’মুঠো ভাত জোগাড় করতে প্রতিবন্ধীর চেষ্টা। প্রতিবন্ধী কোটায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঝাড়–দার, মালি, এমএলএসএস পদে আবেদন করেও মিলছে না চাকুরি নামের সোনার হরিণ। অনাহারে অর্ধাহারে কাটছে চাঁদপুরের অসহায় পঙ্গু মিজানুর রহমান মিন্টুর পরিবারের দিনকাল। ফলে স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে সে।
শারিরীক প্রতিবন্ধী মিন্টু(২৯) চাঁদপুর সদর উপজেলার উত্তর তরপুরচন্ডী গ্রামের মৃত নান্নু নন্দুকসীর ছেলে। জন্মের পূর্বেই বাবা হারায় মিন্টু। পাঁচ বছর বয়সে যখন বন্ধুদের নিয়ে দূরন্তপনায় ছুঁটে চলার কথা, ঠিক তখনি টাইপয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয় সে। ধীরে ধীরে মিন্টুর বাম পা বিকলাঙ্গ হয়ে যায়। হারিয়ে ফেলে তার চলার শক্তি। কিন্তু থেমে থাকেনি তার পড়া-লেখা। মা হাজেরা খাতুন ও তার প্রচেষ্টায় কোনক্রমে স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর গন্ডি পেরোয় সে। কিন্তু আর্থিক দৈণ্যতায় আর এগুতো পারেনি পড়া-লেখা। ফলে থেমে যায় তার স্কুল জীবন।
কিন্তু থেমে থাকেনি তার সংসার জীবন। বিয়ে করে হাসান নামে এক পুত্র সন্তানের বাবা হয়ে জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে পহুত্বের কারণে হিমশিম খাচ্ছে সে। এরই মাঝে গত ৫ বছর ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে একটি চাকুরি।
মিন্টু জানায়, গত ৫ বছরে গণপ্রাজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অন্তত ৩০ বার আবেদন করেও জোটেনি ছোট্ট একটা চাকুরী। ইন্টারভিউ হয় কিন্তু চাকুরী হয় না। অথচ এ আবেদন গুলো করতে গিয়ে অনেক টাকা খরচ আর শ্রম দিতে হয়েছে। উপায়ান্তর না পেয়ে মিন্টু চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের সামনে তার মামা গাজী আবদুস ছালাম টেলুর চায়ের দোকানে কাজ করে কোন রকমে চালাচ্ছে সংসার।
তবুও সে হাল ছাড়েনি। সে জানায়, গত ১৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টে মালি পদে ইন্টারভিউ ছিল। সেখানেও দিয়েছি, দেখি জীবন কোথায় গিয়ে থামে।