॥ শাহ মোহাম্মদ মাকসুদুল আলম ॥
কিছু দিন ধরে বাসায় পানির সমস্যা হচ্ছিল। টেপ দিয়ে পানি আসছিল না। হাউজে একটা মাত্র টেপ তাতেও পানি না আসলে চলে কী ভাবে? এক বেলা পানি না আসা মানে নাওয়া-খাওয়া, রান্না-বান্না বন্ধ! তার উপর বাসার আশপাশে স্বচ্ছ পুকুর, দিঘি বা জলাধারও নেই যে বিকল্প উপায়ে পানি সংগ্রহ করা যাবে। নেই গভীর বা অগভীর নলক’পও। এক পর্যায়ে অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে পানির জন্য হা-হা-কার লেগে গেছে। আমি চাঁদপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তালতলায় অবস্থিত আমার বাসার পানি সমস্যার কথা বলছিলাম। পানি না আসায় কাজের বুয়ার ঘেনঘেনানি-প্যানপেনানি অসহ্যমাত্রায় যেয়ে পৌঁছলো। সে আশ-পাশের বাসা বাড়ি থেকে খাবার পানিটা সংগ্রহ করতো আর অতিরিক্ত এই কাজের জন্য বক বক করে কাল ঝালাপালা করে তুলছিল। এই অবস্থায় উপায় না পেয়ে পৌরসভার মেয়র নাছিরউদ্দিন আহমেদকে ফোন করতে বাধ্য হলাম। তিনি ফোন রিসিভ করে আমার সমস্যার কথা শুনে আশ্বস্ত করলেন যে, দ্রুত বিষয়টি দেখবেন। ওনাকে জানিয়েছিলাম গতবছর গ্রিস্ম কালের কোন একদিন সন্ধ্যার পর। পরের দিন সকালে ঘুম ভাঙ্গার আগেই পৌরসভার পানি সরবরাহ ও বিপনন বিভাগের তিনজন ষ্টাফ এসে হাজির। ডাকাডাকি করে ঘুম ভাঙ্গালেন। দরজা খুলতেই তারা জানালেন, মেয়র সাহেব তাদের পাঠিয়েছেন পানির সমস্যা কেন হচ্ছে -তা সরজমিন দেখে ব্যবস্থা নিতে। আমি ওনাদের ঘরে এনে পানির টেপটি দেখালাম। ওনারা যাচাই বাছাই করে জানালেন, গরমের দিন। বিদ্যুতের সমস্যা রয়েছে। এ কারণে পানির প্রেসার কম। আমার কলটি কিছুটা উঁচুতে থাকায় পানি উঠছে না। আমি যেন পানির পাইপটি কেটে উচ্চতার দিক থেকে একটু ছোট করে নিই। তারপর ওনারা চলে গেলেন। আমি পানির পাইপ ছোট করবো করবো বলে ভাবছিলাম। দেখলাম সন্ধ্যায় পানি এসেছে। টেপ দিয়ে হাউজে পানিও পড়ছে। আমার আর পাইপ কাটতে হল না। এরপর মোটামুটি আর কোন সমস্যা নেই। অবশ্য প্রায় এক বছর পর চলতি মাস থেকে এই সমস্যা আবার শুরু হয়েছে। যাই হোক, আমি ঘটনাটি এ জন্য উল্লেখ করলাম যে, আমরা আমাদের জনপ্রতিনিধিদের কাছে কী সেবা চাই এবং তারা আমাদের প্রত্যাশার বীপরীতে কী ভুমিকা রাখছেন। আমি চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র নাছিরউদ্দিন আহমেদের আন্তরিকতায় মুগ্ধ এবং এ কারণেই আমার এই লেখার সূচনা।
চাঁদপুর পৌরসভার জন্ম ১৮৯৬ সালের ১ অক্টোবর। যে সময়ে চাঁদপুর পৌরসভার জন্ম তখন এদেশ শাসন করছিল ইংরেজরা এবং চাঁদপুর ছিল কুমিল্লা জেলার অন্তর্গত একটি মহকুমা। এর আগে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত এটি ছিল ত্রিপুরা জেলার অন্তর্গত। চাঁদপুর পৌরসভা হবার আগে ১৮৭৮ সালে এটি কুমিল্লা জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়। ওই বছরই চাঁদপুর থানাকে মহকুমায় উন্নীত করা হয়। ১৯৮৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুরকে জেলায় উন্নীত করা হয়। বর্তমানে চাঁদপুর পৌরসভার বয়স ১শ’ ১৯ বছর। ইতিমধ্যে চাঁদপুর থানা থেকে মহকুমা এবং মহকুমা থেকে এই সময়ের ভেতর ১১ জন চেয়ারম্যান এবং একজন মেয়র পৌরসভা পরিচালনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯২০ সালের ৪ জুন চাঁদপুর পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং স্বর্গীয় রমনী মোহন দত্ত প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মেয়র