আমার কণ্ঠ রিপোর্ট
হাজীগঞ্জ পৌর সভার টোরাগড় কাজী বাড়ী হলো কাজী দুলালের বাড়ী। ভৌগোলিক কারণে এ বাড়ী চাঁদপুর-কুমিল্লা প্রিজ ঢালা কালো রাস্তার পাশে। ছোট বেলা থেকেই কাজী দুলাল মাদক ব্যবসা করে আসছে। মাদক ব্যবসা করতে গিয়ে বহুবার পুলিশের হাতে ধরা পড়ে এবং তার বিরুদ্ধে বহু মামলা হয়। তার পরেও সে থেমে নেই। জেল থেকে বের হয়ে এসেই আবারো সে মদক ব্যবসা শুরু করে। মাদক ব্যবসা করে বহু অর্থ আয় করে। এ অর্থ দিয়ে কিছু জায়গা কিনে। এর মধ্যে এক সময়ের বিডিপির সামনে রাস্তার পাশে থাকা দুশতাংশ জায়গা ক্রয় করে। এ দুশতাংশ জায়গা দিয়ে পিডিবি থাকা ১ একর ৫৮ শতাংশ জায়গা সরকারি বিভিন্ন কর্মকর্তাকে অর্থ দিয়ে নিজের আয়ত্ব নিয়ে যায়। সেখানে গড়ে তোলেন অভিজাত বসবাস। এ জায়গায় মাদকসহ বিভিন্ন নেসা সেবন করার জন্য চাঁদপুরে সুনামধন্য বিভিন্ন ব্যক্তিরাও এ খানে আসেন। এতে কাজী দুলাল আরো বেপরোয়া হয়ে আশপাশে থাকা সরকারি বিভিন্ন আরো সম্পত্তি দখলে নিয়ে যায়। তার এ আস্তানায় অনুমোতি ছাড়া কোন ব্যক্তি প্রবেশ করতে পারতো না। এ সম্পতি আতœসাৎ করার জন্য কাজী দুলাল সরকারি কিছু কর্মকর্তাকে অর্থ দিয়ে নকল দলিল ও কাগজ পত্র তৈরি করে থাকেন।
এছাড়াও কাজী দুলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতাধীন এক একর ৩০ শতাংশ জায়গাও দখল করার জন্য ক’মাস আগে সাইন বোর্ড লাগাইলে উপজেলা পুলিশ প্রশাসন তা ভেঙ্গে ফেলে।
গত দু বছর আগে হাজীগঞ্জ পূর্ব বাজার পুরাতন ব্রীজ ভেঙ্গে নতুন ব্রীজ করার জন্য বিশ্ব ব্যাংকে অর্থে নিমার্ণ কাজ শুরু হয়। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালামাল রাখার জায়গা না থাকার কারণে কাজী দুলালের দখলে থাকা পিডিবির জায়গার মধ্যে তারা মালামাল রাখে দুলালের সাথে আলোচনা করে। কিন্তু ব্রীজের কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের মালামাল নিয়ে জাইতে চাইলে কাজী দুলাল তাদের মালামাল আটকে রাখে ১০ লাখ টাকা চাঁদার জন্য। এ নিয়ে কাজী দুলালের সাথে ঐ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে বাড়াবাড়ি শুরু হয়। এক প্রকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজী দুলালকে ২ লাখ টাকা দিতে চাইলেও সে মানেনি। এ নিয়ে আরো বাড়া বাড়ী শুরু হয়। এক পর্যায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোন উপায় না পেয়ে সেতু মন্ত্রী ওবায়েদুল কাদেরকে বিষয়টি অবগত করলে মন্ত্রী সাথে সাথে জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করেন বলেও শুনা গেছে। এর পর থেকে কাজী দুলালকে ধরার জন্য পুলিশে অভিযান শুরু হয়। ক’ মাস আগে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ আলম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৌর ভবনের পেছন থেকে কাজী দুলালকে গ্রেপতার করে চাঁদপুর কোটে প্রেরণ করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের মধ্যে স্বস্তি পিরে আসে। এর পর জেলা আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক মোঃ ইসমাইল হোসেন হাজীগঞ্জের পিডিবি এক শত ৫৮ শতাংশ জায়গা উদ্ধারের জন্য প্রশাসনকে নিদের্শ দেয়। ঐ নিদের্শ মোতাবেক গত ১৩ নভেম্বর হাজীগঞ্জ পৌর এলাকায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) প্রায় ৫০ কোটি টাকার জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু আলী মোহাম্মদ হোসেনের নেতৃত্বে বুধবার সকালে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।
সকালে পৌরসভার অধীন টোরাগড় এলাকায় পিডিবি’র একোয়ার করা ১ একর ৫৮ শতাংশ সম্পত্তির উপর থেকে অবৈধ দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে এ সম্পত্তি দখল করে রাখেন এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী কাজী দুলাল। তিনি অর্ধশতাধিক মামলায় কারাবন্দী রয়েছেন। অভিযানে চারটি দোকান, টিনশেডের ৮ রুমের বসতঘরসহ আরও কয়েকটি বসতি উচ্ছেদ করা হয়।
অভিযান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু আলী মোহাম্মদ হোসেন জানান, জেলা আইনশৃঙ্খলা সভার সিদ্ধান্তনুযায়ী এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এখানে ১ একর ৫৮ শতাংশের উপর যদি আরও স্থাপনা থেকে থাকে, তাহলে পরবর্তী সময়ে পর্যালোচনা করে অভিযান চালানো হবে।
উচ্ছেদ অভিযানে ৪টি দোকান, একটি টিনসেডের ৮ রুম বিশিষ্ট বসতঘর, বেশ কয়েকটি পরিবার বাস করার মতো বড় একটি টিনসেড ভবন গুড়িয়ে দেয়া হয়। গুড়িয়ে দেয়া ভবনের মালামাল জব্ধ করে প্রশাসন নিয়ে যায়। উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে আমার কণ্ঠকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু আলী মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন জানান, আমরা জেলার আইন-শৃঙ্খলা সভায় এ সিদ্ধান্ত নেই। আর পিডিবি‘র যেটুকু জমিতে অবৈধ স্থাপনা রয়েছে সেই অংশটুকুতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে
উচ্ছেদ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন- নির্বাহী প্রকৌশলী (সড়ক) জাহেদ হোসাইন, অতিরিক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী (পিডিবি) রুপক মজুমদার, হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুর্শিদুল ইসলাম, উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া জেরিন, লিটুস লরেন্স চিরান, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) আবু হানিফ, হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ আলম, জেলা ডিবি পুলিশ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।
