকে ইউনিয়ন এবং ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যন্ত প্রায় ৩০ নেতা বহুধরনের সুবিধা গ্রহন করলেও ত্যাগি নেতাকর্মীরদের সুবিধার জন্য কোন উদ্যোগ বা খোজ খবর নেনি। এ ৩০ নেতা মাধ্যমে বিএনপির-জামায়াত চাকরী থেকে শুরু করে সকল ধরনের সুবিধা গ্রহন করে আসছে। মাধ্যমিক শিা প্রতিষ্ঠানে শিক নিয়োগের েেত্র ৮০ ভাগ জামায়াত কর্মী নিয়োগ পেয়েছে। প্রাথমিক শিা প্রতিষ্ঠানেও প্রায় ৭০ ভাগ জামায়াত কর্মীরা নিয়োগ পেয়েছে। কলেজ ও মাদ্রাসার েেত্রও একই ধরণের নিয়োগ হয়েছে। আর এ নিয়োগের েেত্র অর্থই ছিল মুখ্য বিষয়। এছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর েেত্রও জামায়াতের লোকজনই বেশি চাকরী পেয়েছে। সরকার বিরোধী আন্দোলনে পুলিশ বাদী মামলাগুলোতে যাদেরকে আসামী করা হয়েছে সে আসামীদেরকে ছেড়ে দেয়ার সুপারিশ ও মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য সুবিধাবাদিরা অর্থ বানিজ্য করেছেন বলেন অভিযোগ করা হয়। সব মিলিয়ে সরকার দলীয় ত্যাগি নেতাকর্মীরা সুবিধা না পেলেও বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা ঠিকই সুবিধা নিয়েছে।
বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে নাম প্রাকাশ না করা শর্তে(এ প্রতিনিধির কাছে রতি আছে) আওয়ামীলীগের ইউনিয়ন পর্যায়ের ত্যাগী নেতারা বলেন দলের জন্য আমরা জীবন দিয়ে কাজ করি। আর সুবিধা নিচ্ছে বিএনপির-জামায়াত কর্মীরা। আমাদের দলের ছেলেদের কোন চাকরী থেকে শুরু করে কোন জায়গা কোন সুবিধা নেই। কিছু দালাল রয়েছে দলের মধ্যে তারা অর্থের লোপে অন্যাদলের নেতাকর্মীদেরকে সুবিধা দিয়ে নিজেরা অর্থ হাতিয়ে নিছে। আর দলের দুঃসময় হলে আমাদেরকে খবর দিয়ে দলের জন্য কাজ করতে বলে। স্থানীয় ও উপজেলা ভিত্তিক কিছু নেতাদের আশ্রয়ে বিএনপি-জামায়াত সুুবিধা অবস্থানের রয়েছে। কিছু বললে উম্মক নেতা তুম্মক নেতা আমার আত্বীয়। এসব পরিচয় দিয়ে আমাদেরকে চাপি রাখে। সুবিধাবাদি নেতারা ভুলে যান আজ জামায়াতের যে সব নেতাদেরকে সুবিধা দিচ্ছে তারা কি আমার দলের মার্কায় ভোট দিবে?। কখনো দিব্ েনা আমার দলের মার্কায় ভোট। তা হলে কেন এদেরকে সুবিধা দেয়া হয়। এছাড়াও গত ৫/৬ বছর ধরে জামায়াতে কর্মীরা লীগ ব্যবহার করে কয়েকটি সংগঠরে নাম করে আধিপাত্য বিস্তার করে আসছে। প্রশাসনের কাছে গিয়ে উম্মক লীগের নেতা তোম্মক লীগের কর্মী পরিচয় দিয়ে সুবিধা নিচ্ছে। কিন্তু আমাদের দলের নেতাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই। তাই এখনো সময় আছে দলের কর্মীদেরকে মূল্যায়ন করে দলকে শক্তিশালি এবং সরকারের উন্নয়ন সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। তা না হলে আগামী নির্বাচনে কঠিন মূল্য দিতে হবে।
এদিকে একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, সারা দেশের ন্যায় হাজীগঞ্জেও সুবিধাবাদিদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। কারা কারা গত ৮ বছরে সুবিধা গ্রহন করেছে। খোজা হচ্ছো তাদের সকল কর্মকান্ডের খতিয়ান। এ খতিয়ান যাবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে। তারা বলেন আমরা নিরবে সকল খোজখবর নিচ্ছি। সব শেষ করে আমরা প্রধানমন্ত্রীর দফতরে প্রতিবেদন প্রেরণ করবো।
