ইমতিয়াজ সিদ্দিকী তোহা
দীর্ঘ এক মাস অতিবাহিত হওয়া পরও চলছে লাগাতার অবরোধ। সঙ্গে রয়েছে আবার মাঝে মধ্যে হরতাল। নাশকতার আশঙ্কায় চাঁদপুরের বিভিন্ন এলাকা জুড়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। লোকসানের মুখে পড়েছে ব্যবসা। বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের পাশাপাশি চলতি বছরের এস.এস.সি ও সমমানের পরীক্ষার্থী সহ কারিগরি বোর্ডে পলিটেকনিক পরীক্ষার্থীরাও।
হরতাল-অবরোধে জেলার দোকানপাট খোলা রয়েছে। স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত খোলা থাকলেও উপস্থিতি কম। সি.এন.জি ও মাঝারি ধরনের যানবাহন চলাচল করলেও যাত্রী কম। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা ও ক্ষোভ।
শাহ্রাস্তির আবদুল আজিজ অভিযোগ করে বলেন, ‘সাধারণ মানুষের কষ্ট বোঝে না রাজনৈতিক দলগুলো। তারা গদিতে থাকা এবং না থাকার লড়াইয়ে মেতে উঠেছে। পেট্রোলবোমার ভয়ে বাসে ওঠা যাচ্ছে না। বাজারে পণ্যের দাম চড়া। কোথায় যাবে মানুষ?’
সরেজমিনে জেলা-উপজেলা ঘুরে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিকদের দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে। কাজ না থাকায় শ্রমিকরা অলস সময় কাটাচ্ছেন।
শুক্রবার হাজীগঞ্জের মডেল কলেজ রাস্তার মাথা এবং সিঅ্যান্ডবি সড়কে ব্যাপক ইজিবাইক ও রিকশা চলতে দেখা গেছে। চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে সামান্য কয়েকটি যাত্রী বাহি বাস চলাচল করছে। তবে বাসগুলোতে তেমন কোনো যাত্রী দেখা যায়নি। সড়কের দুই পাশে দোকানপাট খোলা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বসে আছেন। ক্রেতা খুবই কম। কচুয়ার ব্যবসায়ী হানিফ গাজী বলেন, ‘ব্যবসা হইবে ক্যামনে, এক মাস ধইরা মাল আনতে পারি নাই। ট্রাকে আগুন দেওয়ার ভয়ে ঢাকার মালিকেরা মাল পাঠাইতে সাহস পায় না। আমাগো দায়িত্বে আনতে কয়। আমরাও সাহস পাই না। তাই বেচাকেনা নাই।’
বাবুর হাট এলাকার এক ব্যাবসায়ী বলেন, যানবাহন, দোকানপাট খোলা থাকলেও ভয়ে মেয়েকে স্কুলে পাঠাননি তিনি। গত বৃহস্পতিবার দুপুর বেলায় চাঁদপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে পুরো টার্মিনাল ফাঁকা দেখা যায়। যদিও চাঁদপুর থেকে ঢাকা সহ দূরপাল্লার বিভিন্ন বাস প্রস্তুতি নিচ্ছেন পরিবহন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তেমন সংখ্যক যাত্রী না থাকায় বাস ছাড়তে বিলম্ব করছেন চালক ও কর্তৃপক্ষ। কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন পরিবহনের অধিকাংশ কাউন্টার ছিল বন্ধ । যেগুলো খোলা ছিল, সেগুলোর সামনেও যাত্রী নেই। বৈশাখী পরিবহনের হেলপার বাদল জানান, দুপুর একটায় একটি গাড়ি রামগঞ্জ যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু কোনো যাত্রী নেই। সূত্রে জানা যায়, রাতে পুলিশি পাহারায় বিভিন্ন গাড়ি চলে। গাড়ি না চললে শ্রমিকের মজুরি নেই। পরিবহন না চলায় সবচেয়ে বেশি সমস্যার মধ্যে পড়ছেন শ্রমিকরা।
বোগদাদ পরিবহনের এক সুপারভাইজার বলেন, ‘গাড়ি পুড়লে সেটা কেনা যায়, কিন্তু মানুষ মারা গেলে তাকে ফিরিয়ে দেবে কে? সে কারণে গাড়ি চালানো যাচ্ছে না এবং চালানোর সাহসও করছিনা। কাজ বন্ধ থাকায় ঋণ করে চলতে হচ্ছে।’ চালকের সহকারী কালু বলেন, গাড়ি চলার ওপর নির্ভর করে তাদের সংসার। গাড়ি বন্ধ থাকায় সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। তবে ভিন্ন চিত্র জেলার লঞ্চ ঘাটে। বিপুল সংখ্যক যাত্রী প্রতিদিন রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়ত করছেন।
কাঁচামালের পাইকারি বাজার ঠাকুর বাজারে গিয়ে জানা যায়, অবরোধ-হরতালে ট্রাক ভাড়া দুই থেকে তিনগুণ বেশি দিতে হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।
হাজীগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর ৪র্থ পর্বের পরীক্ষার্থী তানজিজুল আজিজ রায়হান বলেন, হরতাল অবরোধের মাঝে জীবনের মায়া ত্যাগ করে শাহরাস্তি থেকে চাঁদপুর গিয়ে পরীক্ষা দিতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। এক দিকে গাড়ির সমস্যা অন্য দিকে ভাড়াও খুব বেশি। এ অবস্থায় পরীক্ষা নিয়ে খুব চিন্তিত আছি।
