স্টাফ রিপোর্টার ॥
চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের মাসিক উন্নয়ন ও সমন্বয় সভা সোমবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. ইসমাইল হোসেন। বিগত মাসের কার্যবিবরণী পাঠ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরী। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, চলমান রাজনৈতিক অবস্থায় চাঁদপুরের অবস্থা এখন পর্যন্ত ভালো রয়েছে। সকলে মিলে সকল কার্যক্রম ইতিবাচক ভাবে এগিয়ে নিতে হবে। ফরিদগঞ্জ নদী ভরাট প্রসঙ্গে বলেন, নদীতে ভরাট করা ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে নিষেধ করা হয়েছে। তাই নদীতে কোন প্রকার স্থাপনা করা যাবে না। উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসক না হয়েও চিকিৎসকের পরিচয়ে সেবা কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এই বিষয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে। ভুয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আগামী ৭দিনের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। চাঁদপুরে প্রথম খোলা বাজারে পেট্রোল বিক্রয় বন্ধ করা হয়েছে। এই জেলাকে দেখে অন্যান্য জেলাগুলোতে বন্ধ হয়েছে এবং নিরাপত্তা দিয়ে জ্বালানি বহনকারী গাড়ীগুলো নির্দিষ্ট সীমানায় পার করে দেয়া হচ্ছে। এটি সরকারি নির্দেশনা আসার ১সপ্তাহ পূর্ব থেকে চাঁদপুরে শুরু হয়েছে।
জাটকা সংরক্ষণ সম্পর্কে বলেন, প্রশাসন থেকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বহু কারেন্ট জাল আটক এবং পোড়ানো হয়েছে। জাকটা নিধণ বন্ধ করতে সাধারণ জনগণকেই সচেতন হতে হবে।
১৫০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রের ভিতরে এবং বাহিরে আরো সতর্কতা বাড়াতে হবে। এটি রক্ষায় প্রয়োজনে দৃস্কৃতিকারীদের ফায়ারও করতে হবে। সেখানে ২৩জন আনাসার রয়েছে, তাদের অস্ত্র দেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হবে। নিশি বিল্ডিং এলাকায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নতুন ভবন তৈরী করা হবে। এই বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। রেল লাইন নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত আনসারদের ভেতন পাওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা হবে।
চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন সম্পর্কে বলেন, এই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য যে লোকবল প্রয়োজন তা, জেলা সদরসহ আশপাশে থেকে যোগান দেয়া হবে। সকলের সহযোগিতা নিয়ে চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা হবে।
এসএসসি পরীক্ষার বিগত কয়েকদিনের কার্যক্রম ভালো হয়েছে, আশারাখি বাকিদিনগুলোও ভালো ভাবে সম্পন্ন হবে। এই পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভিজিটর টীম কাজ করে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসক আরো বলেন, যে সব মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট বাতিল করা হয়েছে। তারা যতই মামলা করুকনা কেন, তাদের কোন ভাবেই ভাতা প্রদান করা যাবে না। তিনি এই বিষয়ে জেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান, সিভিল সার্জন, ডাঃ রথিন্দ্র নাথ মজুমদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম, স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ সৈয়দা বদরুন্নাহার চৌধুরী, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আঃ মতিন, চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ প্রদীপ কুমার দত্ত, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহমুদ কবির, সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিক উল্যাহ, চাঁদপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রুপক কান্তি মজুমদার, কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশন কর্মকর্তা লেঃ এম. হাবিবুর রহমান, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মোঃ ইউছুফ, বন্দর কর্মকর্তা মোবারক হোসেন, জেল সুপার আঃ আল মামুনসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র সূত্রধর, হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়া আহম্মেদ সুমন , মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মফিজুল ইসলাম, মতলব দক্ষিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা ইসলাম, হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. মুর্শিদুল ইসলাম, শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কাউছার, ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবেদীন ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তর প্রধানসহ প্রতিনিধিগণ।