হিসেবে নাছির উদ্দিন প্রথম এবং চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি চাঁদপুর পৌরসভার শেষ চেয়ারম্যান। তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ২০০৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর। ২০০৬ সালের ১৬ ফেব্র“য়ারি তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন। ২০০৮ এর ১৪ মে’ পর্যন্ত তিনি ওই পদে থেকে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর পৌরসভার চেয়ারম্যান পদগুলোকে মেয়র পদে উন্নীত করা হলে তিনি ১৫ মে থেকে চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ঢাকা থেকে ১৭২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চাঁদপুর পৌরসভার মোট আয়তন ২২ বর্গ কিলোমিটার। ওয়ার্ড সংখ্যা ১৫। মোট জনসংখ্যা ১ লাখ ৬৩ হাজার ২শ’ ৩৫ জন। পৌরসভায় রয়েছে ২১ হাজার হোল্ডিং নম্বর। শিক্ষার হার ৬২ দশমিক ৯১ ভাগ। এটি বর্তমানে একটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা। এর ভেতর ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ১ হাজার ১শ’২২ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫১ হাজার ৩শ’৩৯ জন এবং মহিলা ভোটার ৫০ হাজার ৭শ’ ৮৩ জন। আগামী ২৯ মার্চ এই পৌরসভার দ্বাদশতম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য ৪৯ টি ভোটকেন্দ্রে ৩শ’ ৪৫ টি বুথ স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে। এই নির্বাচনে রিটানিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ আতাউর রহমান।
চাঁদপুর একটি ছোট জেলা। এই জেলার অধীনে ৮ টি উপজেলা, ৭ টি পৌরসভা রয়েছে। এর ভেতর চাঁদপুর পৌরসভা প্রথম শ্রেণীর বিশেষায়িত পৌরসভা। অর্থাৎ এটি যে কোন সময় সিটি কর্পোরেশনে উপনীত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে কুমিল্লাকে বিভাগ করার সরকারি সিদ্ধান্তের পর এই সম্ভাবনা আরো জোরালো হয়ে উঠেছে। যতদূর জানা গেছে, চাঁদপুর পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেমনে উন্নীত করার একটি প্রস্তাবনা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিবেচনাধীন রয়েছে। এমন সম্ভাবনাময় একটি পৌরসভার জন্য প্রয়োজন যোগ্য নেতৃত্ব। আমরা যারা সাধারণ মানুষ তাদের উচিত এমন এক নেতৃত্ব নির্বাচন করা, যিনি ১০০ ভাগ না হলেও অন্তত ৮০ ভাগ সৎ, শিক্ষিত, মার্জিত, রুচিশীল, সামাজিক এবং নির্বাচিত হবার পর দল নিরপেক্ষ। বর্তমান অবস্থা এবং প্রার্থী বিবেচনায় নাছির ভুঁইয়ার পাল্লা এদিক খেকে ভারী বলে মনে হয়। একজন দেশপ্রেমিক, মোটামুটি সৎ, দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষ,কর্মঠ,উদ্যমী, সদালাপি, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, শিক্ষিত, সংস্কৃতিমনা, ধর্মনিরপেক্ষ, শিক্ষা ও ক্রীড়ানুরাগি মানুষ হিসেবে নাছিরউদ্দিন আহমেদের প্রশংসা রয়েছে শহরের সুধী সমাজে। তাইতো শহরের উচ্চ শিক্ষিত ও বিভিন্ন পেশায় সফল ব্যক্তিরা মিলে এবারই প্রথম শুধুমাত্র নাছির আহমেদকে সমর্থন জানানোর জন্য নাগরিক কমিটি গঠন করে অবিরাম তাঁর পক্ষে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নাছিরউদ্দিন আহমেদ গত নয় বছর পৌর প্রশাসন পরিচালনার নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি প্রশাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে কতকগুলো নীতি অনুসরণ করেন। সততা, জবাবদিহিতা, নিরপেক্ষতা, দেশপ্রেম, সময়ানুবর্তিতা তার মূল মন্ত্র। তাইতো আসন্ন পৌর নির্বাচনে যাতে তিনি বিজয়ী হয়ে আবারো পৌরসভা প্রশাসনের নেতৃত্ব দিতে পারেন সেজন্য পৌরসভার প্রায় সব কর্মকর্তা-কর্মচারীই তার পক্ষ হয়ে স্বেচ্ছায় জনসাধারণের কাছে ভোট চাইছেন। নাছির ভ’ঁইয়ার সততার একটি উদহারণের কথা জানালেন চাঁদপুরের বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক জি এম ফজলুল হকের বিশেষ সরকারি আবু তাহের মতিন প্রধানিয়া। শহরের প্রায় সব মানুষই জানে জি এম ফজলুল হক চাঁদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র চক্ষু হাসপাতাল এবং সাবেক চিত্রলেখা সিনেমা হল এলাকায় বহুতল বিশিষ্ট দু’টি ভবন তৈরি করাচ্ছেন। চক্ষু হাসপাতালের পাশের ভবনটির ৮ তলার কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। আর চিত্রলেখা এলাকার ভবনটির কাজ চলছে। তো এই ভবনগুলোর নির্মাণ কাজ শুরু করার আগে চাঁদপুর পৌরসভার কাছ থেকে সেগুলোর ডিজাইন অনুমোদন করিয়ে আনার প্রয়োজন ছিল। নাছিরউদ্দিন ভ’ঁইয়া নিজে আ’লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে চাঁদপুর শহর আ’লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আর জি এম ফজলুল হক বিএনপি’র একজন ডাকসাইটে নেতা। ওই দল থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপি আমলে সংসদের প্যানেল স্পিকার ছিলেন। এখনো বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্য থাকার পরও নাছিরউদ্দিন আহমেদ জি এম ফজলুল হকের দু’টি বিশাল ভবন নির্মাণের ডিজাইনের ফাইলটি অহেতুক পৌরসভায় আটকে তো রাখেনই’নি উপরন্তু কোন ষ্টাফ যেন ওই ফাইল আটকে কোন অনৈতিক সুবিধা নতে না পারে তার কঠোর নির্দেশ দেন। অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে ভবন দু’টির ডিজাইন পাশ করিয়ে দেন তিনি। উদহারণ দিতে গেলে তার সততা এবং নিপেক্ষতার এমন হাজারো নিদর্শণের কথা বলা যাবে। আমার মনে হয় চাঁদপুর শহরের সচেতন ও শিক্ষিত মানুষের কাছে এসব বলার অর্থ হচ্ছে,‘ মায়ের কাছে মাসির গল্প বলার মত।’
আসন্ন চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনের বিষয়ে জনসাধারণের অভিমত জানতে আমি দিন দু’য়েক আগে শহরের একেবারেই খেঁটে খাওয়া মানুষের সাথে কথা বলেছিলাম। শহরের রেলওয়ে কোর্ট ষ্টেশন প্লাটফর্মে এক বৃদ্ধ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের আংটি বিক্রি করেন। তিনি সবার কাছে ‘হানিফের বাপ’ নামে পরিচিত। তো তাকে আমি জিজ্ঞেস করলাম, ওনি মেয়র পদে কাকে ভোট দেবেন ? কোন বাধ-বিচার না করে দ্বিধাহীনভাবে তিনি উত্তর দিলেন, মোবাইল মার্কার নাছিরউদ্দিন আহমেদকে। কেন – এই প্রশ্ন করতেই তিনি বললেন, ওনার মত মানুষ নাকি হয় না। উনি ওই লোকের অনেক উপকার করেছেন। একই প্রশ্ন করেছিলাম পত্রিকা বিপননকারী জামাল, সেলিমকেও। তাদের একই কথা, আমরা মোবাইল মার্কাকেই ভোট দেব। জরিপ করে দেখা গেছে, চাঁদপুর শহরের ১ থেকে ৬ এবং ৮ থেকে ১২ অর্থাৎ এই ১১ টি ওয়ার্ডের সব ক’টিতেই নাছিরইদ্দিন আহমেদের পক্ষে একটা গণজোয়ার চলছে। ৭, ১৩, ১৪ এবং ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। তবে দিন যত যাচ্ছে এবং ভোটের দিন যতই এগিয়ে আসছে উল্লেখিত চারটি ওয়ার্ডের মানুষেরও মনোভাবের পরিবর্তন ঘটছে। তারাও ঝুঁকছেন মেয়র প্রার্থী নাছিরউদ্দিন আহমেদের মোবাইল মার্কার দিকেই। আসলে গত নয় বছরে নাছিরউদ্দিন ভ’ঁইয়া যেভাবে