আমার কণ্ঠ রিপোর্ট-
চাঁদপুর-৫ হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি নির্বাচনী এলাকার জাতীয় সংসদ সদস্য, মুক্তি যুদ্ধের ১ নং সেক্টর কমান্ডার ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংদসীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান এর নেতৃত্বে আমরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। ’৭৫ এ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান সহ তার পরিবারের সদস্যদেরকে ঘাতকেরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। শেখ ফজলুল হক মনি যুবলীগের প্রতিষ্ঠা করে সারা বাংলাদেশে যুবলীগের আজ ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। দেশে যুবলীগ একটি শক্তিশালী সংগঠক। তিনি আরো বলেন, যুবলীগের বিরুদ্ধে কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি সহ কোন অভিযোগ নেই। এ যুবলীগ একটি সু-সংগঠিত যুবলীগ। আগামীতে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য এ যুবলীগ রাস্তায় ঝাপিয়ে পড়বে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে হাজীগঞ্জ-শাহ্রাস্তিতে যে পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে তা অন্য কোন জেলা বা উপজেলায় হয়নি। আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে এমপি/মন্ত্রী বানিয়েছেন আপনাদের সেবা ও উন্নয়ন করার জন্য। আমি হাজীগঞ্জ- শাহ্রাস্তিতে প্রথমে এসে দেখেছি মাত্র ৮/১০ কিলোমিটার রাস্তা পাকা ছিল। কিন্তু বর্তমানে তেমন একটা কাঁচা রাস্তা নেই। অধিকাংশ রাস্তাই এখন পাকা। বাকী যে রাস্তাগুলো রয়েছে তাও এ সরকারের আমলেই শেষ করা হবে। মেজর রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম বলেন, হাজীগঞ্জ-শাহ্রাস্তিতে অসংখ্য বাঁশের সাকু ছিল। যা বলা মুশকিল। কিন্তু বর্তমানে হাজীগঞ্জ-শাহ্রাস্তিতে কোন বাঁশের সাকু নেই, সবগুলোতে ছোট-বড় মিলিয়ে শত শত ব্রীজ-কালভার্ট করা হয়েছে। ডাকাতিয়া নদীর উপর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ৭টি ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে। চাঁদপুর কুমিল¬া মহাসড়কের জনগুরুত্বপূর্ণ আলীগঞ্জ ব্রীজ, হাজীগঞ্জ বাজার ব্রীজ ও মিঠানিয়া ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে। এখন আর হাজীগঞ্জ বাজারে তেমন কোন যানজট নেই। তিনি বলেন, হাজীগঞ্জ-শাহ্রাস্তি অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বহুতল ভবন করা হয়েছে। এখন আর শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ছাত্র/ছাত্রীদের কোন সমস্যা নেই। এ ধরণের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হলে শেখ হাসিনা সরকারকে ভোট দিয়ে বার বার নির্বাচিত করতে হবে। তিনি বলেন, আমি হাজীগঞ্জ-শাহ্রাস্তির প্রত্যন্ত অঞ্চলে পায়ে রিক্সায় ঘুরেছি। সাধারণ মানুষ আমাদের উন্নয়নে অনেক খুশী।
গতকাল শনিবার বিকালে হাজীগঞ্জ শহর যুবলীগের উদ্যেগে যুবলীগের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবাষির্কী উপলক্ষে স্মরণকালের বিশাল বণ্যাঢ্য র্যালী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য এ কথা বলেন। হাজীগঞ্জ শহর যুবলীগের আহবায়ক হায়দার পারভেজ সুজনের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহবায়ক কাজী সারওয়ার দিদার এর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুর রশিদ মজুমদার, ভাইস চেয়ারম্যান পারভীন ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহ্জা হেলাল উদ্দিন মিয়াজি, সাধারণ সম্পাদক গাজী মোঃ মাঈনুদ্দিন, শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি মাহবুব উল আলম লিপন, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ মুন্সী, জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মাহফুজুর রহমান টুটুল, মোঃ আলী মাঝি, বাবু ঝন্টু দাস, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন, শহর আওয়ামীলীগের সদস্য আহসান হাবিব অরুনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।
যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবাষির্কীকে উপলক্ষে বণ্যাঢ্য র্যালী ও আলোচনা সভায় দুপরের পর থেকে পৌরসভার বিভিন্ন ইউনিট থেকে ব্যানার নিয়ে দলে দলে মিছিল নিয়ে আসতে শুরু করে। বেলা ৪টার মধ্যে হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজার বালুর মাঠ কানায় কানায় ভরে যায়। বিকেল সাড়ে ৪টায় বালুর মাঠ থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে বিশাল র্যালী পশ্চিম বাজার থেকে টোরাগড় পৌর ভবন সামনে থেকে ঘুরে বাজার হয়ে আবার পশ্চিম বাজার সভারস্থলে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় হাজার হাজার দলীয় নেতাকর্মীর উপস্থিত ছিলেন।
