মোঃ কামাল হোসেন
হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ আবদুল মান্নান খান বাচ্চু গত ১১ মার্চ বিকাল ৫ টায় এক সংবাদ সম্মেলনে হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নব-গঠিত আহবায়ক কমিটি প্রত্যাখান করে লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ২০ ফেব্র“য়ারী স্থানীয় পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারি হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। আমরা এ খবর দেখে, হতবাক ও বিস্মিত হয়েছি। কারণ কোন কমিটি ভাংগতে বা গড়তে হলে আগে সভা করে এজেন্ডা আনতে হয় এবং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কিন্তু তা না করে জেলা আহবায়ক কর্তৃক হাজীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর আহবায়ক কমিটি গঠন করা আইনসিদ্ধ হয় নাই। এবং যাদেরকে নিয়ে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়, তাদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক করা হয়েছে ইমাম হোসেন সর্দারকে যাকে জেলা বিএনপির আহবায়ক এর পক্ষ থেকে রাজনৈতিক মাঠে না থাকার কারণে তার নেতৃত্বে থাকা পৌর বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে এবং তাকে পৌর বিএনপির সভাপতির পদ থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়। অথচ তাকেই করা হলো বিএনপির যুগ্ম আহবাহক।
তিনি আরো বলেন, ২০০৮ সাল থেকে ৫ জানুয়ারী ২০১৪ পর্যন্ত আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে আমাদের বিরুদ্ধে ৮৭টি মামলা হয়েছে। ২১ মামলা ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের সহযোগিতায় হাইকোর্ট থেকে জামিন নেয়া হয়েছে। বাকী মামলাগুলি নিম্ন আদালত থেকে নির্যাতিত নেতা কর্মীরা জামিনে আছেন।
২০১১ সালের ২৯ জানুয়ারী ছাত্রনেতা এনামুল হক এনাম সরকার বিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মুমূর্ষ অবস্থায় ঢাকায় মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ছিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। এই পর্যন্ত তার চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা, যা ব্যয় করেছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক। অথচ যাদেরকে উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহবায়ক ও যুগ্ম আহবায়ক করা হলো তারা কোনদিন এই নির্যাতিত নেতাকর্মীদের কোন খোজ খবরই রাখেননি।
২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারীর পর থেকে এই পর্যন্ত আমাদের বিরুদ্ধে মোট ৩১টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং আসামী করা হয়েছে অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মীদের, যারা অনেকেই পলাতক রয়েছেন, আবার অনেকেই জেলে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এই মামলার ১নং আসামী হিসেবে পৌর বিএনপির আহবায়ক আব্দুর রহমান মিয়াজি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব কারা নির্যাতিত ও যে সকল কর্মী পালিয়ে বেড়াচ্ছে তাদের খোজ খবর ও জামিনের ব্যাপারে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তুু যারা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও যুগ্ম-আহবায়ক নিযুক্ত হলেন, তারা কেহই কখনও এ সকল নির্যাতিত কর্মীদের খোজ খবর নিতে দেখা যায়নি।
আবদুল মান্নান খান বাচ্চু বলেন, বিএনপিতে যার নূন্যতমও সদস্য পদ ছিল না, যিনি আওয়ামীলীগে বারবার যোগদানের জন্য বিভিন্ন জনের কাছে ধন্যা দিয়েছেন। আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মহিউদ্দিন খান আলমগীকে বাসায় দাওয়াত করে আওয়ামীলীগে যোগদানের চেষ্টা করেন। বিএনপি মনোনিত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী কেন্দ্রীয় ওলামা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা নজরুল ইসলাম তালুকদারকে দল মনোনয়ন দেয়া হয়েছে কিন্তু সেই নীতিভ্রষ্ট আলমগীর কবির পাটওয়ারীকে বিএনপির বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান প্রার্থী করানোর জন্য জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে যে আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে তাদের অনেকেই অর্থের লোভে দলীয় আদর্শ জলাঞ্জ¡লী দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় তদবির করেছে। তদবিরে ব্যর্থ হয়ে তারাই দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে আলমগীর কবির পাটওয়ারীকে উপজেলা চেয়ারম্যানে দাঁড় করিয়ে দেয়। তার পরের সব চিত্র আপনাদের জানা আছে। নির্বাচনে কি ধরণের ভরাডুবি হয়েছে। সে ডীগবাজ, অর্থলোভী, রাজনীতিতে চরিত্রহীন নেতাদের ও তাদের মনোনীত প্রার্থীর। এমনকি জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
রাজনীতিতে চরিত্রহীন দলবাজ, অর্থলোভীদেরকে দিয়ে কোন অবস্থাতেই হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি আহবায়ক কমিটি গঠন হতে পারে না। যার বিএনপিতে সাধারণ সদস্য পদ নাই, সে কি করে এত বড় একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের উপজেলা আহবায়ক মনোনীত হয়। আমার বিশ্বাস এ অগণতান্ত্রিক কমিটির মাধ্যমে আওয়ামীলীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন হবে, বিএনপি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। প্রকারন্তে বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশ নেত্রী বেগম খালেদার জিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার হবে।
অত্যন্ত জোরালোভাবে বলছি, জেলা আহবায়কের পক্ষ থেকে হাজীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির যে অগণতান্ত্রিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কোন অবস্থাতেই তা আমরা মেনে নেবো না। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সম্মানিত সদস্য, ২৬৪ চাঁদপুর-৫, হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি উপজেলার ধানের শীষের প্রতিনিধিত্বকারী লায়ন ইঞ্জিনিয়র মমিনুল হকের সাথে সমন্বয় না করে জেলা আহবায়কের পক্ষ থেকে যে হাইব্রীড আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে আমরা কোন অবস্থাতেই এই কমিটি মানিনা এবং মানবনা।
সরকার বিরোধী আন্দোলনে দেশ যখন রক্তাক্ত, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন অবরুদ্ধ, ভারপ্রাপ্ত মহা-সচিবসহ দলের সিনিয়র নেতারা যখন কারাবন্দি, কারা নির্যাতিত, কেহ কেহ হুলিয়া মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে, যে মুহূর্তে দলের চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠপুত্র আরাফাত রহমান কোকো অকালে ইন্তেকাল করেছেন। আন্দোলন সংগ্রামে নেতা-কর্মীরা যখন পিজঢালা রাজপথে জীবন বাজি রেখে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে লিপ্ত। ঠিক সেই মুহূর্তে উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির কমিটি ভাঙ্গা, গড়ার খেলা দেখে আমরা হতবাক, বিস্মিত, বাকরুদ্ধ। এ অগণতান্ত্রিক পন্থার বিরুদ্ধে নিন্দা জানাবার ভাষা আমাদের জানা নাই।
আপনারা অবগত আছেন যে, গত ১লা মার্চ ২০১৫ বর্তমান আহবায়ক কমিটির বিরুদ্ধে পৌরসভা ওয়ার্ড, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সম্পাদক, ছাত্রদল, যুবদল, শ্রমিক দল, তাঁতীদল ও অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা এ অগণতান্ত্রিক আহবায়ক কমিটির বিরুদ্ধে অনাস্থা জ্ঞাপন করেছে। ঘোষিত কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ মনির হোসেন খান ও সদস্য আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক, আলহ্জা আবদুল মান্নান খান বাচ্চু, মোল্লা মোহম্মদ হোসন মাহমুদ, রাবেয়া আক্তার রুবি, চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, আবু সুফিয়ান রানা, মাওলানা নজরুল ইসলাম তালুকদারসহ কমিটির ৮ জন পদত্যাগ করেছেন। আরো অনেকে অচিরেই পদত্যাগ করবেন। পুলিশ হয়রানির ভয়ে রাজনৈতিক সমাবেশের মাধ্যমে পদত্যাগ ঘোষনা করা সম্ভব হচ্ছে না। ইউনিয়ন পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। অবস্থা অনুকূলে আসলে অচিরেই একটি সমাবেশের মাধ্যমে একযুগে পদত্যাগের ঘোষণা দেয়া হবে।
