বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :
বীরগঞ্জ উপজেলার প্রধান প্রধান নদীগুলোতে পানি নেই। ঢেপা নদীর বুকে চলছে চাষাবাদ। স্বাধীনতার পর নদীপথে পাল তুলে নৌকা চলাচল করেছে এ নদীতে। শতশত বাঁশ সাজিয়ে সদাগররা নদী পথে পঞ্চগড় থেকে দিনাজপুর, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে বিক্রি করেছে। ঢেপা নদীতে ব্রিজ না থাকার কারনে ২-৩ কিলোমিটার পরপর নৌকা ঘাটে মানুষ, গরু ও মহিষের গাড়ী, বরযাত্রীর পাল্কী, চাষিদের ধান, গম, পাট, ভুট্টা, আখ, আলু, আদা, মরিচ, পেয়াজ, বেগুন, সাইকেল ইত্যাদি পারাপারের একমাত্র মাধ্যম নৌকা।
বর্ষাকালে নদীর কানায় কানায় পানি থাকে। নদী ঘাটের ঘাটিয়ার মানুষ পারাপারের জন্য ছোট ছোট নৌকায় একজন মাঝী ও গরু, মহিষ ও ঘোড়া গাড়ী পারাপারের জন্য বড় নৌকায় একাধিক মাঝি থাকতো। বছর বিশেক আগে নৌকা ডুবিতে পাল্টাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানকে উদ্ধার করা হয়েছিল। কয়েকজন মারাও গিয়েছিল। কিন্তু আজ ঢেপা নদীর যৌবনতো নেই বর্ষাকালেও পানি নাই। নদীর বুক চিরে চলছে চাষাবাদ।
উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ১১০টি ওয়ার্ডের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদীর শাখা আত্রাই, পূর্ণভবা, ঢেপা ও নর্ত নদীতে পানি নাই। প্রতি বছর বর্ষাকালে এক বা একাধিকবার প্রবল বর্ষণ ও প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে উঁচু ও নিচু এলাকা পতিত হয়। পলিমাটিতে ঢেকে যায় এ এলাকার বালুচরগুলো।
সুযোগ সন্ধানী কিছু প্রান্তিক চাষি, বর্গাচাষি ও ভূমিহীন লোকজন স্ব স্ব ভূমি অফিসে গিয়ে উপসহকারী ইউনিয়ন ভূমি কর্তার সাথে যোগাযোগ করে অনেকে বালুচর দখল করে বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করছে, যা জাতীয় খাদ্যে মজুদে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এক শ্রেণীর প্রভাবশালী মহল বেশ কিছু (বালুচর) জমি দখল করে বর্গা চাষে দিয়ে অবৈধভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে ভূমিহীন মানুষের অভিযোগ। প্রভাবশালী মহলের ভয়ে কেহই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
