ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের চিত্র এটি। হাতে থাকা নতুন বইয়ের গন্ধে মুখর উচ্ছ্বাসিত শিশুদের কোলাহলে মুখোরিত ছিল পুরো এলাকা।
ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম দিনে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিশুরা জড়ো হয়েছিল এখানে। উদ্দেশ্য নতুন বই নেয়া।
সোমবার সকাল ১০টায় শুরু হয় বই বিতরণ উৎসব ২০১৮। এতে যোগ দেয় ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা। উৎসবে কোমল শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমরা বিনামূল্যে বই দিই, উপবৃত্তি দিই বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিই বলেই এখন সবাই স্কুলে যায়- এটা আমার মনে হয় না। স্বাধীনতার মর্মবাণী উপলব্ধি করতে পারে বলেই তারা স্কুলে যায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আজকের এ দিনটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবছর শিশুদের হাতে এদিনে নতুন বই তুলে দেই। বিগত কয়েক বছরের প্রথম দিনই বিনামূল্যে বই বিতরণ করতে পারা সরকারের অন্যতম বড় অর্জন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সবার জন্য উপবৃত্তির দ্বার খুলে দেয়া হয়েছে। এখন সব শিশুরাই স্কুলে যাচ্ছে। তাদের বিস্কুট দেয়া হচ্ছে। তবে আমি মনে করি বাবা-মায়েরা শুধুমাত্র এসব কারণে এখন আর শিশুদের স্কুলে পাঠান না। তারা সন্তানদের দেশের প্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চান, তাই স্কুলে পাঠান।
এর আগে বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে শুরু হয় উৎসব। চলে সংগীত পরিবেশন। ‘আজ বাংলাদেশের হৃদয় হতে’, ‘আমরা সবাই রাজা’- এমন সব গানের তালে তালে মেতে ওঠে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
গান শেষেই মঞ্চে আসেন জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির উপস্থাপক হানিফ সংকেত। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজকে আমার মনে হচ্ছে আমি ফুলের সঙ্গে আছি।
হানিফ সংকেত বলেন, আজকের দিনটা তোমাদের জন্য সত্যিই খুব আনন্দের। আমাদের সময় কল্পনাও করতে পারিনি এমন উৎসবের মাধ্যমে বই পাবো। বড় ভাইদের বলে রাখতাম পুরনো বইয়ের জন্য।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু বই নিলে চলবে না। বই পড়ে জীবনকে আলোকিত করতে হবে। পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বইও পড়তে হবে। স্কুলে যেতে হবে। গাইড বই, কোচিং বাদ দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন, উম্মে রাজিয়া কাজল প্রমুখ। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আসিফ-উজ-জামানের সভাপতিত্বে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবারের বই উৎসবে বক্তব্য দেন।
বক্তৃতা পর্ব শেষে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে উৎসব উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। এরপরই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করেন তিনি।
লালবাগ, মতিঝিল, কোতোয়ালি, রমনা, সূত্রাপুর ও ডেমরা থানার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৫ হাজার শিশু বই উৎসবে যোগ দিয়েছিল। অনুষ্ঠানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল নানা ধরনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও।

