ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিপূর্ণভাবে ডকুমেন্ট নির্ভর। দুদক আইন অনুসারে অনুসন্ধান বা তদন্তকাজে কমিশনের বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। যেকোনো ব্যক্তিকে অনুসন্ধান বা তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য সরবরাহ করার জন্য আইনি নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে দুদকের। কেউ এই নির্দেশ পালন না করলে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আইনি প্রক্রিয়ায় কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় প্রকার দণ্ড প্রদানের বিধানও রয়েছে। এরপরও কেন কমিশনের অনুসন্ধান বা তদন্ত নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হচ্ছে না? কেন কিছু কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে পারছেন না? এর দায়দায়িত্ব ওই কর্মকর্তাদের নিতে হবে।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আপনি দুর্নীতিমুক্ত না থাকলে এবং আচরণে উৎকর্ষ না থাকলে কেউ আপনাকে শ্রদ্ধা করে না। এটাও সবাইকে মাথায় রাখতে হবে। সবাই পদোন্নতি পেতে চান, কিন্তু দায়িত্ব নিতে চান না।
দুদকে ব্যাপকভাবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন সমন্বিতভাবে কাজ করার সময়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিত কাজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পায়। নির্ধারিত সময়ে নিজ দায়িত্ব পালন না করার ব্যর্থতার ক্ষেত্রে কেউ কেউ হাজার হাজার অজুহাত দেখান। আবার এই প্রতিষ্ঠানের অনেক মেধাবী ও সৎ কর্মকর্তা রয়েছেন, যারা নির্ধারিত সময়েই সঠিকভাবে তদন্ত সম্পন্ন করেছেন। ব্যর্থদের সম্পর্কে মানুষের ধারণা কী হতে পারে, নিজেরাই মূল্যায়ন করুন।
ইকবাল মাহমুদ বলেন, পদ্ধতিগত কারণেই এ দেশে ঘুষ খাওয়া সবচেয়ে সহজ কাজ। যাদের মান-সম্মানের ভয় নেই, কোনো আত্মমর্যাদা নেই, তাদের পক্ষে ঘুষ খাওয়া সত্যিই সহজ। এই লজ্জাহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হলে দুদক কর্মকর্তাদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, ঘুষখোরদের আইনের আওতায় এনে লজ্জা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা হাজার হাজার কর্মকর্তাকে দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। প্রশিক্ষণের এই শিক্ষাগুলো যাতে নিজ নিজ কর্মে প্রতিফলন ঘটে, সেগুলো মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ গ্রহণে যারা ব্যর্থ হবেন, তাদের আইন অনুযায়ী অন্য সংস্থায় পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি ভাবা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন- সংস্থাটির মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী। এ কর্মসূচিতে দুদকের বিভিন্ন পদমর্যাদার ৩০ জন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।