আমার কণ্ঠ রিপোর্ট
লাশের উপর ডাকাতি করে সর্বস্ব কেড়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার দিবাগত রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কের গৌরীপুর বাইবাস সড়কের ইটখোলা নামকস্থানে এই ঘটনা ঘটে। ডাকাতির কবলে পড়া লাশ চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৩ নং কালোচোঁ ইউনিয়নের পিরোজপুর তাল বাড়ীর মৃত ছালামত মিয়াজীর ছেলে মিজানুর রহমান (৪০)।
আজ বৃহস্পতিবার মিজানুর রহমানকে ঢাকা সাভারের সিআরপিতে ভর্তি করার কথা ছিল। তার আগেই বুধবার সন্ধ্যায় ৬ টা ৪০ মিনিটে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে স্ত্রীসহ ৬ বছরের সিহাব, ৩ বছরের সিয়াম ও ২০ দিনের নরীন নামে তিন সন্তান রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর মৃত মিজানুর রহমান বাড়ী থেকে হাজীগঞ্জ বাজারের কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্য সিএনজি যোগে যাত্রা শুরু করে। পথিমধ্যে সিএনজিটির সামনের চাকা পৃষ্ট হয়ে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে মিজানুর রহমানের পায়ের রগ ছিঁড়ে যায় এবং শরীরের একাংশ প্যারালাইসিস হয়ে পড়ে। তারপর হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে কুমিল্লা মেডিকেল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
লাশের সঙ্গে থাকা ভগ্নিপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসার পর অর্থ সংকটে পড়ি। তারপর ঢাকাস্থ বন্ধু ও শুভ্যনুধ্যায়ীরা চাঁদা তুলে ৩০ হাজার ৫’শত টাকা দেয়। ভাগ্য বিপরীতকুলে থাকায় মিজান ভাইকে আর সিআরপিতে ভর্তি করানো গেলো না। রাতে মাইক্রোযোগে লাশ নিয়ে আসার পথে ডাকাতের কবলে পড়ি। সড়কের উপর গাছ ফেলে মাইক্রোবাসটি থামিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সব নিয়ে গেছে।
তিনি আরো জানান, ডাকাতদলের পরণে শুধু প্যান্ট পড়া ছিল। প্রায় ১০ জনের একটি দল অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ৬ টি মোবাইল, আমার ৬ হাজার টাকাসহ মিজানের চিকিৎসা খরচ বাবদ সাড়ে ত্রিশ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। নির্দয় ডাকাতরা লাশবাহী গাড়ী বলার পর বিদেশী লাশ কিনা তা যাচাই করেত কপিন গুলে ফেলে।
মৃত মিজানুর রহমানের প্রতিবেশী বন্ধু ইমরুল কায়েস স্বপন বলেন, বন্ধু চিকিৎসার জন্য চাঁদা উঠালাম। চিকিৎসা দিতে পারলাম না। নিষ্ঠুর ডাকাতদল ওই টাকা গুলো কেড়ে নিয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বাদ জোহর মিজানুর রহমানের গ্রামের বাড়িতে জানাযা শেষে পরিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। মিজানুর রহমানের মৃত্যুতে এখন স্ত্রীসহ অবুঝ তিন শিশুর ভবিষৎ নিয়ে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।