প্রচারনায় ব্যস্ত
মোঃ কামাল হোসেন
হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন জমে উঠতে শুরু করেছে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণ ততই বেড়ে চলেছে। ইতিমধ্যে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সহ কার্যকরী কমিটির বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদ এবং বাজারের বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীগণ নিজ নিজ অবস্থান থেকে ব্যবসায়ীদের সাথে কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে প্রচারনা শুরু করেছেন। গত এক সপ্তাহ যাবৎ অনুসন্ধান করে দেখা যায়, চাঁদপুর জেলার গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হাজীগঞ্জ। যার প্রধান কারণ হাজীগঞ্জ বাজার। এ হাজীগঞ্জ বাজার আশ পাশের জেলা-উপজেলার সাধারণ মানুষের জন্য একটি বাণিজ্যিক শহর। প্রতিদিনই আশ পাশের জেলা-উপজেলার হাজার হাজার নারী পুরুষ এ হাজীগঞ্জ বাজারকে একটি পূর্ণাঙ্গ শহর মনে করে এখানে আসেন তাদের প্রয়োজনীয় নেকাকাটার জন্য। ত্রি-মূখী যোগাযোগের কারণে বহুযুগ পূর্ব থেকেই হাজীগঞ্জ বাজার বাণিজ্যক ভাবে বৃহত্তর কুমিল্লা, নোয়াখালী জেলায় সমাধৃত। বর্তমানেও এর ধারাবাহিকতা বিদ্যমান। পাশা পাশি হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার ব্যাপক উন্নয়নের চোঁয়ায় আরো সমৃদ্ধিশালী হয়ে উঠেছে। এছাড়াও সুনামধন্য বিদ্যাপিঠ হাজীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ, হাজীগঞ্জ মডেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, হাজীগঞ্জ পাইলট হাই স্কুল, হাজীগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, হাজীগঞ্জ মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজীগঞ্জ বালিকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরো অনেক সরকারী বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই হাজীগঞ্জের ঐতিহ্য ও সুনাম বৃদ্ধি করছে। এছাড়া এখানে রয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ। এ মসজিদের আওতাধীন আধুনিক মার্কেটের কারণেও উন্নত মান বৃদ্ধি পেয়েছে। সব মিলিয়ে হাজীগঞ্জ বাজারের গুরুত্ব অপরিসীম। যার জন্য হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনও আলোচিত। এ সমিতির নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেই ব্যবসায়ীদের মধ্যে যেন আনন্দ উদ্দিপনার সৃষ্টি হয়। তাই হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আগামী মে মাসেই বর্তমান কার্যকরী কমিটির মেয়াদ শেষ হবে। মেয়াদ পূর্তির ৩ মাস পূর্বে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার নিয়ম রয়েছে। সে অনুযায়ী এ মাসেই হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা হওয়ার কথা। তাই প্রার্থীরাও সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বারের নির্বাচনে প্রার্থী বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সদস্যরাও চাইতেছেন এ নির্বাচনে যেন সৎ, যোগ্য ও দায়িত্বশীল প্রার্থী নির্বাচনে আসুক। কারণ যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যম্যেই তারা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে আরো প্রসারিত ও সমৃদ্ধশালী করে তুলতে পারেন।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক ব্যবসায়ী আমার কন্ঠকে বলেন, হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত মান সম্মত লোক। আমরা বাজারের শান্তি শৃংখলা রক্ষায় যোগ্য ও সৎ প্রার্থীকে বেচে নিবো। তাই ব্যবসায়ী সমিতির সামনের নির্বাচনে আমরা শতর্ক রয়েছি। তবে ইতিমধ্যেই ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন নিয়ে একটি ষড়যন্ত্রের গুনজন শুনতে পাচ্ছি। তারা আরো বলেন, গত নির্বাচনে আমরা ৩ বছরের জন্য ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করেছি, কিন্তু এখন শুনতে পাচ্ছি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ৩ বছরের পরিবর্তে ৫ বছর মেয়াদ বৃদ্ধির পায়তারা শুরু করেছেন। আমরা ব্যবসায়ীরা এ ষড়যন্ত্রের পায়তারার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো। অনেক ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের ব্যবসায়ীদের অনেক সমস্য সমাধানের কথা বলে বহু অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতা। অর্থ হাতিয়ে নেওয়া নেতারাই সমিতির নির্বাচন না করার ষড়যন্ত্র ও পায়তারা শুরু করেছে। এ সকল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া নেতাদেরকে ভোটের মাধ্যমে উচিত জবাব দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে সম্ভাব্য সভাপতি সম্পাদক সহ অনেক প্রার্থীর সাথে কথা হলে তারা আমার কন্ঠকে বলেন, আমরা নির্বাচনের জন্য শতভাগ প্রস্তুত। আমরা জানি এ মাসেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার কথা, সে অনুযায়ী আমরা গণসংযোগ করে যাচ্ছি। তারা আরো বলেন, কাউকে কোন রাজনৈতিক শক্তি অথবা কোন ভৌগলিক শক্তি প্রয়োগ করতে দেওয়া হবে না। গত নির্বাচনে অনেক প্রার্থী অর্থ, রাজনৈতিক ও ভৌগলিক শক্তি দেখিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এ বছরের নির্বাচনে সেই বিষয়গুলো মাথায় নিয়ে আমরা আমাদের প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছি। নির্বাচনের সময় যখন ঘনিয়ে আসছে তখনি রাজনৈতিক ও ভৌগলিক শক্তি ব্যবহার করে সমিতির গঠনতন্ত্র বায়লট করে ৩ বছরের মেয়াদকে ৫ বছরে রূপান্তর করার ষড়যন্ত্র শুরু করছে। আমরা যারা প্রার্থী রয়েছি তারা ব্যবসায়ীদেরকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের এ ষড়যন্ত্র রুখে দিবো।
এ বছরের হাজীগঞ্জ বাজারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন বর্তমান কার্যকরি কমিটির সদস্যসহ নতুন একাধিক প্রার্থীরা। নতুন প্রার্থীরা হলেন, মো: জাহাঙ্গীর আলম, সালাহ উদ্দিন ফারুক, মো: জামাল উদ্দিন তালুকদার কিরন, মো: জাকির হোসেন মিন্টু, আলী নেওয়াজ রোমানসহ আরো অনেকে।
এ ব্যপারে হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপত আশফাকুল আলম চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, নির্বাচনের মেয়াদ সম্পর্কে এখন কিছু বলা যাবে না, কয়েকে দিনের মধ্যে আমাদের কার্যকরী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে সেখানে সবার আলোচনার ভিত্তিতে সংখ্যাগরিষ্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব অরুনের সাথে কথা বলার জন্য তার মুঠো ফোনে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।
সহ সম্পাদক আলহাজ্ব মো: মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের কোন নতুন ভোটার হয়নি। ২১ তারিখে মিটিং হবে। ঐ মিটিংয়ে যা সিদ্ধান্ত হয় এবং সংবিধানের বাহিরে কোন কিছু করার সুযোগ নেই। যদি কেউ করতে চায় তা করতে দেওয়া হবে না।
সাংগঠনিক সম্পাদক মো: আবু হেনা বাবলু বলেন, ব্যবসায়ী সমিতির মেয়াদ ৩ বছর হউক আর ৫ বছর হউক আমার কোন সমস্যা নেই। ৩ বছর হলেও আমি সমর্থন করি, আবার সাধারণ সভা যদি সিদ্ধান্ত নেয় কার্যকরি কমিটির মেয়াদ ৫ বছর। তাও আমি সমর্থন করি। তবে সাবেক সভাপতি মরহুম হুমায়ুন ভাই কার্যকরি পরিষদের মেয়াদ ৫ বছর করার জন্য একটি প্রস্তাবনা রেখেছেন। সে প্রস্তাব রেজুলেশন হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তাদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মো: সালাহ উদ্দিন ফারুক বলেন, ব্যবসায়ীরা ভোট দিয়েছেন ৩ বছরের জন্য। সে অনুযায়ী এ মাসে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হবে । আমরা প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিন্তু যদি কোন ব্যক্তি নির্বাচন নিয়ে বানচাল বা পায়তারা করে আমরা ব্যবসায়ীদেরকে সাথে নিয়ে আন্দোলন সহ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এতে কোন সন্দেহ নেই।
অন্য দিকে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মো: জামাল উদ্দিন তালুকদার কিরন বলেন, নির্বাচনের আর মাত্র আড়াই মাস বাকী। এখন নতুন নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। তা না করে, যদি বর্তমান কার্যকরি কমিটির মেয়াদ আরো ২ বছর বাড়ানো চিন্তা করে তা হবে আত্মঘাতী মুলক সিদ্ধান্ত। কারণ এখন মেয়াদ বৃদ্ধির সময় নয়। এখন নির্বাচনী তফসিল সহ নতুন নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের সময়।
