আজ, বুধবার , ১২ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ২৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দরাত ১২:০৯

সর্বশেষ

  আর একটি ব্রীজ চাই   মব-হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: ইঞ্জি. মমিনুল হক এমপি   কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও হাজীগঞ্জের কৃতি সন্তান সাইফুল মালিক মারা গেছেন   জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার নাছির নামে বেনামে গড়েছে সম্পদের পাহাড় একই জায়গায় এক যুগের উপরে রয়েছেন বহাল তবিয়তে   চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন   চাঁদপুর জেলার স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদকগণের সাথে জেলা প্রশাসনের মতবিনিময়   শাহরাস্তিতে জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন ২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন   হাজীগঞ্জ উপজলোর ৩নং কালচোঁ ইউনয়িন যুবদলরে আহবায়ক কমিটি গঠন.   বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু   হাজীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের কমিটি বিরোধ নিয়ে সড়ক অবরোধ   হাজীগঞ্জ  পুলিশের হাতে ৯জন আসামী গ্রেফতার”   চাঁদপুর ট্রিবিউন মাল্টিমিডিয়ার দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন   জুলাই-আগস্ট থেকে শিক্ষার্থীরা পাবে ইউনিফর্ম, জুতা ও পাটের ব্যাগ

বাবা আর দু’টা দিন থেকে যাও

ak logoবাবা আর দু’টা দিন থেকে যাও
আমার বিয়ে হয় ১৪ মার্চ ২০১৬ তে। বিয়ের পর থেকেই আমার শ্বশুর আমাকে তার ছেলে মতো আদর করতে শুরু করেন। শ্বশুরের বাসায় যতোবার বেড়াতে গিয়েছি ততোবারই শ্বশুর আমার সাথে খোলা মনে বিভিন্ন বিয়ষ নিয়ে গল্প করতেন। তার থেকে রাষ্ট্রের ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয় জানার আগ্রহ ছিল আমার। তিনিও ধীরে ধীরে কথা বলতেন। এ ভাবে যতবারই যেতাম ততবারই কথা হতো। তিনি নানা হচ্ছেন এ কথা শুনার পর থেকে খুশিতে আত্বহার। তার বাসার মধ্যে ছোট বলতে কেউ নেই। তাই তিনি বেশি খুশি। ১০ জানুয়ারী ২০১৭ তিনি নানা হওয়ার খবর শুনে আরো বেশি খুশি। কখন আদর করবেন তার নাতিকে। ১৬ জানুয়ারী ঢাকা হাসপাতাল থেকে বাসায় আনার পর সাথে সাথে কোলে নিয়ে তার নাতিকে আদর করতে শুরু করেন আর বলেন আমার একট্ াবন্ধু হয়েছে। আমি আমার নাতি বন্ধুর নাথে আড্ডা দেবো। এভাবে চলছে প্রতিদিন সকাল বিকাল রাত নানা ভাই কেমন আছো বলে ডাকতো। কিন্তু নাম রাখা হয়নি আমার ছেলের। ৩ ফ্রেব্রƒয়ারী নাম চুডান্ত করলাম আমার ছেলের। নাম রাখা হয় নাবহান ইবনে কামাল। এর পর থেকে তিনি নাবহান নানা ভাই কেমন আছো বলেন ডাকতেন। এ ভাবেই চলছে। ১২ মার্চ আমি ঢাকা যাই। রাত ৯টা বাজে । গিয়ে দেখি তিনি ঘুমে। সকাল বেলায় আমার কথা শুনে তার নাতিকে বলেন নাবহান নানা ভাই তোমার বাবা আসছে। আমি ১৭ মার্চ চলে আসার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। এক এক করে সবা কাছ থেকে বিদায় নিয়ে শ্বশুরের কাছ থেকে বিদায় নিতে গেলে তিনি আমাকে বলেন বাবা আর দু’টা দিন থেকে যাও। কিন্তু আমি তো থাকতে পারি না কারণ আমার পত্রিকার বের করতে হবে। বললাম বাবা আমার পত্রিকা বের করতে হবে। তা না হলে অসুবিধা হবে। তার পরেও বলে কামাল আরো দু’টা দিন থেকে যাও। কিন্তু আমি কথা রাখতে পারিনি। আমি চলে আসলাম। এ থাকই যে শেষ কথা তাতো আমার জানা ছিলনা। তাহলে দুদিন কেন আমি ৫ দিন থাকতাম। আসার পর আমার স্ত্রী রিনা রহমানএর সাথে কথা হলে জিজ্ঞেস করলে বলে আব্বা ভালো আছে। ২২ মার্চ দুপরে আমি খাওয়া দাওয়া শেষ আমার ছোট বেলার বন্ধু হানিয়ের দেকানে বসে আছি। হঠাৎ আমার স্ত্রী আমাকে ফোন করে বলে বাবা নেই বলে মোবাইল কেটে দেয়। আমি ভয় পেয়ে গেছি। কারণ আমার ছেলেকে আমার স্ত্রী বাবা বলে ডাকে। আমি সাথে সাথে ফোন করে বলি নাবহানের কি হয়েছে। সে বলে নাবহান ভালো আছে আমার জন্মদাতা বাবা নেই। মুহুতেই মনটা খারাপ হয়ে গেলো। নানিফকে বললাম বন্ধু আমি আর থাকবো না। আমার শ্বশুর মারা গেছে। আমি ঢাকায় যেতে হবে। হানিফ বলে মাথা ঠান্ডা করে বাসে উঠে চলে যা। আমি সাথে সাথে বাসে করে ঢাকায় চলে যাই এবং গিয়ে দেখি শ্বশুরের লাশ বাসার নিচে এ্যাম্বোল্যন্সের মধ্যে রাখা হয়েছে। পরে দোয়া পড়ে বিদায় জানালাম। এ ছাড়া করার কিছু নেই। তাই বার বার ঐ কথ্টাাই মনে পড়ে “বাবা আর দু’টা দিন থেকে যাও।

শেয়ার করুন



প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।