মোঃ জামাল হোসেন ॥
শাহরাস্তির ওয়ারুক রহমানিয়া নূরিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসায় শ্রেণি কক্ষের অভাবে তাবু টানিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছে। মাদ্রাসার প্রবেশ পথে খালের উপর ব্রীজ না থাকায় জরাজীর্ণ কাঠের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির সুপার আ.হ.ম শামছুল হুদা জানান, শাহরাস্তি উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার সংলগ্ন রেল লাইনের উত্তর পাশে অবস্থিত রহমানিয়া নূরিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসাটি ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পার্শ্ববর্তী সেতরা গ্রামের আলহাজ্ব এম. মতিউর রহমান তার নিজস্ব উদ্যোগ ও অর্থায়নে এ মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মাদ্রাসাটি সুনামের সহিত প্রত্যেক বছর ৫ম শ্রেণির সমাপনী, জেডিসি ও দাখিল পরীক্ষায় কৃতিত্বের সহিত ভাল ফলাফল করে আসছে। মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে ইবতেদায়ী থেকে দাখিল পর্যন্ত ৩ শত ৮০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। ২০০২ সালের জুন মাসে মাদ্রাসাটি এমপিওভূক্ত হয়। বর্তমানে মাদ্রাসায় ১৩ জন শিক্ষক সহ ১৬ জন কর্মচারী রয়েছে। মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠাকালীন ও এমপিও ভূক্তির পর থেকে অদ্যাবধি ভবন নির্মাণের জন্য কোন সরকারি বরাদ্দ পায়নি। মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার পর অদ্যাবধি শুধুমাত্র মাটি ভরাট ও সংস্কারের জন্য ৩ টন টি.আর (টেস্ট রিলিফ) ছাড়া কোন বড় ধরণের সরকারি বরাদ্দপায়নি। শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের পাঠদান চালিয়ে যাওয়ার জন্য কমপক্ষে ১৫টি শ্রেণি কক্ষের প্রয়োজন থাকলেও রয়েছে মাত্র ৫টি শ্রেণি কক্ষ। টিন ও বাঁশ দিয়ে তৈরী প্রতিষ্ঠানটির একমাত্র ঘরটিও বর্তমানে জরাজীর্ণভাবে একপাশে হেলে পড়েছে। এ জরাজীর্ণ ঘরটিতে শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করছে। শ্রেণি কক্ষের অভাবে জরাজীর্ণ ঘরটির পাশে তাবু টানিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছে। এছাড়া মাদ্রাসার প্রবেশদ্বারে খালের উপর বাঁশ ও কাঠের তৈরী সাঁকোটি দিয়ে প্রতিনিয়ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
মাদ্রাসাটির গত বৎসরের ৫ম শ্রেণি সমাপনীতে শতভাগ, জেডিসিতে শতভাগ ও দাখিল (সমমান) পরীক্ষায় ৯৮% শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে।
মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিদিনই ভাঙ্গা সাকো দিয়ে মাদ্রাসায় আসা-যাওয়া করতে হয়। আমাদের শ্রেণি কক্ষের অভাবে শিক্ষকদের সহযোগিতায় তাবু টানিয়ে অনেক সময় মাদ্রাসা মাঠে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে না পারায় অনেক সময় ক্লাস শেষ না করেই বাড়ীতে ফিরে যেতে হয়। এতে আমাদের লেখা পড়ায় চরম বিঘœ ঘটছে। আমরা মাদ্রাসাটির নতুন ভবন নির্মাণ ও ব্রীজ নির্মাণ করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি।