পৌরসভার উন্নয়ন কাজ করেছেন এবং চাঁদপুর পৌরসভাকে দুর্নীতিমুক্ত করে ধার-দেনা পরিশোধ করে একটি স্বাবলম্বী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন তার সুফল ভবিষ্যতে আরো পেতে হলেও তার কোন বিকল্প আছে বলে মনে হয় না। নাছিরউদ্দিন আহমেদ প্রতিদিন পৌরসভার অফিস শুরু করতেন ঠিক সকাল ১০ টায় জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিক উত্তোলন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে। ফাইলের জট লাগতে দিতেন না। মানুষ তদ্বির করার আগেই ফাইল ছেড়ে দিতেন। সুপেয় পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া পরিশোধ, নাগরিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, মামলা না করে নিজেদের ভেতর আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার দ্রুত সমাধান করার ক্ষেত্রে তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বি একজন ব্যক্তি। ব্যক্তিগত জীবনে তার কোন অপবাদও নেই। তিনি ঘুষ নেনও না, দেনও না, তিনি পার্সেন্টিজ নিয়ে কাজ ভাগ করেন না, তিনি মদ্যপ নন. নেশাখোর নন, ধূমপায়ী নন, জুয়াড়ি নন। তার স্ত্রী কারো সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে কোন মুখরোচক কাহিনী সৃষ্টি করেনি, তার মেয়েরা বাবা-মায়ের অগোচরে কারো সাথে পালিয়ে যায়নি, তার মেয়েদের বিয়ের সময় ছেলে কিনে এনে ট্রাক ভরে ভরে যৌতুক দিতে হয়নি এবং সর্বতোভাবে তিনি দীর্ঘ দিন জনসাধারণের সাথে যোগাযোগ না রেখে আয়েশি জীবন যাপন করে নয় বছর পর এসে ভোট চাইছেন না, তাকে কুকীর্তির জন্য তার দল থেকে কখনো বহিস্কার তো দূরের কথা একটি শোকজ পর্যন্ত করা হয়নি। বরং তার জন্য আ’লীগসহ ১৪ দলের নেতা-কর্মীরা, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা, শহরের সুধীজন, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মহল কোমড় বেঁধে নেমেছে নিজেদের প্রয়োজনের তাগিদে, বিবেকের তাড়নায়। এই অবস্থায় নাছিরউদ্দিন ভ’ঁইয়ার বিজয় ঠেকানোর জন্য এবং নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে একটি মহল অপপ্রচারে নেমেছে। আর সেই অপপ্রচার হচ্ছে, নাছির ভ’ঁইয়ার লোকেরা নাকি সকালের ভেতরই কেন্দ্র দখল করে নেবে। যা কখনোই সম্ভবও নয় এবং কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, নাছির ভ’ঁইয়া বিশ্বের প্রায় ১৫ টি দেশ ভ্রমণ করেছেন চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র হিসেবে। কৃত কর্মের জন্য তাঁকে বিদেশীরা সমীত করে। তিনি চাঁদপুরকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেয়ে তুলে ধরেছেন। এমন একজন যোগ্য ও গুণি ব্যক্তি যদি আমাদের ভুলের কারণে নির্বাচনে হেরে যায় তাহলে বুঝতে হবে শুভ বুদ্ধির পরাজয় ঘটেছে। তাই আগে থেকেই পৌরবাসীকে সাবধান হতে হবে।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ ইসমাইল হোসেন, পুলিশ সুপার মোঃ আমির জাফর, রিটানিং অফিসার মোঃ আতাউর রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ, আনন্দঘন এবং ১০০ ভাগ স্বচ্ছ। লেখাটা শেষ করবো রবীন্দ্রনাথের একটি কবিতার কয়েকটি চরণ দিয়ে ঃ
‘‘ ভেঙ্গেছ দুয়ার এসেছ জ্যোতির্ময়/তোমারি হোক জয়। / তিমিরবিদার উদার অভ্যুদয়,/ তোমারি হোক জয়।/ হে বিজয়ী বীর, নবজীবনের প্রাতে / নবীন আশার খড়গ তোমার হাতে, / জীর্ণ আবেশে কাটো সুকঠোর ঘাতে-/ বন্ধন হোক ক্ষয়।/ তোমারি হউক জয়।’
