জয়ন্ত সেন
বেশ ক’মাস যাবৎ লেখালেখি করতে পারিনি। যার ফলে জনারোণ্যে থেকেও অনেকটা নিভৃতচারির মতোই ছিলাম বেশ কিছুদিন। এর মধ্যে দিয়েই সমসাময়িক রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক বিষয়কে কেন্দ্র করে কতো কিছুই না ঘটে গেছে সোনার বাংলায়। ইচ্ছে থাকলেও নানান প্রতিকূলতার কারণে লেখালেখি সম্ভব হয়নি। হঠাৎ করে কেনো যে আবার ভূত চেপে বসেছে ঘাড়ে, তা বুঝতে পারছি না। আর সবচেয়ে বড় কথা, লেখালেখি করতে এখন একটু ভয়ও হয়। কারণ, সম্প্রতি লেখকদের যেভাবে নৃশংসতার বলি হতে হচ্ছে, তা চিন্তারই বিষয়। তবে নির্মমতার ভয়ে মুক্তমনা মানুষের স্বাধীনতা কিছুতেই খর্ব হতে দেয়া যায় না। বীর যেমন যুদ্ধের ময়দানে পলায়ন করা না-তেমনি কলম যাদের শাণিত তাদের লেখনী বন্ধ থাকতে পারে না। কখনো কখনো প্রতিবাদী ভাষা গর্জে উঠে লেখনীর মধ্যদিয়ে। সেই সব সম্মানিত লেখদের মতো আমার লিখতে ইচ্ছে করে। কিন্তু পারি কই! কারণ জ্ঞান যে সীমিত। তবুও চেষ্টা করতে দোষ কোথাও। সুপ্রিয় পাঠক, বুঝতেই পারছেন লেখার শিরোনাম দেখেÑনাঙ্গলবন্দে পুণ্যস্নানে অনাক্সিক্ষত কয়েকটি মৃত্যু আমার বেদনা বাড়িয়ে দিয়েছে। শাস্ত্রমতে হিন্দু সম্প্রদায়ের পুণ্যর্জনের একটি প্রাচীন প্রথা হচ্ছে তীর্থক্ষেত্রে স্নান। ওইসব তীর্থক্ষেত্রগুলো ব্রহ্মজ্ঞ ঋষি তথা দেব-দেবীর ঐতিহাসিক নিদর্শন স্বরূপ। ভারত এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় এসব তীর্থের স্নানোৎসব পালিত হয়। তার মধ্যে নাঙ্গলবন্দের পুণ্য স্নানোৎসব অন্যতম। কারণ, পিতৃ আদেশ পালন করতে গিয়ে মাতৃ হত্যার দায়ে পরশুরামের হাতের কুঠার হাতেই লেগে রয়েছে। প্রভুত তীর্থক্ষেত্রে পরিভ্রমণ করেও যখন পাপের প্রায়শ্চিত্ত হচ্ছে না, তখন ব্রহ্মর্ষিরা পরশুরামকে ব্রহ্মপুত্র নদে এসে স্নান করতে বলেন। মহাদেবের অবতার খ্যাত ‘পরশুরাম’ তাই করলেন। ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান করার পর পরশুরামের হাতের কুঠার খসে পড়ে। অবশেষে তাঁর পাপ মোচন হলো। পুরাণে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। ফলে পুরাকাল থেকেই সকল তীর্থের অন্যতম হয়ে উঠে নাঙ্গলবন্দের স্নানোৎসব।