জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে আঠোরোর আগে ছেলে-মেয়েদেরকে শিশু ও কিশোর-কিশোরী হিসাবে বিবেচনা করে ১৮ পূর্ণ হওয়ার আগে বিয়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জাপান সরকার ২১ বছর বয়সে মেয়েদের বিয়ের বয়স নির্ধারণ করেছে। আমাদের ১৯২৯ সালের বিদ্যমান আইনেও মেয়েদের বিয়ের নূন্যতম বয়স ১৮। তাহলে হঠাৎ করে নতুন আইনে ‘প্যারেন্টস্ কনসেন্ট বা অভিভাবকের সম্মতির শর্ত দিয়ে ১৬ বছরেও বিয়ে দেওয়া যাবে। এ শর্তটি কেন যুক্ত করা হবে? ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনেও মেয়ের বিয়ের বয়স ১৮।
১৮ এর আগে কোনভাবেই মেয়েদের গড়ন সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে না। স্বামী-শ্বশুর শাশুড়ী নিয়ে ঘর-সংসার করার মতও মানসিকভাবে পরিপক্কতা আসে না। তাই কোন ভাবেই খসড়া আইনের যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একজন নারী। তিনি নারী হয়ে বুঝতে পারেন, নারীর অর্থনৈতিক মুক্তির প্রয়োজন। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রয়োজন। যদি শিক্ষা সম্পন্ন হওয়ার আগেই ১৬ তে বিয়ে হয়ে যায়, তাহলে কি অর্থনৈতিক মুক্তি মিলবে? দারিদ্র কি কমবে? জনসংখ্যার হার কি কমবে? নারীরা কি পরিপূর্ণভাবে সচেতন হয়ে সন্তান লালন-পালন করতে পারবে? তাই অবশ্যই ভেবে চিন্তে আরো আলোচনা পর্যালোচনা যাচাই বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বর্তমান সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ, ইউরোপ-আমেরিকার দোহাই দিয়ে আমাদের দেশেও ‘প্যারেন্টস্ কনসেন্ট অন্তর্ভূক্ত করে মা-বাবা চাইলে আদালতের সম্মতি নিয়ে ১৬ তে বিয়ে দিতে পারবেন বলে যে যুক্তি দিয়ে খসড়া আইনে ১৬ এর পক্ষে কথা বলেছেন তা প্রকৃত পক্ষে আমাদের দেশের জন্য প্রযোজ্য নয়। কারণ, আমাদের দেশ ইউরোপ-আমেরিকার মত উন্নত নয়। আমাদের নারীরা তাদের দেশের নারীদের মত স্বাধীনতা ভোগ করে না। তাদের দেশের মত আমাদের দেশের নারীরা এখনও সম-অধিকার ভোগ করে না। তাদের দেশের মত আমাদের দেশের নারীরা শতভাগ শিক্ষিত নয়। পর্যাপ্ত ক্যালরী সম্পুর্ন খাবার খায় না। পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সেবা পায় না। আমাদের দেশের নারীরা দারিদ্র কবলিত এবং অর্থনৈতিকভাবে শক্তিবিহীন। এ জন্য আমাদের দেশের আত্ম সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় কোনভাবেই প্যারেন্টস্ কনসেন্ট বা অভিভাবক সম্পত্তি নিয়ে ১৬ তে বিয়ে দেওয়া যাবে তা অন্তর্ভূক্ত করার উপর্যুক্ত সময় এখনও হয়নি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই নারীদের পরিপূর্ণভাবে শিক্ষিত করার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। কিভাবে তাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা যায়, তা নিয়ে ভাবছেন। তাদের স্বাস্থ্য সেবার দোর গোড়ায় পৌছে দেওয়ার জন্য নিরন্তর চেস্টা করে যাচ্ছেন। মাতৃ মৃত্যুহার কমানোর জন্য, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমানোর জন্য, পুষ্টি গুন সহ পর্যাপ্ত ক্যালরী সম্পন্ন খাবার প্রত্যেক পুরুষের পাশাপাশি যাতে প্রত্যেক নারীও পেতে পারে সে জন্য একাই লড়াই করে যাচ্ছেন। তার লড়াই সংগ্রামে জয়ী হওয়ার জন্য নারীর বিয়ের নূন্যতম বয়স ১৮ রাখা দরকার।
