আমার কণ্ঠ রিপোর্ট
হাজীগঞ্জের স্বামীর দেয়া আগুনে অগ্নিদগ্ধ দীপিকা ৪ দিন ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার সময় মৃত্যুবরণ করেছে। বিষয়টি তার বড় ভাই অরবিন্দ আশ্চার্য্য নিশ্চিত করেছে।
এর পূর্বে গত ৩০ এপ্রিল দীপিকা আশ্চার্য্যরে গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে তার স্বামী বিপুল আশ্চার্য আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় গৃহবধুর ভাই তিনজনকে আসামি করে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গৃহবধুর স্বামীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। খবর পেয়ে ২ মেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার (এসপি) জিহাদুল কবির, হাজীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগির হোসেন রনি।
আগুনে পুড়ে যাওয়া গৃহবধু দীপিকা আচার্য্য মনিকা (২৬)। নরসিংদী জেলার মাধবদী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের ছোট মাধবদী গ্রামে তার বাড়ি।
এ ঘটনায় দীপিকার ভাই অরবিন্দ আচার্য্য তিনজনকে আসামি করে গত ২ মে (বৃহস্পতিবার) দুপুরে হাজীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন, হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ৫নং ওয়ার্ডের মকিমাবাদ গ্রামের মৃত রঞ্জিত আচার্য্যের ছোট ছেলে বিপুল আচার্য্য (৩৫), বড় ছেলে স্বজন আচার্য্য (৪৫) ও স্ত্রী সন্ধ্যা আচার্য্য (৬০)। পুলিশ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
দীপিকার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ৮ বছর পূর্বে দীপিকার সাথে পারিবারিকভাবে বিপুলের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে স্বস্তিকা আচার্য্য নামের ৩ বছর বয়সি একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
থানায় মামলা সূত্রে জানা গেছে, হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ৫নং ওয়ার্ডের বকুলতলা রোডের রঞ্জিত আশ্চার্যের ছেলে বিপুল আশ্চার্য্য ও তার বড় ভাই স্বজন আশ্চার্য্য ৩০ এপ্রিল গভীর রাতে দীপিকার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। বিষয়টিকে দূর্ঘটনা বলে চালিয়ে দিতে রাতেই দীপিকাকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরবর্তীতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকেই পরদিন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটি ভর্তি করা হয়।
মোবাইল ফোনে বোনের দূর্ঘটনার খবর শুনে দীপিকার বড় ভাই অরবিন্দ আচার্য্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটে তার বোনকে দেখতে যান। সেখানে দীপিকা জানান, তাকে মারধর করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এরপর তার ভাই বৃহস্পতিবার দুপরে হাজীগঞ্জ থানায় এসে মামলা দায়ের করেন।
বিপুল হাজীগঞ্জ বাজারের চয়নিকা স্টুডিও পরিচালনা করতেন। স্টুডিও উপরে তিন তলার বাসায় থাকতেন তারা। থানা হেফাজতে থাকা বিপুল আচার্য্য ও তার মা সন্ধ্যা আচার্য্য দাবি করেন, ৩০ এপ্রিল রাত দুইটার দিকে কেরোসিনের চুলায় বাচ্ছার জন্য দুধ গরম করতে যায় দীপিকা। হঠাৎ করে চুলা পড়ে দীপিকার শরীরে আগুন লেগে যায়। এ আগুন নিভাতে গিয়ে বিপুলের দুই হাত পুড়ে যায়। দীপিকার সাথে বিপুলও ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে মামলা দায়ের করা হলে, পুলিশ বিপুলকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।
দীপিকার বড় ভাই অরবিন্দ আচার্য্য মুঠোফোনে জানান, বিপুলের আমার বোনের শরীরে আগুন লাগানোর পূর্বে তাকে মারধর করেছে। তার মাথা ও কপাল ফেটে গেছে। আসামিরা পরিকল্পিতভাবে আমার বোনকে হত্যার চেষ্টা করে।
এদিকে শুক্রবার দুপরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কফিল উদ্দিনের আদালতে তুললে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খলিলুর রহমান জানান,দীপিকার শরীরের ৯২ ভাগ পুড়ে গেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজে বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন দীপিকার বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। বক্তব্যে তাকে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান দীপিকা। সে আলোকে থানায় মামলা নেওয়া হয়েছে।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন রনি জানান, অগ্নিদগ্ধ দীপিকা নিহত হওয়ার খবরটি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। আটক ৩জন আসামীকে কোর্টের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। তার ভাই অরবিন্দ আশ্চার্য্য যে মামলাটি করেছে, তাতে হত্যার চেষ্টা ও হত্যার কথা উল্লেখ রয়েছে।
হাজীগঞ্জে স্বামীর দেয়া আগুনে অগ্নিদগ্ধ দীপিকা ৪ দিন ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যু
