২০০৭সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হলো একটি পাইলট প্রজেক্টের মাধ্যমে ভোটার আইডি কার্ডের প্রবর্তন করা। স্বল্প সময়ের মধ্যে সরকার তখন ভোটার আইডি কার্ডের বাস্তবে রূপদান করে জনগনের হাতে তুলে দিতে সক্ষম হয়েছিল।
কিন্তু আই ডি কার্ডকে শুধু ভোট দানের মধ্যে সীমিত রাখলে চলবে না। সরকারের সকল অফিসিয়াল দপ্তরে এর ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আই কার্ডের বহুমুখী সংস্কার সাধন করতে হবে। মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে যেমন একজন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায় তেমনি আইডি কার্ডের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য যেমন স্থায়ী ঠিকানার পাশাপাশি বর্তমান ঠিকানা, টিন নম্বর থাকলে টিন নম্বর,মোবাইল নম্বর,সুনির্দিষ্ট পেশা তার পার্সপোট থাকলে পার্সপোট নম্বর,ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর,ট্রেড লাইসেন্স নম্বর ইত্যাদি উল্লেখপূর্বক এটিএম কার্ডের মত এই আইডি কার্ডকে সংস্কার করা যেতে পারে। তাহলে এর মাধ্যমে জনগনকে করজালের আওতায় আনতে সহজ হবে। সন্ত্রাসমূলক কার্যাবলীর দমন ও নিয়ন্ত্রন করতে সহজ হবে। এমনকি কেউ যদি ফেসবুকের আইডি খুলতে চায় তাহলে আই ডি কার্ডের নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে।
সেনাসমর্থিত সরকার যদি স্বল্প সময়ের এই আই ডি কার্ডের প্রবর্তন করতে পারে তবে আমরা বিশ্বাস করি বর্তমান সরকার ও দ্রুততম সময়ে বিশাল আকারে এর সংস্কার করে ভোটার আইডি কার্ডের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করে সকল স্ক্টেরে এর গুরুত্বকে আরো ত্বরান্বিত করতে পারে। তাহলেই এটি সকলের কাছে গ্রহনযোগ্য ও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।
আমরা বিশ্বাস করি যদি এই আইডি কার্ডের বহুমুখী সংস্কার নিশ্চিত করা হয় তাহলে দেশে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ অনেকাংশে কমে যাবে। জঙ্গি অর্থায়ন নিয়ন্ত্রন করা যাবে। জনগনকে ট্যাক্সের আওতায়ভুক্ত করা সহজ হবে। ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে পন্যগ্রাফী অথবা ইমেইল ব্যবহার করে ইন্টারনেটে আইসিটি’র আওতায় তথ্যের নিয়ন্ত্রন সহজ হবে।অর্থাৎ সরকারের নিয়ন্ত্রনাধীন সার্ভারে আইডি নাম্বার দেওয়ার সাথে সাথে যাতে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য পাওয়া যায় এমনভাবে সংস্কারের লক্ষ্যে প্রজেক্ট গ্রহন করতে হবে। এজন্য পর্যাপ্ত লোকবল স্থায়ীভাবে নিয়োগ দিয়ে ্এর সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে। তাহলেই আইডি কার্ডের প্রবর্তন সার্থক হবে। বিভিন্ন দপ্তরসহ সাধারন জনগন এর সুফল পাবে।

