মোঃ কামাল হোসেন ঃ
চাঁদপুর-৫ হাজীগঞ্জ-শাহ্রাস্তি নির্বাচনী এলাকার জাতীয় সংসদ সদস্য, মহান মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টর কমান্ডার, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম বলেন, আমি প্রথম ১৯৯৬ সালে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী গণসংযোগে আসার সময় বলাখাল-রামচন্দ্রপুর খেয়াঘাটে এসে দাঁড়ালাম। কিছুক্ষণের মধ্যে বৃষ্টি আসল। তখন দেখলাম নদীতে নৌকা এবং নদীর উত্তর ও দক্ষিণ পাড়ে স্কুল কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ মানুষ বৃষ্টিতে ভিজছে। তখন আমি সিদ্ধান্ত নিলাম বলাখাল-রামচন্দ্রপুর ব্রীজটি করা দরকার। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত হাজীগঞ্জ-শাহ্রাস্তি আরো জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রীজ করতে গিয়ে এই ব্রীজটি করতে বিলম্ব হয়। ২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর এই ব্রীজটি করার জন্য আমি প্রথম কাজ হিসাবে তোড়-জোড় শুরু করি। অবশেষে দুই বছরের মাথায় এই ব্রীজটি নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করি। দীর্ঘ চার বছর পর নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে ব্রীজের কাজ শেষ করে আজ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলাম।
মেজর (অব) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম আরও বলেন, শেখ হাসিনা সরকার উন্নয়নের সরকার। শেখ হাসিনা সরকার রাষ্ট্রে থাকা মানেই বাংলাদেশের উন্নয়নে বয়ে যাওয়া। তারই ধারাবাহিকতায় হাজীগঞ্জ-শাহ্রাস্তিতে উন্নয়নের জোয়াড় বইছে। যার দৃশ্য আপনারা নিজেরাই দেখছেন এবং হাজীগঞ্জ-শাহ্রাস্তি নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামীলীগের ১১ বছরের ক্ষমতায় এ ডাকাতিয়া নদীর উপর ৭টি ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে। এ ব্রীজটির নাম লাকী সেভেন। এই ব্রীজের কারণে ৭নং পশ্চিম বড়কুল ইউনিয়ন ৬নং বড়কুল ইউনিয়নের একাংশ ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার এবং রামগঞ্জ-লক্ষ্মীপুরের সকল মানুষ উপকৃত হবে। পাল্টে যাবে এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন। তিনি আরো বলেন, বিশেষ করে স্কুল-কলেজ গামী ছাত্র-ছাত্রী ব্যবসায়ী ও অসুস্থ্য ব্যক্তিদের জন্য বিরাট উপকার হবে। নদীর দক্ষিনাঞ্চলে ৭নং বড়কুলে যে সকল রাস্তাগুলো কাঁচা রয়েছে। তা শীঘ্রই পাকা করণের ব্যবস্থা করা হবে। বিশেষ করে বলাখাল-নাটেহরা ব্রীজ থেকে আল-মদিনা বাজার পর্যন্ত পাকা করনের ব্যবস্থার জন্য শিঘ্রই ডিও লেটার পাঠাব। ইতিমধ্যে বেলচোঁ বাজার থেকে রামচন্দ্রপুর বাজার পর্যন্ত ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তার নির্মাণ কাজ চলছে। বাকীগুলো পর্যায়ক্রমে শেষ করা হবে। মেজর (অব) রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, আমার জীবনের একটি সুন্দর মুহুর্ত আজ। এই মুহুর্তটি আমি সব সময় মনে রাখবো। এলাকাবাসী ব্রীজটি মেজর রফিকুল ইসলাম বীর উত্তমের নামে প্রস্তাব করলে তিনি বলেন, আমি মানুষের মনের ভালবাসায় বেঁচে থাকতে চাই। পাথরের লেখায় আমার নাম থাকবে সেটা আমি প্রয়োজন মনে করি না। তাই আগামীতেও আপনারা আমাকে ভাল বাসবেন এবং আপনাদের ভালবাসা ও দোয়া চাই।
গত ৩০ জানুয়ারী বলাখাল-রামচন্দ্রপুর ব্রীজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ৭নং বড়কুল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি গাজী মোঃ মনির হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাতের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুর রশিদ মজুমদার, হাজীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব আঃ মান্নান খাঁন বাচ্চু, প্রধান প্রকৌশলী ফজলে রাব্বী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব হেলাল উদ্দিন মিয়াজী, সাধারণ সম্পাদক গাজী মোঃ মাঈনুদ্দিন, শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি মাহাবুব উল-আলম লিপন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আহমেদ খসরু, কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা জনতালীগের সভাপতি মোঃ সিরাজুল ইসলাম পাটওয়ারী, জেলা আওয়ামীলীগের সম্মানিত সদস্য মোঃ আঃ লতিফ, এ.এস.পি সার্কেল আবু হানিফ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুর্শিদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য ও হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বিল্লাল হোসেন তারেক, সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী জাহিদ হোসেন, হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আশ্রাফ জামিল, শহর আওয়ামীলীগের সদস্য আহ্সান হাবিব অরুন, শহর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ ইকবাল, জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী এবায়েদুর রহমান খোকন বলি, ছাত্রনেতা মোঃ রতন, ৭নং বড়কুল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতা ছিদ্দিকুর রহমান, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতা লোটাস মোঃ দেলোয়ার হোসেনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা। এ সময় হাজার হাজার জনতা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মেজর (অব) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তমের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন মজুমদারের নেতৃত্বে শতাধিক বিএনপির নেতা-কর্মী আওয়ামীলীগে যোগদান করেন।
