‘যদি একদিন’ ছবির একটি দৃশ্যে তাহসান ও শ্রাবন্তী
এ যেন অন্য এক তাহসান। যে তাহসানের সঙ্গে পরিচয় নেই কারও। একেবারে নতুন। যে তাহসানকে দেখা ছিল ভক্তদের সাপের পা দেখার মতো, সেই তাহসানই নেমে এলেন রাস্তায়। ছোটাছুটি করছেন এদিক-ওদিক। এফডিসি থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যম; সব জায়গায়। ঢাকার দেয়ালে মধ্যরাতে নিজের সিনেমার পোস্টারও লাগাচ্ছেন। শুনে হয়তো অনেকে অবাক হচ্ছেন! সত্যিই এভাবে দেখা যাচ্ছে তাকে। শীত আর বৃষ্টির এমন আবহাওয়ায় কথা হয় ড্যাশিং গায়ক তাহসান খানের সঙ্গে। তিনি স্মার্ট অভিনয় দিয়ে গায়ক পরিচয় ছাপিয়ে পুরোদস্তুর অভিনেতা। অভিনয়েও হয়েছেন প্রশংসিত।
তার ব্যক্তিত্ব, রোমান্টিক অভিনয়, কথা, স্টাইল- সবকিছুতেই থাকে মুগ্ধতার ছাপ। এমন ড্যাশিং একজন তারকা কেন চলচ্চিত্র করছেন না? তাহসান ভক্তদের দীর্ঘ দিনের প্রশ্ন ছিল। তাহসান চলচ্চিত্রে নাম লেখান, ছিল ভক্তদের চাওয়া। যে ভক্তদের জন্য আজকের তারকা হয়ে ওঠা তাদের চাওয়া ফেলতে পারেনি তাহসান। গানের পাশাপাশি অভিনয়ের যুগ পার করার পর অবশেষে তিনি এলেন রূপালি পর্দায়। আসছেন কী, এসেই পড়েছেন। কারণ আগামীকাল বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে মুক্তি পাচ্ছে তাহসান অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘যদি একদিন’। এতে তাহসানের নায়িকা কলকাতার শ্রাবন্তী। বৃষ্টিমুখর দিনে ছবিটি নিয়ে কথা হয় তাহসানের সঙ্গে। মুঠোফোনে কথা হয় তার নায়িকা শ্রাবন্তীর সঙ্গেও। তার আগে তাহসানের কাছে প্রশ্ন ছিল- প্রথম ছবি বলেই কি বাড়তি প্রচারণা?

তাহসান বলেন, “প্রথম সবই তো একটু অন্যরকম হয়। থাকে বাড়তি আবেগ, চাওয়া-পাওয়া আর খুশি। ‘যদি একদিন’-এর বেলায়ও তেমনটি হচ্ছে। ছবির প্রচারণায় নেমেছি, দর্শকদের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করছি, পোস্টার লাগাচ্ছি, এফডিসিতে যাচ্ছি। এখানে একটা বিষয় বলা প্রযোজন, আগে অনেকের কাছে শুনে এসেছি টেলিভিশন থেকে যারা চলচ্চিত্রে কাজ করতে যান, তাদের প্রতি সিনেমার মানুষদের খুব একটা সমর্থন থাকে না। কিন্তু কথাটা ভুল প্রমাণ হলো। এফডিসি যাওয়ার পর সবাই আমাকে ভালোভাবেই গ্রহণ করলেন। সবাইকে আমার সিনেমা দেখার আহ্বান জানিয়েছি।” আপনার প্রচারণার স্টাইল দেখে মনে হচ্ছে, জয়া আহসানকে অনুসরণ করছেন? প্রশ্ন রাখতেই তাহসানের উত্তর- ‘সেটা বলতে পারেন। প্রচারণায় জয়া আহসানকে দেখেই উৎসাহিত। একটি ছবির প্রচারণা যে এভাবে হতে পারে, তার কাছ থেকেই শিখেছি। যদিও তার মতো করা আমার পক্ষে সম্ভব না।’ আর ভালো ছবি নির্মিত হলে তার খবর দর্শকদের জানানোও সবার দায়িত্ব বলে মনে করেন তাহসান।
যদি একদিন নির্মাণ করেছেন ‘প্রজাপতি’, ‘তারকাঁটা’, ‘সম্রাট’ ছবির পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। এটি তার ক্যারিয়ারের সেরা ছবি বলেই মন্তব্য পরিচালকের। পাশাপাশি নারী দিবসে মুক্তি দেওয়াটাও ব্যাখ্যা করেন পরিচালক। তিনি বলেন, ‘ছবিটির গল্প একটি পরিবারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। আর একটি পরিবার গড়ে ওঠে একজন নারীকে কেন্দ্র করে। এ জন্যই বিশ্ব নারী দিবসে মুক্তি দিচ্ছি ছবিটি। অন্যদিকে ছবিটির মুক্তি উপলক্ষে বাংলাদেশে আসার জন্য অপেক্ষা করছেন বলে জানালেন ছবির নায়িকা শ্রাবন্তী। দর্শকদের সঙ্গে ছবিটি দেখার জন্য অধীর আগ্রহে আছেন তিনি। কাগজ ঠিকঠাক হলেই উড়ে আসবেন বাংলাদেশে। মুঠোফোনে শ্রাবন্তী সমকালকে বলেন, ‘দারুণ একটি গল্প। পরিবারের গল্প। ছবিটির শুটিং করতে গিয়ে বেশ ক’জন ভালোমানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। ছবিটি দেখার জন্য আমিও মুখিয়ে আছি। যে কোনোদিন বাংলাদেশে আসব। হতে পারে সেটা আজ বা আগামীকাল! কথাগুলো এক নিঃশ্বাসে বলে গেলেন শ্রাবন্তী। পরে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে নিজেই বলতে শুরু করলেন। খোঁজখবরও নিলেন। প্রচারণা ঠিকমতো হচ্ছে কি-না, এখানকার দর্শকরা ছবিটি কেমন গ্রহণ করবে, এমন অনেক প্রশ্ন।

শ্রাবন্তীর প্রশ্নের ফাঁকেই জানতে চাওয়া হয়, ছবিটি দেখতে দর্শকরা কেন আসবেন? তার কথায় এ ছবির গল্পই হলো এর হিরো। দর্শক গল্প দেখার জন্য হলে যাবেন। গল্পকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য আমরা রয়েছি। তাহসানের এ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হচ্ছে। ফলে দর্শকদের জন্য এটি কিন্তু বাড়তি পাওনা। ছবিটি নিয়ে এমন অনেক গল্প বলতে পারবেন তাহসান। অভিনয়ের নানা বিষয়ে অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। গানের জগতে প্রায় ২০ বছরের ক্যারিয়ার। গান নিয়ে খুব একটা প্রচারণা চালাতে দেখা যায়নি তাকে। সেই তাহসানই চলচ্চিত্রে এসে বলছেন, সিনেমার প্রচার খুব বেশি দরকার। তাই নিজের সামর্থ্যে যতটা করা দরকার করছেন তাহসান। বাকিটা ছেড়েছেন ভাগ্যের ওপর। দেখা যাক রাশিচক্রের হিসাবে কতটা সাফল্য আসে ‘যদি একদিন’-এর। কলকাতা থেকে একইভাবে সফলতা কামনা করছেন নায়িকা শ্রাবন্তী।
