চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম,চাঁদপুর থেকে-
চাঁদপুরের পদ্মা মেঘনায় থেমে নেই জাটকা নিধন। অথচ জাটকা নিধন বন্ধে মৎস্য বিভাগ রয়েছে নিরব ভূমিকায়! তবে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার দাবি জাটকা রক্ষায় মৎস্য বিভাগ তৎপর রয়েছে। এদিকে কোস্টগার্ডের অতিরঞ্জিত অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জেলে পেশার সাথে সম্পৃক্ত অনেকেই।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট নদী কেন্দ্র চাঁদপুরের কার্যালয়ের তথ্য মতে, ৯ ইঞ্চি বা ২৩ সেন্টিমিটারের ছোট সকল মাছকে জাটকা হিসেবে গণ্য করা হয়। আর এসব জাটকা শুধুমাত্র বেড় জালেই ধরা পড়ে ৫০ ভাগ, করেন্ট জালে ধরা পড়ে ৪০ ভাগ ও অন্যান্য জালে আটক পড়ে ১০ ভাগ জাটকা। অথচ জাটকা রক্ষায় শুধু কারেন্ট জাল জব্দ করতেই দেখা যায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের। অথচ নদীতে- জগৎ বেড় জাল, বেড় জাল, ফাঁস বা কারেন্ট জাল, পোয়া জাল, বেহুন্দীজালসহ বিভিন্ন জাল দিয়ে জাটকা নিধন হচ্ছে। ওসব জাল বেশি একটা জব্দ করতে দেখা যায় না।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় মাস আগে চাঁদপুর জেলা মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে মেঘনা নদীর রাজরাজেশ্বর এলাকায় দুইটি অভিযান পরিচালিত হয়। তারপর জেলে নেতা ও মৎস্য বিভাগের কিছু কর্মকর্তাদের সাথে বোঝাপড়া হয়। এরপর থেকে মৎস্য বিভাগ আলাদা ভাবে কোনো অভিযান পরিচালনা করে না। যদিও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সফিকুর রহমান দাবি করেছেন, কোস্টগার্ডের সাথে বিভিন্ন সময়ে অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। কিন্তু এসব অভিযানের সম্পূর্ণ ক্রেডিট নিচ্ছে কোস্টগার্ড। এদিকে জাটকা রক্ষায় শত ভাগ তৎপর রয়েছে কোস্টগার্ড চাঁদপুর। প্রতিদিন-ই বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান জাটকা ও কারেন্ট জাল জব্ধ করছে কোস্টগার্ডের সদস্যরা। যদিও জলের চেয়ে স্থলেই তাদের অভিযান বেশি পরিচালনা করতে দেখা যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক মৎস্য ব্যবসায়ীর অভিযোগ, জাটকা রক্ষা নামে অভিযান চালিয়ে বড় বড় ইলিশ নিয়ে যায় কোস্টগার্ড। এছাড়া অনেক বেশি পরিমান মাছ জব্দ করে, সরকারি হিসেবে দেখানো হচ্ছে অনেক কম। এমনকি কোস্টগার্ডের সোর্স দিয়ে অনেক ইলিশ ও ঝাটকা গ্রাম-গঞ্জে বিক্রি করার অভিযোগও করেন অনেকই। জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের দাবি কোস্টগার্ডের অভিযানের সময় ম্যাজিস্ট্রেট, মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীসহ সাংবাদিক যেন উপস্থিত থাকে। চাঁদপুর কোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট এম হাবিবুর রহমান জানান, নদী তীরবতীর্ এক কিলোমিটার পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করার বিধান রয়েছে। কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, স্কেল দিয়ে জাটকা পরিমান করে তা জব্দ করা হচ্ছে। যদিও কখনো জব্দকৃত মাছের সাথে বড় মাছ পাওয়া যায় তবে তা মাছের মালিককে ফেরত দেয়া হয়। এছাড়া আমরা প্রশাসনের কাছে ম্যাজিস্ট্রেট চেয়েও পাচ্ছি না।
এদিকে মঙ্গলবারেও চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে ১৪লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও ১২ মন জাটকা জব্দ করেছে কোস্টগার্ড। মঙ্গলবার রাতে যাত্রীবাহী এমভি নুশরাত-২ ও এমভি লালী লঞ্চে অভিযান চালিয়ে এ জাটকা ও কারেন্টজালগুলো জব্দ করা হয়। তবে এর সাথে সম্পৃক্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয় নি। চাঁদপুর কোস্টগার্ড জানায়, টহলরত অবস্থায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই লঞ্চেগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় ১৪লাখ মিটার কান্টেজাল ও ১২মন জাটকা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত কারেন্ট জালের দাম প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। তিনি আরো জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসক মো. ইসমাইল হোসেন ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সফিকুর রহমানের উপস্থিতিতে কারেন্টজাল পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া জব্দকৃত জাটকাগুলো গরীব দুস্থ ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
