মোঃ জামাল হোসেন ॥
শাহরাস্তির শ্রীপুর মিয়া বাড়ীতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৪টি বসত ঘর ও ৩টি রান্না ঘর সহ নগদ ৬ লক্ষ্য টাকার মালামাল পুড়ে যায়। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২৫ লক্ষাধিক টাকা।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২৭ জানুয়ারী ফজরের নামাজের সময় (৬ টা ১৫ মিনিট) বিদ্যুতের খুঁটি থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ভাড়াটিয়া মাজুদা বেগম জানান, তিনি ফজরের নামাজের জন্য ঘুম থেকে উঠে বাড়ীর পুকুরে অজু করতে গেলে পাশে থাকা বিদ্যুতে খুঁটিতে আগুন দেখতে পান। তখন তিনি চিৎকার করলে বাড়ীর লোকজন ঘুম থেকে উঠে পড়ে। তিনি আরও জানান, প্রথমে বিদ্যুতের তারে আগুন ধরে ঘরে লাগানো মিটারগুলোতে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহুর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বাড়ীর লোকজন স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ১ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। ততক্ষণে ৪টি বসত ঘর, ৩টি রান্না ঘর, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মূল্যবান আসবাবপত্র ও মূল্যবান কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্থরা জানান, আগুন লাগার পর শাহরাস্তি উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসে ফোন করা হলেও তারা তা রিসিভ করেননি। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর মধ্যে এস.এ আলম মিয়ার ১টি বসত ঘর ও ১টি রান্না ঘর, ইজাহারুল ইসলাম সোহাগের ২টি বসত ঘর ও ১টি রান্না ঘর, ডাক্তার আবু তাহের মিয়ার ১টি বসত ঘর ও ১টি রান্না ঘর ও বাহার মিয়ার একটি রান্না ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্থ ইজহারুল ইসলামের স্ত্রী মিনারা আক্তার কুসুম জানান, তাদের ঘরে সম্পত্তি বিক্রয়ের নগদ ৬ লক্ষ টাকা ও চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার টাকা ছিল – যা আগুনে পুড়ে যায়। টাকাগুলোর পোড়া অংশ সাংবাদিকদের দেখিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
খবর পেয়ে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ দেলোয়ার হোসেন মিয়াজী, পৌর মেয়র মোঃ মোস্তফা কামাল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কাউছার হোসেন, শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুজাম্মেল হক মামুন।
