কতগুলো সূচকের মাধ্যমে যে কোন দেশের অর্থনীতির ভিত্তি নির্ধারিত হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো দেশের ৫৬টি সরকারী বেসরকারী ব্যাংকের ডিপোজিট উত্তোরত্তোর বেড়ে যাওয়া। এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রির্জাভ বৃদ্ধি পাওয়া। শুধুুমাত্র এই একটি সূচকের মাধ্যমে প্রমাণিত বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের কাছে অর্থকড়ি রয়েছে। তারপরও কেন আমাদের অর্থনীতি জিমিয়ে রয়েছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, আয়ারল্যান্ডসহ উন্নত রাষ্ট্রগুলোর আবহাওয়া, মাটিসহ বসবাসের সলক উপাদান তাদের প্রতিকূলে। তার পরেও তাদের দেশের মানুষের নিরন্তর প্রচেষ্টা সংগ্রামের কারণে প্রতিকূলতা পরাস্ত করে তাদের দেশের মাটি, আবহাওয়াসহ সকল উপাদানকে বসবাসের উপযোগী করে উন্নত জীবন যাপন করে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশের আবহাওয়া, মাটিসহ বসবাস করার সকল উপাদান অনুকূলে হওয়া সত্বেও কাম্য পরিমান উন্নত জীবন যাপন করতে পারছিনা। এর দায় কি দেশ পরিচালকদের? নাকি যারা দেশ পরিচালনায় বাধা দিচ্ছে তাদের? তর্কে না গিয়ে আমরা প্রত্যাশা করি, দেশে অর্থনীতি গতিশীল থাকার প্রত্যেক ইন্ডিকেটর সচল থাকুক। প্রভাসিরা অনেক কষ্ট করে টাকা উপার্জন করে দেশে পাঠায়। কিন্তু সে টাকা আমাদের দেশে কোন উৎপাদনমূখী সেক্টরে বিনিয়োগ হয়না। গার্মেন্টস সেক্টরে প্রায় ৯০শতাংশ মহিলা। গার্মেন্টস মালিকেরা অল্প সময়ের মধ্যে পাজারো, প্রাডো গাড়ীর মালিক হলেও গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবন মানের উন্নয়ন হয় না। তাদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়। বরং মাস শেষে ঐসব শ্রমিকেরা বেতন তুলতে গিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়। তাই আমাদের দেশে রাজনীতি করতে হবে কিভাবে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবন মানের উন্নয়ন করা যায় তার জন্য। কিভাবে প্রবাসিদের কষ্টার্জিত টাকা উৎপাদনমূখী সেক্টরে বিনিয়োগ করা যায় তার জন্য। কিভাবে দেশের মানব সম্পদ কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নতি করা যায়। কিভাবে দেশের অনুকূল আবহাওয়া ও মাটিকে কাজে লাগিয়ে আরো উন্নত জীবন যাপন করা যায় তার জন্য। হরতাল অবোরধ দিয়ে, জ্বালাও পোড়াও করে ক্ষমতার মসনদে বসার রাজনীতি পরিহার করতে হবে।
