চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম
চাঁদপুরের ইচলি চৌরাস্তা থেকে ফরিদগঞ্জের গল্লাক পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার সড়কটি যেন একটি মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। একবার কেউ এ সড়ক দিয়ে কোথাও গেলে দ্বিতীয়বার চলাচল করতে চান না। তাকে বিকল্প পথ খুঁজে চলতে হচ্ছে। আর এ অবস্থা চলছে দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে । এলাকাবাসীর অভিযোগ সরকারের পর সরকার বদলালেও সড়কটি বদলাচ্ছে না।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ইসলামপুর, কৃষ্ণপুর, একাতা বাজার, মুন্সিরহাট, কামতা বাজার, গল্লাকসহ দীর্ঘ সড়কটির এক ইঞ্চিও ভাল নেই। কিছু কিছু জায়গায় পিচ ঢালাইয়ের অবশিষ্ট অংশ দেখা গেলেও অনেক জায়গায় এর কোনো চিহ্ন নেই। কোথাও শুধু ইট, আবার কোথাও আছে শুধু মাটি। বড় বড় গর্ত হয়ে সড়কটি যান চলাচলে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জানা যায়, ২০০৪ সালে এই সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগে স্থানান্তরিত হয়। এরপর ২০১৩ ও ১৪ সালে চাঁদপুর ও ফরিদগঞ্জ অংশে কিছু কিছু এলাকায় ৫/৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার কাজ করা হয়। এছাড়া বড় ধরনের কোন কাজ হয়নি।
গল্লাক কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম বলেন, এ সড়কটি দিয়ে ঢাকা ও চাঁদপুরের লোকজন নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, রামগঞ্জ চলাচল করে থাকে। কিন্তু ২০০১ সাল থেকে সড়কটির এতই ব্যাহাল অবস্থা যার কারণে প্রায়ই ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তাছাড়া আগে এই সড়ক দিয়ে বাস, প্রাইভেট কার চলাচল করতো। এখন সড়কটি খারাপ হওয়ায় কেউই আসতে চান না। ফরিদগঞ্জ থানার ওসি নামজুল হক এ কথা স্বীকার করলেও এর কোনো পরিসংখ্যান দিতে পারেননি।
পশ্চিম সুবিদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হানিফ মিয়া বলেন, দুই উপজেলার দুই থেকে তিন লাখ মানুষ এই সড়কটি দিয়ে চলাচল করতো। কিন্ত মাজা ভাঙার ভয়ে এখন অধিকাংশ মানুষ বিকল্প পথে চলেন। বিষয়টি বহুবার স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও কোন কাজ হয় নি।
ফরিদগঞ্জের মুন্সিরহাট এলাকার বাসিন্দা জাহানারা বেগম ও তোফায়েল আহমেদ বলেন, তাঁরা সড়কের এ ভয়াবহ অবস্থার কারণে এখন বাকিলা বা হাজীগঞ্জ হয়ে চাঁদপুর যাওয়া-আসা করেন। এতে তাদের সময় ও অর্থ বেশি ব্যয় হচ্ছে।
সাচনমেঘ গ্রামের আব্দুর রব মাস্টার বলেন, সিএনজি অটোরিক্সা চললেও সুস্থ্য মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সেই সঙ্গে চলাচলকারী যানবাহনও চরম ক্ষতির শিকার হচ্ছে। এই সুযোগে চলাচলকারী সিএনজি অটোরিক্সাসহ অন্যান্য যানবাহন তাদের ভাড়া দুই তিন গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ নিয়ে সিএনজি বা গাড়ির চালকরা যাত্রীদের সাথে প্রতিনিয়ত তর্ক -বিতর্ক, ঝগড়া ও মারামারিতে লিপ্ত হচ্ছে।
এ সড়কে চলাচলকারী সিএনজি অটোরিক্সা চালক বাদল, দুলালসহ বেশ কজন অভিযোগ করেন, সড়কের বিভিন্ন এলাকায় ১৫/২০টি ইট ভাটা তৈরী হওয়ায় এবং এসব ইটভাটার মালামাল ও ইট ট্রাক্টরে করে আনা নেওয়ার কারণে এ সড়কের এই অবস্থার সৃস্টি হয়েছে। ২৪ ঘন্টাই শতশত ট্রাক্টরের দখলে থাকে সড়কটি। ট্রাক্টর চলাচল বন্ধ না করলে এই সড়কের যত কাজই করা হোক না কেন কোন লাভ হবে না।
জানা যায়, বিএনপি সরকারের সময় চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের অধীনে থাকা বেড়িবাধটি পাকা সড়কে উন্নীত করা হয়। ঠিকাদার ও বিএনপি নেতা শরীফ মো.ইউনুস ১৯৯১ সালে এই সড়কের ২৬ কিলোমিটার এলাকা পাকা করেন। এতে তখন ব্যয় হয় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ।
চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী শাহরুল আমিন বলেন, এই সড়কের ২৪ কিলোমিটার পর্যন্ত উন্নয়নের আওতায় প্রাথমিকভাবে এনে ১০ কিলোমিটার এলাকায় ৫ কোটি ব্যয়ে খুব শিগ্রই কাজ শুরু হবে। এরপর বাকি অংশে ধীরে ধীরে কাজ করা হবে।
