মানিক দাস ॥
চাঁদপুর শহরের ঢালীর ঘাট ডাকাতিয়া নদীর পাড় থেকে অজ্ঞাত যুবতীর মৃতদেহ উদ্ধারের ৯দিন পর পরিচয় পাওয়া গেছে। ঢাকা যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ট্রাকচালক আলাউদ্দিন বেপারী ও রোকেয়া বেগমের একমাত্র কন্যা ফাতেমা আক্তার ১৫ এর মৃতদেহ। সে যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি গার্লস স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে অধ্যায়ন করতো। তারা ৪ ভাই ১ বোনের মধ্যে ফাতেমা ছিলো তৃতীয়া। ফাতেমার মামার বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০নং লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে।
ফাতেমার মামা আলামীন জানান, যাত্রাবাড়ি এলাকায় তার বোন-ভগ্নীপতি সবাই বসবাস করতো। চাঁদপুর শহরের ইচুলী ঘাট এলাকার ফাতেমার পিতার নিকটাত্মীয় সুমন বেপারী কোচিং শেষ করে বাসায় ফেরার পথে ফাতেমাকে জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে অপহরণ করে। লঞ্চযোগে ফাতেমাকে চাঁদপুর নিয়ে আসার পথে তার ইজ্জত হনন করে সুমন বেপারী ও তার সঙ্গীরা। পরে তারা ফাতেমার মুখে এসিড নিক্ষেপ করে ঝলসে দিয়ে রাতের আঁধারে লঞ্চ থেকে ফেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন। নিখোঁজের পর ফাতেমার পরিবারের লোকজন আত্মীয়-স্বজনের বাসায় খোঁজা-খুঁজি করে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। ফাতেমাকে হত্যার পর সুমন বেপারী প্রায় সময় ফাতেমাদের বাসায় যাতায়াত করে ফাতেমার খোঁজ-খবর নেয়। আলামীন আরোও জানায়, ফাতেমাকে নির্যাতন ও হত্যা করে নদীতে ফেলে তাদের বাসায় গিয়ে ফাতেমার বিষয়ে জানতে চাইতো। সেই থেকে সুমনের প্রতি ফাতেমার পরিবারের সন্দেহ হয়। পরে যাত্রাবাড়ি থানার এসআই আজহারুল ইসলামের মাধ্যমে যাত্রাবাড়ি-মাউতাইল এলাকা থেকে সুমন বেপারী ও তার বন্ধু তুহিনকে গত ৫ দিন পূর্বে আটক করে। রিমান্ডে এনে আটক দু’জনকে জিজ্ঞাসা করলে সুমন বেপারী ফাতেমা হত্যার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
গত মঙ্গলবার আলামীন চাঁদপুর মডেল থানায় এসে অজ্ঞাত তরুনীর গলিত লাশের ছবি ও পোশাক দেখে ফাতেমার মৃতদেহ সনাক্ত করেন। গত ১ ফেব্র“য়ারি বিকেল সাড়ে ৪টায় চাঁদপুর মডেল থানার এসআই সাহাবুদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঢালীরঘাট ডাকাতিয়া নদী থেকে অজ্ঞাত যুবতীর মৃতদেহ উদ্ধার করে। পর দিন ২ ফেব্র“য়ারি আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে চাঁদপুর পৌর গোরস্থানে ওই লাশটি দাফন করা হয়।
