হাজীগঞ্জে কৃমিনাশকে দু’শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী অসুস্থ
আমার কণ্ঠ রিপোর্ট
হাজীগঞ্জ উপজেলায় সুহিলপুর উচ্চবিদ্যালয়সহ চারটি শিা প্রতিষ্ঠানে কৃমিনাশক ওষুধ খেয়ে দু’শতাধিক শিার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ উপলে সোমবার (৩ এপ্রিল) ১১টায় সরকারিভাবে শিার্থীদের কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। কৃমির ওষুধ খেয়ে ক্রমান্বয়ে শিার্থীরা অসুস্থ হতে থাকে।
অসুস্থ শিার্থীরা হলো উপজেলার সুহিলপুর উচ্চ বিদ্যালয়, রামকানাই বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, রান্ধুনীমুড়া উচ্চবিদ্যালয় ও সিদলার একটি মাদ্রাসা। এর মধ্যে সুহিলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ শতাধিক শিার্থীর মাঝে প্রায় দেড় শতাধিক শিার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপ অসুস্থ শিার্থীদের হাসপাতালে পাঠায়।
সুহিলপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘শিার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ অজ্ঞান হয়ে যায়। কারো মাথা ব্যথা, কারো বুক ব্যথাসহ বিভিন্নরকম সমস্যা দেখা দেয়। সবাই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। আমরা সব শিক ও অভিভাবক সদস্যবৃন্দ মিলে শিার্থীদের হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করছি।’
বিদ্যালয়টির অভিভাবক সদস্য ওমর ফারুক বলেন, ‘খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে শিার্থীদের সেবার কাজে ছিলাম। আমি নিজেই প্রায় ৫০-৬০ জন শিার্থীর সেবায় নিয়োজিত ছিলাম।’
হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেওয়া শিার্থীরা হলো- সুহিলপুরের রিমা, আঁখি, মরিয়ম, সানজিদা, আছমা, সাবিনা, শান্তা, লিপি, তানজিনা, সুমাইয়া, সুমনা নাজমিন, সাবিনা, বৃষ্টি, খাদিজা, মারজান, ফারজানা, তামান্না, রাবেয়া, রোকসানা, সানজিদা, নাছরিন, আনিকা, জান্নাত, মাছুম, রমজান, নাছির ও সাকিবসহ আরো অনেকেই। তারা সবাই ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির শিার্থী। এছাড়া হাজীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে শিার্থীরা চিকিৎসা সেবা নিয়েছে বলে জানা গেছে।
সুহিলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ইসরাফিল জানান, ‘বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানো শুরু হয়। পরে ক্রমেই কয়েক বন্ধু অসুস্থ হয়ে পড়ে।’
এদিকে অসুস্থ হওয়া শিার্থীদের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে সুহিলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ভাঙচুর চালায় এলাকাবাসী। পরে হাজীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাবেদুল ইসলাম ও সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলী নুর মোহাম্মদ বশির আহম্মদ জানান, জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ২০ জন চিকিৎসক, ১০ জন প্যারামেডিকেল চিকিৎসক, নার্সসহ প্রায় অর্ধশত কর্মকর্তা শিার্থীদের মাঝে চিকিৎসা সেবা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেককে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে সবাই সেরে উঠবে। দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। কৃমিনাশক ট্যাবলেট ভরা পেটে খেলে কোন অসুবিধা নেই। ট্যাবলেটটি সকলকে সচেতনতার সঙ্গে সেবন করাতে হবে। প্রয়োজনে স্বাস্থ্য সহকারী ও ডাক্তারগণের পরামর্শ নিতে পারেন।’
উল্লেখ্য, ১ এপ্রিল থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এটি ৫ বছর থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোর-কিশোরীদের কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো কর্মসূচি। হাজীগঞ্জ উপজেলার ৩৯৫টি শিা প্রতিষ্ঠানে সর্বমোট ৯৪ হাজার ৯শ’ ৭০ জনকে এই ট্যাবলেট খাওয়ানো হবে। রবিবার (২ এপ্রিল) মতলব উত্তর উপজেলার ইন্দুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে কৃমিনাশক ওষুধ খেয়ে প্রায় ২৫ জন শিার্থী মতলব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা নিয়েছে।
