মো: কামাল হোসেন :
চাঁদপুর পল¬ী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাভুক্ত এলাকার গ্রাহকের কাছে গত বছরের প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে বলে চাঁদপুর পল¬ী বিদ্যুৎ সমিতির সূত্রে জানা যায়। বকেয়া টাকা আদায়ের জন্য গ্রাহকদের বহুবার তাগাদা ও নোটিশ করা স্বর্ত্ত্বেও অসংখ্য গ্রাহক এখনো বকেয়া টাকা দেয়নি। যার জন্য যে কোন সময় গ্রাহকদের বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করার জন্য বকেয়া গ্রাহকদের বাড়ী এবং প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
লাভ নয়, লোকসান নয় এই মুলনীতির ভিত্তিতে ১৯৭৭ সালে পল¬ী বিদ্যুতায়ন কাজ শুরু হয়। সমগ্র চাঁদপুর জেলার ৮টি, কুমিল¬া জেলার ১টি (মনোহরগঞ্জের আংশিক) উপজেলার ভৌগলিক এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণে নিয়োজিত চাঁদপুর পল¬ী বিদ্যুৎ সমিতি একটি সমবায় ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। গ্রাহক সদস্যবৃন্দ সমিতির সেবক ও মালিক। গ্রাহক সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে চাঁদপুর পল¬ী বিদ্যুৎ সমিতি ৬টি জোনাল অফিস, ৩টি এরিয়া অফিস, ১২টি অভিযোগ কেন্দ্র ও ৭টি উপকেন্দ্র এবং ৪৯৫৬ কিলোমিটার বিদ্যুতায়িত লাইনের
মাধ্যমে আবাসিক ২,৩২,৯৯০টি, বাণিজ্যিক ২৭,৬৩৯টি, সেচ ২৫২৭টি শিল্প ২৬৯৬টি, অন্যান্য ৪৪৬৮টি সহ মোট ২,৭০,৩২০টি বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়। সমিতির ৮৬% গ্রাহক আবাসিক এবং বিউবোর্ড থেকে প্রতি ইউনিট ৪.২৬ টাকা ধরে বিদ্যুৎ ক্রয় করে আবাসি গ্রাহকদের নিকট ৩.৮৭ টাকা ধরে বিদ্যুৎ বিক্রয় করে। বিদ্যুতের ক্রয়মূল্যের চেয়ে বিক্রয়মূল্য কম হওয়ায় সমিতির দৈনন্দিন পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় নির্বাহ করা অত্যন্ত দুরুহ হয়ে পড়েছে। তা স্বর্ত্ত্বেও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও গ্রাহক সেবার স্বার্থে সমিতির নিজস্ব অর্থায়নে গত ৩ বছরে কচুয়ায় ১০এমভিএ উপকেন্দ্রকে ২০ এমভিএ, মহামায়া ও ফরিদগঞ্জ উপকেন্দ্রকে এমভিএ হতে ১৫ এমভিএ, শাহ্রাস্তি ও মতলব (উ:) উপকেন্দ্রকে ৫ এমভিএ হতে ১০ এমভিএ উন্নীত করা হয়। সিএসডিপি-১ প্রকল্পের আওতায় মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ইতিমধ্যে ০১টি ১০ এমভিএ উপকেন্দ্র চালু করা হয়। এছাড়াও ১.৮ মিলিয়ন প্রকল্পের আওতায় হাজীগঞ্জ ১টি, চাঁদপুর ১টি সহ নতুন ২টি নির্মাণ প্রকল্পের উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা সারাদেশে ওভারলোডেড ফিডার সমূহ আওতায় নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ ও লোড বৃদ্ধিতে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। সমিতির অধিকাংশ ৩৩/১১ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ফিডার ওভার লোডেড অবস্থায় ছিল। বর্তমানে ওভার লোড সমস্যার অনেকটাই সমাধান হওয়ায় অধিকাংশ ফিডারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে। পিজিসিবি পরিচালিত চাঁদপুর গ্রীডটিও ওভারলোডেড ছিল। বর্তমানে তারও সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। পিজিসিবি কর্তৃক হাজীগঞ্জ/ কচুয়া এলাকায় নতুন একটি ১৩২/৩৩ কেভি গ্রীড উপকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। চাঁদপুর গ্রীড হতে চাঁদপুর-হাজীগঞ্জ ও চাঁদপুর-মতলব ৩৩ কেভি ফিডারের ১৫ কিলোমিটার লাইনের তার অধিক ক্ষমতা সম্পন্ন তারের মাধ্যমে পরিবর্তনের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। মতলব দক্ষিণ উপকেন্দ্রের ৩টি ১১ কেভি ব্যাকবন লাইনের কাজ নির্মাণ ঠিকাদারের পাশাপাশি জনবলের মাধ্যমে সমাপ্ত করে মহামায়া ও কচুয়ায় উপকেন্দ্রের ওভারলোড সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। বর্ণিত কাজ সম্পূর্ণের ফলে ৩টি ১১ কেভি ফিডার লোডের সমস্যা ও একই সঙ্গে সমাধান করা হয়েছে। ফরিদগঞ্জ-শাহ্রাস্তি উপকেন্দ্রে ২টি ১১ কেভি ফিডারের বাই পারকেশনের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আপগ্রেডেশন যে গতিতে চলছে তাতে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রত্যাশী নতুন গ্রাহকদের চাহিদা মহ বিদ্যুৎ বিতরণ করা সম্ভব বলে আশাবাদি চাঁদপুর পল¬ী বিদ্যুৎ সমিতি।
যেহেতু প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রয়ের ০.৮১ টাকা পরিচালন ক্ষতি হচ্ছে। তাই বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সঠিক নির্দেশনা মোতাবেক বিদ্যুৎ ব্যবহার করার জন্য পল¬ী বিদ্যুৎ সমিতি গ্রাহকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। নভেম্বর’১৪ পর্যন্ত চাঁদপুর পল¬ী বিদ্যুৎ সমিতি গ্রাহক সদস্যদের নিকট ১৬,৫৯,৩৬,০১৩.০০ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রহিয়াছে। বিদ্যুৎ বিক্রয়ের অর্থের মাধ্যমে চাঁদপুর পল¬ী বিদ্যুৎ সমিতি পিডিবি ও পিজিসিবি’র বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ সহ সমিতির দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করে। তাই সমিতির প্রত্যেক গ্রাহক সদস্যবৃন্দদের নিকট নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার জন্য চাঁদপুর পল¬ী বিদ্যুৎ সমিতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।
বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক প্রচেস্টা স্বর্ত্ত্বেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা বেশী হওয়ায় ও বিভিন্ন কারিগরী কারণে অত্র সমিতির ভৌগোলিক এলাকায় লোড শেডিং করতে হয়। লোড শেডিং একটি জাতীয় সমস্যা। বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে এ সমস্যা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারিভাবে দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। বিদ্যুৎ ব্যবহারে চাঁদপুর পল¬ী বিদ্যুৎ সমিতি প্রত্যেক সদস্য গ্রাহকবৃন্দকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ ও নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল প্রদানের জন্য অনুরোধ করছেন।
