এইচ এম এ হক বাপ্পি
আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর দেশের নৈরাজ্য অনেকটা কমে আসছিল। জনমনে ফিরে এসেছিল শান্তি। হঠাৎকরে জনমনে দেখাদিয়েছে এক আতঙ্ক। আর সে আতঙ্কের নাম হচ্ছে অপহরণ। সাম্পতিক সময়ে অপহরণ মারাত্মক আকারে বৃদ্দি পেয়েছে। কোনো মানুষ এখন আর নিজেকে নিরাপদ বলে দাবি করতে পারছে না। অপহরণ কিংবা ঘুম এর আগেও হয়েছে। তবে এখন দিনে দুপুরে ফ্লিম ষ্টাইলে অপহরণ হচ্ছে। রাস্তায় বের হওয়া দূরে থাক এখন ঘরের ভেতরও মানুষ নিরাপদ নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অপহরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। দেখা যাচ্ছে অপহৃত ব্যক্তিরা ফিরে আসছে। তবে অপহরণকারীদের শনাক্ত করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফলে অপহরণের ঘটনাগুলো রহস্যের বেড়াজালে অবৃত থেকেই যাচ্ছে ।
অপহরণকারীরা নতুন কৌশলে অপহরণ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার পরিচয়ে তারা তুলে আনে। এরপর আর কোনো হদিস পাওয়া যায় না। হয়ত কয়েকদিন পরে অনেকের লাশ মিলে, আবার অনেকের লাশও মিলে না আর ফিরেও আসেনা।
আর যারা ফিরে এসেছে তারাও ফিরে আসার পর অপহরণের বিষয়ে কোনো কথা বলতে চান না। কোনো এক অজানা কারণে হয় তারা পুরোপুরি চুপ থাকেন, না হয় অত্যন্ত কৌশলে বিষয়টিকে এড়িয়ে যান। তবে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোও এসব রহস্য উদঘাটনে চেষ্টা চালিয়ে যান এবং যাচ্ছেন।
সম্প্রতি সংঘটিত এসব অপহরণের ঘটনায় নিরাপত্তার অভাববোঁধ করে দেশের জনগণ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে এখন উদ্বেগ কাজ করছে এবং এরই মধ্যে এই বিষয়ে প্রতিবাদি কণ্ঠ তুলতেও শুরু করেছেন তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে তারা বলছেন, বিচারবহর্ভূত হত্যাকান্ডের পরিবর্তে বাহিনীগুলো এখন অপহরণের ঘটনা ঘটাচ্ছে।
অপহরণের পর উদ্ধার হওয়া মিরপুরের বাসিন্দা আব্দুল হাসনাত পলিন বলেন, দয়া করুন আমাকে, আমার পরিবারের সঙ্গে শান্তিতে থাকতে চাই আমি। আমার অপহরণের বিষয়ে আমি কিছু বলবো না, আর সেসব দিনের কথা আমি বাকি জীবনে আর মনেও করতে চাই না।
পেশায় ঠিকাদার পলিন গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বিএএফ শাহীন স্কুলের সামনে থেকে অপহৃত হন এবং প্রায় আড়াই মাস পর গত ২০ এপ্রিল ফিরে আসেন।
কারা তাকে অপহরণ করেছিলেন, আর কিভাবেই বা তিনি ফিরে এলেন এই বিষয়েও কিছু জানাতে ও বলতে অস্বীকৃতী জানিয়ে পলিন বলেন, শুধু সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলার জন্যই এখন আমি অন্য জায়গায় থাকছি। আমি অসুস্থ এবং বর্তমানে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছি। আমি ওই ঘটনার বিষয়ে আর কোনো কথাই বলতে চাই না।
একই রকম অপহৃত হওয়ার পর ফিরে এসেছেন এমন অন্তত তিনজন ব্যক্তি, তাদের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল এবং কেনই বা তাদের অপহরণ করা হলো আর কেনই বা আবার ছেড়ে দেয়া হলো সেসব বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাতে অস্বীকার করে, ঠিক পলিনের মতোই প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করেন।
আরেকটি ঘটনায় একটি মুদি দোকানের সাবেক কর্মচারী মহিউদ্দিন আহাদ (২৬) দাবি করেন, মিরপুরে তার বাসা থেকে র্যাবের কয়েকজন সদস্য তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পর ৬ মার্চ একটি মাইক্রোবাসে করে আবার তাকে মিরপুর ১০-এ নামিয়ে দিয়ে যান।
সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলার সময় পুরো ঘটনার আদ্যপান্ত বর্ণনা না করে বরং তা এড়িয়ে যান আহাদ, দাবি করেন- কারা তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল এই বিষয়ে কিছুই জানেন না তিনি। তিনি বলেন, তারা আমাকে কেন তুলে নিয়ে গিয়েছিল এবং কেনই বা ছেড়ে দিয়েছিল তার কিছুই জানি না আমি।
দেশের খ্যাতনামা সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশবাসী আইনজীবী সংস্থা বেলা’র প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী পেশায় ব্যবসায়ী আবু বকর সিদ্দীক গত ১৬ এপ্রিল ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় তার নিজ কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার পথে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসীর মাধ্যমে অপহৃত হন। অপহরণের প্রায় ৩০ ঘণ্টা পরে ১৭ এপ্রিল রাতে তাকেও মিরপুর ১-এ ছেড়ে দেয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনাটি তার পরিবার ও আত্মীয়স্বজন তো বটেই, এমনকি পুরো দেশবাসীকে নাড়িয়ে দিলেও এখনো অপহরণকারীদের হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এমনকি যে গাড়িটিতে করে সিদ্দীককে অপহরণ করা হয়েছিল, সেটিও খুঁজে বের করতে পারেনি তারা।
রিজওয়ানার স্বামীকে অপহরণের পর দ্রুততর সময়ের মধ্যে পুলিশের প্রধান কার্যালয়ে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং নারায়ণগঞ্জ পুলিশও ১২ সদস্য বিশিষ্ট আরেকটি কমিটি গঠন করে। কিন্তু এতোকিছুর পরে এখনো পর্যন্ত তদন্তে কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি পুলিশ।
সিদ্দীকের মুক্তি পাওয়ার পর পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ওই অপহরণের রহস্যের জট ছাড়াতে তারা তদন্তের কাজ অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাবেন।
সিদ্দীক জানিয়েছিলেন যে তিনি ‘অপরাধীদের’ চিনতে পারেননি এবং কারা আর কেন তাকে অপহরণ করেছিল তাও জানেন না তিনি।
সিদ্দীকের স্ত্রী রিজওয়ানা হাসান জানান, তার স্বামী নিজের কোনো ব্যক্তিগত কিংবা ব্যবসায়িক কারণে অপহৃত হননি। বরং কর্মক্ষেত্রে রিজওয়ানার সঙ্গে বৈরী সম্পকের্র কারণে স্বামী সিদ্দীককে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে বলেও তার সন্দেহের কথা জানান তিনি। তিনি আরো জানান, অপহরণকারীরা অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিল।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এটিএম হাবিবুর রহমান জানান, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার ও স্বজনরা নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে আঙুল তুলছেন। কিন্তু বেশ কয়েকজন অপহৃত ব্যক্তি যখন ফেরত এসেছেন, তারপর থেকে তাদের কেউই আর বলেননি যে র্যাবই তাদের অপহরণ করেছিল।
তিনি বলেন, এর মানে একটাই, এই ধরনের অবৈধ কাজের সঙ্গে র্যাব জড়িত নয়। র্যাব সবসময়েই ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করার চেষ্টা করে।
তাদের এ বক্তব্যেও যৌক্তিকতা রয়েছে। কেন র্যাব পুলিশ এভাবে মনুষ অপহরণ করবে। তারাতো জনগণের রক্ষক। তবে সাধারণ মানুষের ভাবনা এসব অপহরণের সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জড়িত। তাদের সে ভাবনাও অমূলক নয়। কেননা এপর্যন্ত যারাই আপহরণের শিকার হয়েছেন তাদের সবাইকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ করা হয়েছে বা তুলে নেয়া হয়েছে। কিন্তু এর পর আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তাদের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের খুঁজে বের করা দূরে থাক এই অপহরণ নাটকের নায়কদেরও খুঁজে বের করতে পারেনি। তখনতো সাধারণ মানুষের সন্দেহ বাড়তেই পারে যে আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এতই দুর্বল। যারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে ব্যার্থ হচ্ছে। আবার অনেকের মনে এভাবনাও জেগেছে যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এত দুর্বল নয়। তারা ইচ্ছা করলে এ রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেন। নিশ্চয়ই এসব অপহরণের পিছনে তাদের হাত রয়েছে তাই তারা করছেন না। যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অকপটে একথা অস্বীকার করবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নামে অপহরণ হচ্ছে। তাহলে এ আবার কোন বাহিনী। ভাবতে হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অজান্তে আর একটা বাহিনী রয়েছে। সেই বাহিনীই এই কাজ করে থাকে। তারা কেনো ধরা পরছে না। তারা কোন শক্তিবলে এই অপরাধ করে পার পেয়ে যায়। যতক্ষণে অপহরণের রহস্য নায়কদের গ্রেফতার করা না যাবে, ততদিনে এই অপবাদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর পড়বেই।
সম্প্রতি অপহরণকারীদের হাত থেকে কয়েকজন অপহৃতব্যাক্তি ফিরে এলেও ধরা পড়েনি কেনো অপহরণকারী। এমনকি এরহস্যের জটও খোলেনি। এ জন্যই অপহরণ থামছে না। অপহরণ এখন নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন একটি দিন নাই যে কেউ না কেউ অপহরণের শিকার হচ্ছেন। নারায়নগঞ্জ এখন অপহরণের নগরি হিসেবেই পরিচিত। রেজওয়ানা হাসানের স্বামীর পর
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে তুলে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। তাদের কে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে। অবশেষে তাদের গাড়ি পাওয়া গেছে সাভারে। আর তিনদিন পরে তাদের সাতজনেরই লাশ পাওয়া গেছে শিতলক্ষ্যা নদীতে। দিনে দুপুরে এক সঙ্গে সাতজনকে অপহরণও এভাবে হত্যা করায় শুধু নারায়নগঞ্জ নয়, পুরো দেশ স্তিমিত হয়ে গেছে। তার পরও কিন্তু অপহরণ থেমে থাকেনি। সাতজনের লাশ পাওয়ার পরেরদিন আর এক ব্যবসায়ী সাইফুর ইসলাম অহৃত হন। অবশ্য তিনি জিবিত উদ্ধার হয়েছেন।
গত রোববার বিকেলে কাউন্সিলর নজরুলের সাদা রঙের এক্স করোলা প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-ব ১৪-৯১৩৬) দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ বাড়ি ফিরছিলেন। পথে শিবু মার্কেট এলাকা থেকে তাদের তুলে নিয়ে যায়।
এর আগে উত্তরা থেকে যুবদল নেতাকে একইভাবে তুলে নেওয়া হয়। দ’ুদিন পরে তার লাশ মিলেছে লক্ষ্মিপুরে। বগুড়াথেকে অপহৃত ব্যবসায়ীর লাশ পাওয়া গেছে সিলেটে। কেরানীগঞ্জ থেকে অপহৃত হয়েছেন যুবলীগনেতা। এখন আর অপহরণ রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সাধারণ মানুষও এখন অপহরনের শিকার হচ্ছেন।
ময়মনসিংহের ভালুকায় গত সোমবার ভোরে কোচিং সেন্টারের দুজন শিক্ষককে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করেছে দুর্বৃত্তরা। ভোর চারটার দিকে কামাল হোসেন ওরফে সবুজ ও তাঁর চাচাতো ভাই আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে স্বপনের পাশাপাশি দুটি বাড়িতে আট-দশজনের সশস্ত্র একটি দল দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শামছুদ্দিনের ছেলে কামাল হোসেন ও জয়নাল আবেদীনের ছেলে আবু বক্করকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে উঠিয়ে চলে যায় তারা।
এদিকে একই সময় গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সহোদর দুই ভাইকে অপহরণ করা হয়। গাজীপুরে অপহরণ পরে মুক্তি: পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পার্র্শ্ববর্তী টানসূত্রাপুর এলাকায় গতকাল ভোর সাড়ে চারটার দিকে সাত-আটজনের একটি দল পুলিশ পরিচয় দিয়ে মৃত মাধাই চন্দ্র সরকারের ছেলে কেদারী চন্দ্র সরকারের (৬০) বাড়ির দরজা খুলতে বলে। কিন্তু দরজা না খোলায় তারা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাঁকে ধরে বাড়ির বাইরে নিয়ে একটি গাড়িতে তোলে। এ সময় তাঁর ছোট ভাই ঝিলমোহন চন্দ্র সরকার (৫৫) এগিয়ে এলে তাঁকেও ধরে গাড়িতে উঠিয়ে চলে যায়। অপহরণকারীরা একটি কালো রঙের ব্যক্তিগত গাড়ি ও একটি মাইক্রোবাস নিয়ে এসেছিল।
এর আগে রাজধানীর লালবাগ থেকে অপহৃত দুই যুবকের সন্ধান আজও মেলেনি। ।’র্যাব-১০’ লেখা গাড়িতে করে তাদের চার বন্ধুকে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এর কিছুদিন পর দুইজনকে ছেড়ে দেয়া হলেও বাকি দু’জনের এখনো খোঁজ মেলেনি।
অপহরণ আতংকে পুরোদেশ কাপছে। সাধারণ মানুষই শুধু নয়, খোদ সরকারী দলের নেতারাও এই অপহরণ নাটকে বিরক্ত হয়ে উঠেছেন। সরকারদলীয় প্রবীণ নেতা সুরঞ্জিতসেন গুপ্ত সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, অপহরণ মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। যে কেনো উপায় অপহরণ বন্ধ করতে হবে। শুধু বিরোধী দলের লোকই অপহৃত হচ্ছে এমন নয়। সরকার দলীয় লোকও অপহরণের শিকার হচ্ছে।
আবার বিএনপি নেতা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি অ্যাডভেকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, সারাদেশে ঘটতে থাকা গুমের ঘটনা উদঘাটনে সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে। সরকার তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে।
তারা বলেন গুমের দায় এড়িয়ে ‘জানি না’ বললে চলবে না। জানি না বলে দায় এড়ানো যায় না। দায় এড়ানোর চেষ্টা করলে দেশে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে।
অন্যদিকে সরকার এ গুম অপহরণের দায় বিএনপি নেতাদের উপর চাপাচ্ছেন।
বি এনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা বলেছিলেন আমরা চোরা গোপ্তা হামলা করব। এখন প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যসব মন্ত্রীরাই বলছেন বিএনপি এই গুম অপহরণ করছে। আমাদের কথা হচ্ছে বিএনপি যদি এই গুম অপহরণ করে থাকে কেনো
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের গ্রেফতার করছে না। কেনো এই রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারছেনা। সরকার বিএনপির উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করলেও নিজেদের দায় এড়াতে পারবে না। দেশের সব মানুষই আজ অজানা এক আতঙ্কে রয়েছে। বাসা থেকে বের হলেই অপহরণ আতঙ্ক তাড়া করে বেড়ায়। উৎকন্ঠায় থাকেন পরিবারের সদস্যরাও। নিজ দেশে যদি আজ আমাদের এই অবস্থা হয়। তাহলে আমাদের স্বাধীনতা অর্থবহ হবে না। বাধা গ্রস্ত হবে আমাদের কাক্সিখত উন্নয়ন। তাই সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে হবে। কেননা জন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। আর এসব অপকর্মের সাথে যারা জড়িত তাদেরকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দিতে হবে। এই চক্রকে গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় না আনতে পারলে এই গুম অপহরণ খেলা বন্ধ হবে না। তাই যে কোনো উপায় এই রহস্যের নায়কদের গ্রেফতার করতে হবে।
