২০ দলীয় জোটের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ১১তম দিনে চাঁদপুর শহরে সিএনজি স্কুটার ও শাহমাহমুদপুর এলাকায় দুটি মালবাহী পিকআপে অগ্নিসংযোগ করেছে অবরোধকারীরা। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পিকেটারদের চোরাগুপ্তা হামলায় শাহমাহমুদপুরে পেট্রোল ছুড়ে দুটি মালবাহী পিকআপে আগুন দেয় অবরোধকারীরা। দুটি পিকআপের মধ্যে একটি কাঁচামালবাহী ও অপরটি পোল্টিফার্মের। খবর পেয়ে মডেল থানার এসআই আনোয়ার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। অপরদিকে শুক্রবার বিকেলে শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকায় অবরোধকারীরা পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে একটি সিএনজি স্কুটারে আগুন দেয়। এ ছাড়া অবরোধের সমর্থনে শহরে বেশ কিছু স্থানে পিকেটাররা বেশ কটি অটোরিক্সা ভাংচুর করে। রাতে কবি নজরুল সড়কে অটোরিক্সায় অগ্নিসংযোগ করে অবরোধকারীরা। পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে অবরোধ ও হরতালে পিকেটিংয়ের সাথে জড়িত ১০ জনকে আটক করে। এরা সবাই বিএনপি কর্মী। এর মধ্যে ৪ জন ফরিদগঞ্জে, চাঁদপুর সদরে ২ ও হাজীগঞ্জে ৪ জন। পিকেটিংয়ের ছবি তুলতে গিয়ে পুলিশ কর্তৃক সাংবাদিক লাঞ্ছিত হয়।
হরতাল-অবরোধে সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করে সংবাদ সংগ্রহ করে পত্রিকায় তা প্রকাশ করে। সে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশ দ্বারা যদি সাংবাদিক লাঞ্ছিত হয়, সে ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা ও উদ্দেশ্য নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক চাঁদপুরের সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ঘটনাটি পুলিশ মোঃ আমির জাফরকে অবহিত করা হয়েছে। তবে একটি সূত্রে জানা যায়, গত বছর দৈনিক ইল্শেপাড়ে শাহ্মাহমুদপুরে রিলিফের চাল আত্মসাৎ করার সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক সজিব খান। সে ঘটনার জের হিসেবেই গত বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের কতিপয় নামধারী নেতা সময় সুযোগ বুঝে সাংবাদিককে পিকেটার বানিয়ে পুলিশ দ্বারা লাঞ্ছিত করায়। পুলিশও আওয়ামী লীগ নেতাদের কথায় অতি উৎসাহী হয়ে সাংবাদিক জেনেও লাঞ্ছিত করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করে নি। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। আহত সাংবাদিককে অন্য সাংবাদিকরা উদ্ধার করে ২শ’ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করায়।