আমার কণ্ঠ রিপোর্ট
হাজীগঞ্জের স্বামীর দেয়া আগুনে অগ্নিদগ্ধ দীপিকা ৪ দিন ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার সময় মৃত্যুবরণ করেছে। বিষয়টি তার বড় ভাই অরবিন্দ আশ্চার্য্য নিশ্চিত করেছে।
এর পূর্বে গত ৩০ এপ্রিল দীপিকা আশ্চার্য্যরে গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে তার স্বামী বিপুল আশ্চার্য আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় গৃহবধুর ভাই তিনজনকে আসামি করে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গৃহবধুর স্বামীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। খবর পেয়ে ২ মেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার (এসপি) জিহাদুল কবির, হাজীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগির হোসেন রনি।
আগুনে পুড়ে যাওয়া গৃহবধু দীপিকা আচার্য্য মনিকা (২৬)। নরসিংদী জেলার মাধবদী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের ছোট মাধবদী গ্রামে তার বাড়ি।
এ ঘটনায় দীপিকার ভাই অরবিন্দ আচার্য্য তিনজনকে আসামি করে গত ২ মে (বৃহস্পতিবার) দুপুরে হাজীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন, হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ৫নং ওয়ার্ডের মকিমাবাদ গ্রামের মৃত রঞ্জিত আচার্য্যের ছোট ছেলে বিপুল আচার্য্য (৩৫), বড় ছেলে স্বজন আচার্য্য (৪৫) ও স্ত্রী সন্ধ্যা আচার্য্য (৬০)। পুলিশ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
দীপিকার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ৮ বছর পূর্বে দীপিকার সাথে পারিবারিকভাবে বিপুলের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে স্বস্তিকা আচার্য্য নামের ৩ বছর বয়সি একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
থানায় মামলা সূত্রে জানা গেছে, হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ৫নং ওয়ার্ডের বকুলতলা রোডের রঞ্জিত আশ্চার্যের ছেলে বিপুল আশ্চার্য্য ও তার বড় ভাই স্বজন আশ্চার্য্য ৩০ এপ্রিল গভীর রাতে দীপিকার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। বিষয়টিকে দূর্ঘটনা বলে চালিয়ে দিতে রাতেই দীপিকাকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরবর্তীতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকেই পরদিন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটি ভর্তি করা হয়।
মোবাইল ফোনে বোনের দূর্ঘটনার খবর শুনে দীপিকার বড় ভাই অরবিন্দ আচার্য্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটে তার বোনকে দেখতে যান। সেখানে দীপিকা জানান, তাকে মারধর করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এরপর তার ভাই বৃহস্পতিবার দুপরে হাজীগঞ্জ থানায় এসে মামলা দায়ের করেন।
বিপুল হাজীগঞ্জ বাজারের চয়নিকা স্টুডিও পরিচালনা করতেন। স্টুডিও উপরে তিন তলার বাসায় থাকতেন তারা। থানা হেফাজতে থাকা বিপুল আচার্য্য ও তার মা সন্ধ্যা আচার্য্য দাবি করেন, ৩০ এপ্রিল রাত দুইটার দিকে কেরোসিনের চুলায় বাচ্ছার জন্য দুধ গরম করতে যায় দীপিকা। হঠাৎ করে চুলা পড়ে দীপিকার শরীরে আগুন লেগে যায়। এ আগুন নিভাতে গিয়ে বিপুলের দুই হাত পুড়ে যায়। দীপিকার সাথে বিপুলও ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে মামলা দায়ের করা হলে, পুলিশ বিপুলকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।
দীপিকার বড় ভাই অরবিন্দ আচার্য্য মুঠোফোনে জানান, বিপুলের আমার বোনের শরীরে আগুন লাগানোর পূর্বে তাকে মারধর করেছে। তার মাথা ও কপাল ফেটে গেছে। আসামিরা পরিকল্পিতভাবে আমার বোনকে হত্যার চেষ্টা করে।
এদিকে শুক্রবার দুপরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কফিল উদ্দিনের আদালতে তুললে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খলিলুর রহমান জানান,দীপিকার শরীরের ৯২ ভাগ পুড়ে গেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজে বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন দীপিকার বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। বক্তব্যে তাকে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান দীপিকা। সে আলোকে থানায় মামলা নেওয়া হয়েছে।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন রনি জানান, অগ্নিদগ্ধ দীপিকা নিহত হওয়ার খবরটি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। আটক ৩জন আসামীকে কোর্টের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। তার ভাই অরবিন্দ আশ্চার্য্য যে মামলাটি করেছে, তাতে হত্যার চেষ্টা ও হত্যার কথা উল্লেখ রয়েছে।

